বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিলেট – ২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুফতি লুৎফুর রহমান খালিদ ক্বাসেমী



হাফেজ মাওলানা মুফতি লুৎফুর রহমান খালিদ ক্বাসেমী

সিলেট – ২ নির্বাচনী এলাকা ( ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ) থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতি লুৎফুর রহমান খালিদ ক্বাসেমী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের যেসব আলেমেদ্বীন ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন, তাদের মধ্যে হাফিজ মাওলানা মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসেমী অন্যতম।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুফতি ক্বাসেমী ইতোমধ্যে নিজের মেধা, যোগ্যতা, কর্মদক্ষতার গুণে বেশ পরিচিতি অর্জন করেছেন বিশ্বময়। তাঁর উদ্যোগে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠা হয়েছে ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অব ইউএসএ (ইনকা)। প্রতিষ্ঠালয় থেকেই মুফতি ক্বাসেমী সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের কর্মী ও শুভাকাঙ্গীদের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সফল ও খ্যাতির সঙ্গে কাজ করছেন।

এছাড়া তাঁহার তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ছয় তলা বিশিষ্ট আস-সাফা ইসলামিক সেন্টার টাওয়ার। ২০০৪ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানের জেনারেল সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসেমী একজন ইমাম, খতিব, ইসলাম প্রচারক, ইন্টারফেইম স্কলার ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। একই সঙ্গে তিনি অনেক গুরু দায়িত্ব পালন করছেন। আর এভাবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি উজ্জ্বল করে চলেছেন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের নাম।

লুৎফুর রহমান ক্বাসেমী ১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার রাজনগর গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব মৌলভী আলতাফুর রহমান ছিলেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। সমাজসেবক হিসেবেও যার সুখ্যাতি ছিল সিলেটময়। মাতা মরহুমা সালেহা বেগম ছিলেন গৃহিনী। সাত ভাই-বোনের মধ্যে মুফতি কাসেমী ষষ্ঠ। মুফতি কাসেমী-সহ তাঁর ভাইদের প্রত্যেকেই আলেমেদ্বীন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৯ সালের ২৭ আগষ্ট বিয়ে করেন মুফত কাসেমী। বর্তমানে তিনি এক সন্তানের জনক। পুত্র আব্দুল্লাহ ইউনুসের বয়স চার বছর। ১৯৮২ থেকে ৮৬ সাল পর্যন্ত সিলেটের জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম বিশ্বনাথ মাদ্রাসায় ইবতেদায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে ইতবেদায়ী পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ইবতেদায়ী পঞ্চম বর্ষে আজাদ দ্বিনি এদারায়ে তালিম বাংলাদেশ বোর্ডে ফাইনাল পরীক্ষায় মুমতাজ ও মেধাতালিকায় শীর্ষে ছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালে মাত্র দেড় বছরে জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম বিশ্বনাথ থেকে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯০ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে দাখিল (এসএসসি) পাস করেন সিলেট বিশ্বনাথস্থ সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে এবং ১৯৯২ সালে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি) পাস করেন। পাশাপাশি ১৯৯২ সালে সিলেটের জামেয়া কাসিমূল উলূম দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহঃ) থেকে সম্পন্ন করেন শরহে জামি ক্লাস। এরপর জামেয়া তওক্কুলিয়া রেঙ্গা থেকে মুখতাসার ও জালালাইন ক্লাস সম্পন্ন করেন। সর্বশেষ ঢাকাস্থ জামেয়া রহমানিয়া থেকে ১৯৯৫ সালে মিশকাত ও ১৯৯৬ সালে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ক্লাস দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় বেফাকূল মাদারিসিল তারাবিয়া বাংলাদেশ বোর্ডে মুফতি কাসেমী স্টার মার্কসহ তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯৯৬ সালে হাদিস শাস্ত্রের বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের যেসব মাদ্রাসায় যে যে ক্লাসেই মুফতি ক্বাসেমী পড়াশোনা করেছেন, প্রায় সব ক্লাসেই তিনি অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

১৯৯৮ সালে সিলেটের জামেয়া মুহাম্মদিয়া আরাবিয়া বিশ্বনাথে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা ঘটে। ওই বছরই যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি। নিউইয়র্কের আস-সাফা ইসলামিক সেন্টারে পবিত্র রমজান মাসে ইমামতির দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রবাসজীবনের কর্মজগতে পা রাখেন মুফতি ক্বাসেমী। এরপর শিক্ষকতা করেছেন নিউইয়র্কের আল-আমিন ইসলামিক সেন্টারে। এক বছর ইমামতি করেছেন আমেরিকার স্টেটেন আইল্যান্ড জামে মসজিদে। কিছুদিন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিউয়র্কের আস-সাফা ইসলামিক সেন্টারে। এছাড়া তিনি নিউইয়র্কে মাদানি একাডেমির প্রধান মুফতি, ইফতা বোর্ড ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র মুফতি, মজলিসুল উলামা ইউএসএ’র সিনিয়র উপদেষ্টা ও নিউইয়র্ক স্টেটের চাপ্লেন হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির একজন রেজিস্টার্ড কাজি হিসেবেও মুফতি ক্বাসেমীর রয়েছে বেশ সুনাম ও পরিচিতি।

ইসলাম প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে আইটিভি ইউএসএ, দ্বীনটিভি ইউএসএ, টাইমটিভি ইউএসএ, টিবিএন ২৪ সহ বিভিন্ন চ্যানেলে আলোচক হিসেবে মুফতি ক্বাসেমীর সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এছাড়া গাইড ইউএস টিভি, ফক্স নিউজ ও পিবিএস নিউজের মতো কিছু চ্যানেলে গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মুফতি ক্বাসেমী। প্রবাসজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি তিনি করেছেন তা হালো ইউনাইটেড উলামা কাউন্সিল অব ইউএসএ ইনক প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে দ্বীনি ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে আলেম-উলামাদের ঐক্যবদ্ধ করার নেপথ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসেমী।

বিদেশে শত ব্যস্ত সময় পার করার পরও ভুলে যাননি নিজ জন্মভূমিকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষত সিলেটে সামাজিক ও দ্বীনি বিভিন্ন কার্যক্রমে মুফতি ক্বাসেমীর অবদানমূলক অংশগ্রহন প্রশংসাতুল্য। বাংলাদেশ সোসাইটি জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন, বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যান সমিতি ইউএসএ ইনক, ইকনা, ইসনা, কেয়ার ও মজলিসে শুরা-সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মুফতি লুৎফুর রহমান ক্বাসেমী।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবে পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় ইতোমধ্যে দলীয় ফোরাম এবং বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া পেয়েছেন বলে জানান হাফেজ মাওলানা মুফতি লুৎফুর রহমান খালিদ ক্বাসেমী। দলীয় হাইকমান্ডের চুড়ান্ত নির্দেশনা পেলে জোরেসুরে প্রচারণায় নামতে চান তিনি। হাফেজ মাওলানা মুফতি লুৎফুর রহমান খালিদ ক্বাসেমী সকলের সহযোগীতা ও দোয়া চান।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!