
ছবি: সংগৃহীত
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল জানাবেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন। এর আগে বিকেল চারটার দিকে সিইসির ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার রেকর্ড করে।
গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ১৩ জুন লন্ডনে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের ১৬ মাস পর এবার জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পথেই এগোচ্ছে ইসি।
সূত্র মতে, লন্ডনের বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়। এরপর থেকেই সরকার জানায়, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে। ইসিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়। ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন– জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে হবে। আজ সিইসি তাঁর ভাষণে দুই ভোটের দিনক্ষণ জানাবেন।
তফসিল ঘোষণার আগে রেওয়াজ অনুযায়ী গতকাল দুপুরে সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনাররা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে নির্বাচন ভবনে ফিরে ইসি সচিব জানান— ভোটার তালিকা, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী ভোটারদের ভোটদান এবং ভোট গণনার পদ্ধতি বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ইসির প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০১৮ ও ২০১৪ সালের মতো ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনও ছিল ব্যাপক বিতর্কিত—বিরোধী দলগুলোর বর্জনে সেটি ছিল একতরফা। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর এ এম এম নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। তাদের অধীন প্রথম নির্বাচন হবে এবার।
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনাকে ইসি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। এ কারণে এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষও বাড়ানো হবে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণও বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার জানিয়েছে— তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবে। এবার প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে থাকবে— যা দেশে নির্বাচনী নিরাপত্তার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাটে পুনর্বহাল চারটি আসন
৪ সেপ্টেম্বর ইসি ৩০০ আসনের নতুন সীমানা গেজেট প্রকাশ করে— যেখানে বাগেরহাটের একটি আসন কমিয়ে তিনটি করা হয় এবং গাজীপুরে একটি বাড়িয়ে ছয়টি করা হয়। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট হয় হাইকোর্টে। গত ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট আগের মতো বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়।
ইসি ও অন্যান্য পক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও গতকাল আপিল বিভাগ আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে আদেশ দেন।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল— ২০২২ সালের আদমশুমারি ভিত্তিক ২০২৩ সালের ১ জুলাইয়ের গেজেট অনুসারে আগের মতো বাগেরহাট-১ (৯৫), বাগেরহাট-২ (৯৬), বাগেরহাট-৩ (৯৭) ও বাগেরহাট-৪ (৯৮) পুনর্বহাল করতে হবে।
তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আপিল বিভাগের আদেশের কপি হাতে না আসায় ইসি ৪ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত সীমানা অনুযায়ীই আজ তফসিল ঘোষণা করবে। কপি পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে গেজেটে সংশোধন আনা হবে বলে জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।



