শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

প্রার্থী-ভোটার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ

লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাচনী টুকিটাকি-৫



আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের সাথে যে সমস্ত ভোটার সরাসরি কাজ করে যাচ্ছেন তারা কোন সমস্যায় নন। তবে অনেক ভোটার আছেন যাদের সম্পর্ক উভয় টিমের প্রার্থীদের সাথে তারা বড়ই বিপদে আছেন। ভোট দেয়াতো পরের ব্যাপার, প্রার্থীদের মধ্যে যাদের সাথেই তাদের দেখা সাক্ষাৎ হচ্ছে তখনই ছবি তুলা হচ্ছে আর তা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে বিব্রতবোধ করছেন এ সমস্ত ভোটারগণ। সাথে সাথে অনেক প্রার্থীও হতাশা প্রকাশ করছেন ভোটারদের বিশ্বস্থতা নিয়ে। মনে করছেন ‘এইতো বোধ হয় ভোট চলে গেল’।

ভোট হচ্ছে একটি গোপন বিষয়। ভোটারগণ যাকে খুশি তাকেই গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তা প্রদান করবেন। তবে এ নিয়ে কারো প্রতি কেউ বিরাগভাজন হওয়া উচিৎ নয়। একজনের সাথে একজনের ছবি উঠে গেলেই যে, তিনি তাকে ভোট দিয়ে দিবেন তা কিন্তু নয়। ছবি হলো বাহিরের ব্যাপার আর ভোট হলো অন্তরের ব্যাপার। তাই কারো প্রতি কারো আশা ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না। বরং তার চাইতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

প্রার্থীদের পক্ষে অনেকে অনেক কিছু পোস্ট করে থাকেন। একজনের পক্ষে একবার এ সমস্ত পোস্ট কেউ করলে তা ভোটারগণ সহজভাবে মেনে নেন। কিন্তু একই ব্যক্তি যদি বার বার কারো পক্ষে পোস্ট করে থাকেন তখন ভোটারগণ তার আসল উদ্বেশ্য ঠিকই বুঝতে পারেন। তখন তার এ সমস্ত পোস্ট আর তেমন গুরুত্ব বহন করে না। তা ছাড়া যদি একই পক্ষের প্রার্থী তার নিজ পক্ষের কারো পক্ষে পোস্ট করে থাকেন তবে তা ভোটারগন কিভাবে দেখবেন তা সহজেই অনুমেয়।

প্রার্থীগণের যোগাযোগে বিশেষ করে টেলিফোনের কারণেও অনেক ভোটার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। এ পর্যায়ে ভোটারগণ হয়তো ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলেন না কিন্তু অন্তরে অন্তরে তারা খুবই বিরক্তি অনুভব করেন। আর এই অতিরিক্ত টেলিফোন বা যোগাযোগের কারণে অনেক নিশ্চিত ভোটও হারানোর সম্ভাবনা থাকে প্রার্থীদের। প্রার্থীগণ যখন বিভিন্ন শহরে যান তখন সেখানে নির্বাচনী পরিচিত বা প্রচারণা সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এতে উপস্থিত হন ভোটারগণ। তারা শুনেন বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মসূচীর কথা। এ সময় নানাভাবে ছবি তুলে তা প্রচার করা হয়ে থাকে। এটা উভয়দিক থেকেই অর্থাৎ দুই এলায়েন্সের পক্ষ থেকেই করা হয়ে থাকে। কিন্তু তা দেখে কোন প্রার্থী বা তাদের পক্ষের লোকজনের বিরাগভাজন হওয়া ঠিক নয়। কোন ভোটারের ব্যক্তিগত পছন্দ থাকতেই পারে। এক পক্ষের সাথে ছবি তুলে প্রচার হয়ে গেলেই যে, সেই পক্ষের সবাইকে উক্ত ভোটার ভোট দিয়ে দিবেন তা কিন্তু সঠিক নয়। তাই প্রার্থীরা সতর্কতার সাথে ভোটারদের প্রতি আচরণ রাখবেন। অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করে শেষ পর্যন্ত নিজের ভোটটিও হারাবেন না।

যে কোন নির্বাচনে প্রার্থীদের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন সাধারণত তিন প্রকারের হয়ে থাকে। কিছু ভোটার থাকেন প্রার্থীর একান্ত নিজস্ব বলয়ের, কিছু থাকেন মধ্যভাগে যাদের ভোট ভাগাভাগি হয়ে থাকে। আর সর্বশেষ পক্ষ থাকেন অপর প্রার্থীর সমর্থক। তাই যারা মধ্যপক্ষ আছেন তাদের নিয়েই প্রার্থীদের যতবেশী তৎপরতা হবে ততই বিজয় নিশ্চিত হবে। তাই সে সমস্ত দিক লক্ষ্য করেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে।

পরিশেষে: নির্বাচনে ট্রেজারার পদপ্রার্থী আব্দুল কাদির মুরাদ চৌধুরীর মাতার আকষ্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!