মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৩ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকরা মাঠে তৎপর



আগামী অক্টোবরের শেষের দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষনার আবাস ইসি পক্ষ থেকে পাওয়া পর নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-৩ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকরা মাঠে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছেন। এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকার সর্বত্র প্রকাশ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও স্বস্ব দলের মনোনয়ন পাওয়ার জোর প্রচেষ্ঠা। আওয়ামী লীগ , বিএনপি ও জাপার পাশাপাশি বসে নেই অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীরা। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে চেষ্ঠা করছেন। অন্যদিকে এ আসনে বিএনপিতেও রয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রার্থীর ভীড়। সব মিলিয়ে এ আসনে এ পর্যন্ত সব দল মিলিয়ে প্রায় ১৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীর নামে সরব প্রচারণা চলছে।

দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিনা প্রতিদ্বদ্বীতায় দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এমপি হন তিনি। তবে এবার এ আসনের সাথে পূর্ণ বালাগঞ্জ উপজেলা (পূর্ববর্তী ৩ ইউনিয়নের সাথে আরো ৩ ইউনিয়ন) সংযুক্ত হওয়ায় ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ আসনে প্রার্থী মনোনয়নে দেশের বড় দু’দলেরই বেশ কঠিন সমীকরণ আছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ হতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবার প্রার্থী হতে আগ্রহী বর্তমান এমপি ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। যদিও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাঁর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। এর ফলে তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনোনয়ন লড়াইয়ে নেমেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহ মুজিবুর রহমান জকন প্রমূখ।

এ আসনে আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে দলীয় প্রার্থীদের গত ইউপি নির্বাচনে ভরাডুব হতে হয়েছে। এমনকি সদ্য সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রকাশ্যে না হলেও আড়ালে দলীয় কোন্দল ছিল বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তাই মেয়র প্রার্থী বদরুদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত হতে হয়েছে। এই সব সুযোগ বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভালভাবেই কাজে লাগিয়ে সফল হয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা। অবশ্য গেল সিটি নির্বাচনে জামাত একক ভাবে নির্বাচন করে।

অন্য বড়দল বিএনপি থেকেও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন একাধিক নেতা। দলের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরী ছাড়াও মাঠে মনোনয়ন পেতে লবিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্চেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ হক, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আলহাজ্ব আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম।

এছাড়া বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সিলেট শাখার সদস্য সচিব উছমান আলী চেয়ারম্যান, জাপার কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজী তোফায়েল আহমদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার লক্ষে মাঠে বেশ তৎপর রয়েছেন।

বসে নেই খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তাদের পক্ষ থেকে মাঠে রয়েছেন খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইন।

এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে প্রচারণায় রয়েছেন মানবাধিকার সংগঠনের নেতা এম এ মতিন বাদশাহ।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!