শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইরানি নেতাদের হত্যার শঙ্কা, উদ্বেগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র



ছবি :সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা চলাকালেই দেশটির শীর্ষ দুই নেতাকে হত্যার পরিকল্পনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার প্রায় ৪০ দিন পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে দেশে ফেরার পথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি নেতাদের ওপর কোনো হামলা হলে শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়তে পারত এবং দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয়ে সতর্ক করার উদ্যোগ নিয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে সফরকালে গালিবাফের প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান তাদের বহরের জন্য যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কারণ, সফর চলাকালে ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা ছিল।

ইরানি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পথে গালিবাফকে বহনকারী বিমানের ক্রুরা গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারেন যে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি চলছে। এমন তথ্য পাওয়ার পর বিমানটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে জরুরি ভিত্তিতে মাশহাদে অবতরণ করে। পরে গালিবাফসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় আট ঘণ্টা সড়কপথে তেহরানে পৌঁছান।

গালিবাফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি, যিনি ওই সফরে প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ইরানের আইনপ্রণেতা মোহসেন জাঙ্গানেহ স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, গালিবাফ, আরাঘচি এবং আলোচক দলের অন্য সদস্যরা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, এটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং দেশের স্বার্থে নেওয়া বড় ধরনের আত্মত্যাগ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ইসরায়েল সম্ভাব্য সমঝোতাকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি। তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, তেহরানের আঞ্চলিক মিত্রদের দুর্বল করা এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি দূতাবাসের একজন মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আগ্রহী ছিলেন এবং সে কারণেই আলোচনা অব্যাহত রাখা হয়।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!