বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, প্রতি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের কাঠামোর প্রস্তাব



ছবি :সংগৃহীত

দীর্ঘ বিরতির পর দেশে আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠন করা হবে। প্রতিটি গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর এবং সদস্যসংখ্যা হবে ১৭ জন।

সবকিছু ঠিক থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যকে গ্রাম সরকারপ্রধান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যকে উপদেষ্টা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, যুব প্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তৈরি খসড়াটি বর্তমানে মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, গ্রাম সরকার ইউনিয়ন পরিষদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৬৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে নয়টি করে ওয়ার্ড থাকায় মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ৪১ হাজার ১১২। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠন করা হলে সারা দেশে প্রায় ৭ লাখ সদস্যকে এই কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে।

খসড়ায় প্রতিটি গ্রাম সরকারের জন্য একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সাধারণ সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সদস্যরা সরাসরি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন না। বরং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তাঁদের বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে গ্রাম সরকারে কারা অন্তর্ভুক্ত হবেন, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত আইন ও নির্ধারিত নির্বাচন বা বাছাইপ্রক্রিয়ার ওপর।

বিএনপির একাধিক নেতার মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা এবং খাল খনন কর্মসূচি গ্রামীণ উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন করে ব্যবস্থাটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য, গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা এবং হামলা-মামলার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্র হিসেবেও গ্রাম সরকার কাজ করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য প্রবীণ ব্যক্তি, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণের কল্যাণে প্রতিশ্রুত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির মতো গ্রাম সরকার পুনঃপ্রবর্তনও সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে পারে। এই ব্যবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন—এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এখন অল্পসংখ্যক মানুষ জীবিত আছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন গ্রাম সরকারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ বা পরিচিতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম পর্যায়ে দলের নতুন নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতে আগ্রহী, সৎ এবং ভালো চিন্তাভাবনার অধিকারী মানুষদেরও এই ব্যবস্থায় যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি গ্রাম সরকার থাকবে। এর প্রধান হবেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং উপদেষ্টা হবেন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।

১৫ জন সাধারণ সদস্যের মধ্যে থাকবেন—

  • দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক;
  • প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুজন সদস্য—একজন পুরুষ ও একজন নারী;
  • দুজন কৃষক প্রতিনিধি;
  • একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার;
  • একজন সমবায় সমিতির সদস্য;
  • একজন পল্লী চিকিৎসক;
  • একজন শিক্ষক;
  • একজন ব্যবসায়ী;
  • একজন পেশাজীবী;
  • একজন শ্রমিক প্রতিনিধি;
  • একজন যুব প্রতিনিধি;
  • ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, যদি সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়ানো যাবে।

সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের অংশগ্রহণে হ্যাঁ-না ভোটের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সদস্য বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মতামত নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, গ্রাম সরকার পাঁচ বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে। প্রথমবার সরকার গঠনের তারিখ সরকারি গেজেটের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। কোনো গ্রাম সরকার বাতিল হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে।

গঠনের পর সদস্যদের ৩০ দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ উপস্থিত থাকলে সভার কোরাম পূর্ণ হবে।

কোনো সদস্য গ্রাম সরকারপ্রধানের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। পত্র জমা দেওয়ার দিন থেকেই পদত্যাগ কার্যকর হবে। পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে খসড়ার নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী সদস্যপদে অযোগ্য হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গ্রাম সরকারকে স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডের কেন্দ্রীয় স্থানে বা হাটবাজারসংলগ্ন এলাকায় এর কার্যালয় স্থাপন করা হবে।

গ্রামীণ সড়ক, কালভার্টসহ অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করবে গ্রাম সরকার। স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নেও ভূমিকা রাখবে এই প্রতিষ্ঠান।

নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর দায়িত্বও প্রস্তাবিত কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় সহযোগিতা করার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে গ্রাম সরকার।

এ ছাড়া কৃষি উপকরণের সংকটের তথ্য ইউনিয়ন পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে।

নতুন সময়ের চাহিদা বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বিতরণে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিজিএফ ও ভিজিডি কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালে গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা, স্থানীয় সমস্যা সমাধান এবং স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। তখনকার কাঠামোর সঙ্গে নতুন প্রস্তাবের মিল থাকলেও সদস্যসংখ্যা ও গঠনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত খসড়ার তুলনামূলক বিবরণ অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানের আমলে একজন প্রধান ও ১৩ জন সাধারণ সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের ব্যবস্থা ছিল। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নারী সদস্য রাখার বাধ্যবাধকতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৩ সালের আইনে প্রধান ও উপদেষ্টার বাইরে ১৩ জন সাধারণ সদস্য রাখার বিধান ছিল। নতুন প্রস্তাবে সাধারণ সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে। ফলে প্রধান ও উপদেষ্টাসহ মোট সদস্য দাঁড়াবে ১৭ জন।

১৯৮০ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

বিএনপির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চিন্তা থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৮ হাজার গ্রামে গ্রাম সরকার চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে তাঁর মৃত্যুর পর ব্যবস্থাটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।

১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে গ্রাম সরকার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০০১ সালে বিএনপি আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩’ প্রণয়ন করা হয়।

ওই আইনে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৩ জন সদস্য নিয়ে গ্রাম সরকার গঠনের বিধান ছিল। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল।

আইনটি প্রণয়নের পর এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করা হয়। ২০০৫ সালের ২ আগস্ট হাইকোর্ট আইনটিকে অসাংবিধানিক ও অকার্যকর ঘোষণা করেন। পরে ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রাম সরকার রহিতকরণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘গ্রাম সরকার (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে আইনটি বাতিল করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ নেয় বিএনপি সরকার। দলটির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে আসে। গত ৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনরায় চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে। খসড়াটি জনমত গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইন চূড়ান্ত হলে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে গ্রাম সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সদস্য নির্বাচন, কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারিত হবে আইন প্রণয়নের পর।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!