
ছবি :সংগৃহীত
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর এলাকা এলিনিকোতে গড়ে উঠছে বিশাল এক নগর উদ্যান। প্রায় ২০০ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণাধীন ‘এলিনিকন পার্ক’কে ইউরোপের অন্যতম বড় উপকূলীয় নগর পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পার্কের প্রায় ৭০ শতাংশজুড়ে থাকবে সবুজায়ন। সেখানে ৩০ হাজারের বেশি গাছের পাশাপাশি প্রায় ৩০ লাখ ঝোপঝাড় লাগানো হবে।
দক্ষিণ এথেন্সের এ প্রকল্পটি ২০২৭ সালের শুরুতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পার্কের বিভিন্ন অবকাঠামো ও সুবিধা ধাপে ধাপে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। শুধু বিনোদনের জন্য নয়, নগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাতেও পার্কটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।
পানি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব
এলিনিকন পার্কে আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭ হাজার ঘনমিটার পরিশোধিত পানি উৎপাদন করতে সক্ষম একটি বর্জ্যপানি শোধনাগার এবং ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
গাছপালার প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহে ব্যবহার করা হবে স্মার্ট সেচব্যবস্থা। এর ফলে প্রচলিত ব্যবস্থার তুলনায় পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।
বৃষ্টির পানিও পার্কের ভেতরেই ধরে রাখার ব্যবস্থা থাকবে। সবুজ ও নীল অবকাঠামোর মাধ্যমে বৃষ্টির পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ট্রাকোনেস জলধারার মতো প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। এতে পার্কের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করবে।
কমবে নগরের অতিরিক্ত তাপ
পার্কের নকশায় নগরের তাপমাত্রা কমানোর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাপমাত্রা, বাতাসের প্রবাহ ও ছায়ার পরিমাণ বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হচ্ছে ‘কুল রুট’ বা শীতল পথ। এসব এলাকায় আশপাশের কংক্রিট ও অ্যাসফল্টে ঢাকা স্থানের তুলনায় তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম থাকতে পারে।
বিশ্রামের জায়গাগুলোর ৬০ শতাংশের বেশি অংশ ছায়াযুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। গাছপালার বাষ্পীভবন, পানির প্রবাহ, কুয়াশা তৈরির ব্যবস্থা এবং কম পানি ব্যবহারকারী জলাধার পার্কের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
থাকবে ৫২০ প্রজাতির উদ্ভিদ
পার্কে ৫২০টির বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর প্রায় ৭৫ শতাংশ হবে গ্রিসের স্থানীয় প্রজাতি অথবা স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্ভিদ।
পার্কের পরিবেশ ও সবুজ এলাকার অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর বসানো হবে। মাটি, বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যের বিকিরণ ও ছায়ার মাত্রার তথ্য সংগ্রহ করে সেই অনুযায়ী সেচ ও সবুজ এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।
পুরোনো বিমানবন্দরের উপকরণ পুনর্ব্যবহার
নির্মাণকাজেও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পার্কে গ্রিসের স্থানীয় কাবালা মার্বেল, সাদা ডিওনিসোস-পেনটেলি মার্বেল, কারিস্টোস স্লেট ও মান্দ্রাস বেলেপাথর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো বিমানবন্দরের কংক্রিটসহ বিভিন্ন নির্মাণ উপকরণ পুনর্ব্যবহার করা হবে।
প্রায় ২০ লাখ বর্গমিটার বা ২০০ হেক্টর আয়তনের এ পার্কটি লন্ডনের হাইড পার্কের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বড় এবং আয়তনে বার্লিনের টিয়ারগার্টেনের কাছাকাছি হবে। তবে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের চেয়ে এটি ছোট; সেন্ট্রাল পার্কের আয়তন প্রায় ৩৪১ হেক্টর।
এলিনিকন পার্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতীরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে। ফলে পুরোনো বিমানবন্দর এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটি শুধু একটি বড় বিনোদনকেন্দ্র নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল আধুনিক নগর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে গড়ে উঠছে।




