বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

তেলের বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন: যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগেই শত কোটি ডলারের বাজি



ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু হবে কিনা— তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থবাজারেও। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য বাড়লেও ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন দেখা গেছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে কিছু ট্রেডার তেলের দাম কমবে— এমন পূর্বাভাসে প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন ডলারের বড় অঙ্কের লেনদেন করেন।

চলতি মাসে এটি তৃতীয় এবং মোট চতুর্থবারের মতো এমন সময়োপযোগী বড় বিনিয়োগের ঘটনা ঘটল, যা ইরান সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার ঠিক আগে করা হয়েছে। মার্চ মাসে এমন একক বাজির পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার। আর এপ্রিলজুড়ে এ ধরনের বিনিয়োগের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গ্রিনিচ মান সময় ১৯:৫৪ থেকে ১৯:৫৬-এর মধ্যে তেলবাজারে ৪,২৬০ লট বিক্রির অর্ডার দেওয়া হয়, যার মূল্য প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন ডলার। এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের তৎকালীন দামের ভিত্তিতে। এরপর ২০:১০ জিএমটি সময় ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন।

ব্রেন্ট বাজার সাধারণত ১৮:৩০ জিএমটি সময় নিষ্পত্তি হলেও এসব লেনদেন “পোস্ট-সেটেলমেন্ট” সময়ে সম্পন্ন হয়েছে— যখন সাধারণত বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কম থাকে।

এই বড় লেনদেনের তাৎক্ষণিক প্রভাব খুব বেশি না পড়লেও দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০.৯১ ডলার থেকে ১০০.৬৬ ডলারে নেমে আসে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড দ্রুত কমে মিনিটের মধ্যে ৯৬.৮৩ ডলারে পৌঁছে যায়। বুধবার দুপুর ১২টা (জিএমটি) পর্যন্ত দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৯.২ ডলার।

এর আগে ২৩ মার্চ ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা বিলম্বের ঘোষণা দেওয়ার ১৫ মিনিট আগে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের অনুরূপ লেনদেন হয়। ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ৯৫০ মিলিয়ন ডলারের বড় অঙ্কের লেনদেন দেখা যায়। এছাড়া ১৭ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে— এমন ঘোষণার প্রায় ২০ মিনিট আগে ৭৬০ মিলিয়ন ডলারের বাজি ধরা হয় তেলের দাম কমার পক্ষে।

এ ধরনের ধারাবাহিক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের ঠিক আগে হওয়া এসব তেল ফিউচার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!