রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি রাশিয়ার ফার ইস্ট অঞ্চলের একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ইউক্রেনে কোনো ধরনের সেনা পাঠানোর চিন্তাও করা যাবে না—তা শান্তিরক্ষী বাহিনী হলেও নয়।
পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, “যদি সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়, বিশেষত যুদ্ধ চলাকালে, তবে তাঁদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হবে।” তাঁর এ বক্তব্যের পর ভ্লাদিভস্তকে অর্থনৈতিক ফোরামে উপস্থিত কর্মকর্তারা ও ব্যবসায়ীরা করতালিতে ফেটে পড়েন।
এই সতর্কবার্তা আসে এমন সময়ে, যখন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমা মিত্রদেশগুলো যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পুতিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করলেও শর্ত জুড়ে দেন—সাক্ষাৎ কেবল রাশিয়াতেই হতে হবে। তিনি বলেন, “সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান মস্কো, হিরো সিটি।” এ সময়ও দর্শকদের হাততালি শোনা যায়।
কেন এত অনড় ক্রেমলিন
পুতিনের এই অবস্থানের পেছনে কয়েকটি কারণ আছে—
-
যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা: ক্রেমলিন মনে করে, ইউক্রেনে রুশ সেনারা বর্তমানে শক্ত অবস্থানে আছে।
-
কূটনৈতিক সাফল্য: চীন সফরে পুতিনের বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ, এবং চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়ার সমর্থন রাশিয়ার শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরেছে।
-
যুক্তরাষ্ট্রের নরম ভঙ্গি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি না এলে নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেও তা কার্যকর করেননি। বরং তিনি পুতিনকে আলাস্কায় বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান। এতে রাশিয়ার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।
পুতিন প্রকাশ্যে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও তাঁর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে স্পষ্ট, রাশিয়া কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
শান্তির সম্ভাবনা কতটুকু?
ইউক্রেন ও ইউরোপ এখন যুদ্ধ শেষের পাশাপাশি কিয়েভের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধ সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে, পুতিন শান্তি চান কেবল রাশিয়ার শর্ত মেনে।
তিনি বলেছেন, “আমরা শান্তি চাই, তবে শুধু আমাদের শর্তে। মানবেন না? তাহলে শান্তি নেই।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ও ইউরোপ যেখানে স্থায়ী শান্তি চায়, সেখানে পুতিন চান নিজের শর্তে বিজয় নিশ্চিত করতে। ফলে দুই পক্ষের লক্ষ্য ভিন্ন, আর তাই যুদ্ধ থামার সম্ভাবনাও এখনো ক্ষীণ।







