বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি, কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছেন না : সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি



ফাইল ছবি

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা  জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ঈদের পরদিন রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে – তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি আবার করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, “পরিবারের সদস্যরা গতকাল দেশনেত্রীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের কাছ থেকে যেটুকু আমরা জেনেছি, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না।

“উনার শারীরিক অবস্থার আগের চাইতে অবনতি ঘটেছে। এখন উনি সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারছেন না। ব্যক্তিগত কর্ম করার জন্য উনার সাহায্য প্রয়োজন হচ্ছে।”

ঈদের দিন দুপুরে খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনসহ ২০ জনের একটি দল বাসায় রান্না করা খাবার নিয়ে কারাগারে যান।

তারা জানান, নিজের কক্ষ থেকে খালেদা জিয়া দুই পাশে দুজনকে ধরে সাক্ষাতের জন্য নির্ধারিত কক্ষে আসেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “যে চোখের অপারেশন হয়েছে সেই চোখ লাল হচ্ছে আরো, ব্যথা বেড়েছে। ঘাড়ের ব্যথা বাম দিয়ে এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে হাতের আঙ্গুলগুলো সার্বক্ষণিক ব্যথা করছে। এর কারণে হাত দিয়ে স্বাভাবিক কার্য্ক্রম করতে পারছেন না।

“কোমড়ের ব্যথা বাম পায়ের তলা পর্যন্ত এখন ছড়িয়ে পড়েছে- এটা খুবই মারাত্মক।”

ফখরুল অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো চিকিৎসা দেয়নি।

“তার সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। শুধু জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা (সরকার) বলছে, পিজিতে পাঠাবো অথবা সিএমএইচে পাঠাবো …।”

খালেদা জিয়ার বিভিন্ন রোগের কথা তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন এই অসুখগুলোর চিকিৎসা অবিলম্বে দরকার, তাকে অবিলম্বে হাসপাতালে নেওয়া দরকার।

ইউনাইটেড হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও চিকিৎসায় তাদের আস্থা না থাকার কথা জানিয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা কি সব ডাক্তারের কাছে যাই নাকি, যে ডাক্তারের কাছে আমাদের আস্থা থাকে তার কাছে যাই।

“আমাদের আস্থা হচ্ছে যে, ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলে রোগীর বেটার ট্রিটমেন্ট, বেটার চিকিৎসার ব্যবস্থাগুলো হবে, চিকিৎসার সুবিধা বলে আমরা মনে করি।”

এক-এগারোর সময়ে কারাবন্দি হলেও স্কয়ার হাসপাতালে শেখ হাসিনার এবং আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল (প্রয়াত) ও মোহাম্মদ নাসিমের ল্যাব এইডে চিকিৎসা পাওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

“জেল কোডের কোথাও বলা নাই, আমি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবো না; বলেই দেওয়া হয়েছে আমরা চিকিৎসার খরচ বহন করবো। সেই কারণে ওই হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।”

সরকার তার ক্ষতি করতে চায় এবং তার জীবন বিপন্ন করতে চায় বলেই খালেদা জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!