রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

যুক্তরাজ্যে সম্পদ হস্তান্তরে বাংলাদেশি ধনকুবেরদের তৎপরতা, তদন্তে দুদক ও এনসিএ



ঢাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে থাকা বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ধনকুবের যুক্তরাজ্যে তাঁদের সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর ও পুনঃঅর্থায়নে তৎপর হয়ে উঠেছেন। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর এক যৌথ অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঢাকায় তদন্তের মুখে থাকা এসব প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি খাতে অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন। গত এক বছরে অন্তত ২০টি সম্পত্তি লেনদেনের আবেদন জমা পড়েছে যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন কার্যালয়ে।

জানা গেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের মালিকানাধীন সম্পত্তিগুলো এর অন্তর্ভুক্ত।

গত মে মাসে লন্ডনে সালমান এফ রহমান পরিবারের ৯ কোটি পাউন্ড এবং এর আগে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ১৭ কোটি পাউন্ডের সম্পদ জব্দ করে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA)। বসুন্ধরা গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চারতলা টাউনহাউসসহ বেশ কিছু সম্পত্তির মালিকানা সম্প্রতি স্থানান্তর হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৮০ লাখ পাউন্ড মূল্যের বাড়িও।

দুদক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহ্বান জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য যেন আরও সম্পত্তি জব্দ করে এবং তদন্তে সহায়তা করে। লন্ডনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দলও যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এবং ব্রিটিশ এমপি জো পাওয়েল সতর্ক করে দিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পাচার করা সম্পদ আর ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। এছাড়া কিছু ব্রিটিশ আইন ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যারা এই লেনদেনে সহযোগিতা করেছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই সম্পদ হস্তান্তর ও জব্দ অভিযানকে কেউ কেউ দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করছেন, আবার অনেকে বলছেন এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!