রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ আন্দোলনে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র



ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নীতির বিরুদ্ধে শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘নো কিংস’ শিরোনামে আয়োজিত এই দেশব্যাপী আন্দোলনে লাখো মানুষ অংশ নেয়। আয়োজকদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের দুই হাজার ছয় শতাধিক স্থানে বিক্ষোভ–সমাবেশ হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই কর্মসূচির মূল বার্তা ছিল—‘আমেরিকায় কোনো রাজা নয়’। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন ধীরে ধীরে কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে—, “Nothing is more patriotic than protesting” (বিক্ষোভের চেয়ে বড় দেশপ্রেম আর নেই) এবং “Resist Fascism” (ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন)।

অনেক শহরের রাস্তায় বিক্ষোভগুলো উৎসবের আমেজে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ছোট-বড় শহর মিলিয়ে শতাধিক সংগঠন এ আন্দোলনের আয়োজন করে। এটি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলতি বছর তৃতীয় বৃহৎ গণবিক্ষোভ।

এ সময় দেশজুড়ে ফেডারেল সরকারের শাটডাউন (অচলাবস্থা) চলছিল—যা শনিবারে গড়ায় ১৮তম দিনে। তহবিল ঘাটতির কারণে বহু সরকারি কর্মসূচি ও সেবা স্থগিত রয়েছে।

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার, বোস্টনের কমন পার্ক এবং শিকাগোর গ্রান্ট পার্কসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পবিরোধী স্লোগান দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও আন্দোলনের প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে—লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে এবং স্পেনের মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক সংগঠন ইনডিভিসিবল–এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন বলেন, “একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের জন্য দেশপ্রেমী মানুষের গণশক্তির চেয়ে বড় হুমকি আর কিছু নেই।”

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এদিন ওয়াশিংটনে ছিলেন না। তিনি ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। এর আগের দিন ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “তাঁরা আমাকে রাজা বলছেন। আমি রাজা নই।”

এ বছরের শুরুতে ট্রাম্পের সাবেক মিত্র ইলন মাস্কের কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে প্রথম গণবিক্ষোভ হয়। পরে জুনে ট্রাম্পের আয়োজিত সামরিক প্যারেডের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। তবে আয়োজকদের দাবি, শনিবারের ‘নো কিংস’ আন্দোলন ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

গত ১৪ জুন ট্রাম্পের ৭৯তম জন্মদিন ও মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিতে এক বিশাল সামরিক প্যারেডের আয়োজন করা হয়, যেখানে সেনা, ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান ও আতশবাজির প্রদর্শনী হয়। ১৯৯১ সালের পর এটি ছিল প্রথম বড় সামরিক প্যারেড। তবে সরকারি ব্যয় সংকোচনের সময় এ আয়োজনকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় অপচয় বলে সমালোচনা করেন।

শনিবারের বিক্ষোভে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি জানান। টাইমস স্কয়ারে জনতার স্লোগান ছিল— “ট্রাম্পকে এখনই ক্ষমতা ছাড়তে হবে।”

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!