মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের হাওড়ে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ



বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার সর্বত্র আমন ফসলের মাঠে ধান পাকতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বাতাসে পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ বিরাজ করছে। ‘ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি’ এমন নয়ন জুড়ানো সোনালী আভায় ভরে উঠছে অগ্রহায়ণের ফসলের মাঠ। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও ধান কাটতে দেখা গেছে।

চলতি বছর আমনের ভাল ফলনের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও আগের দিনের মত নবান্ন উৎসব, ‘ভোলাভুলি’ রকমারী আয়োজন নেই, তারপরও অগ্রহায়ণ ঐতিহ্য আর খুশির বার্তা নিয়ে এসেছে। আবহমান বাংলার শাশ্বত অগ্রহায়ণ মাসকে ঘিরে কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে এখনও অনেক উচ্ছ্বাস বিরাজমান। শীত, শিশির আর সোনার ফসলের মৌ মৌ ঘ্রাণ হেমন্তের চারদিক মাতিয়ে তুলছে।

উপজেলা কৃষি অফিস ও সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার প্রতিটি গৃহস্থ ঘরে চলছে অগ্রহায়ণের ধান কাটার প্রস্তুতি। চলতি বছর এ দু’টি উপজেলায় ১৬হাজার ২শ ৩০হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জমির মধ্যে রয়েছে উফশী ১৩হাজার, ১শ, ৮০হেক্টর। বালাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ৫হাজার ৩শ ৩৭হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উফশী রয়েছে ৪হাজার ১শ ৩৭হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ১হাজার ২শ হেক্টর।

এছাড়া ওসমানীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ১০হাজার ৮শ ৯৩হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জমির মধ্যে উফশী রয়েছে ৯হাজার ৪৩হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১হাজার ৮শ ৫০হেক্টর।

এ বিষয়ে আলাপকালে বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আহাদ, মইনুল ইসলাম, জয়নাল মিয়া, ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের কৃষক ফয়ছল আহমদ, মাহমুদ আলী, ফিরোজ মিয়া প্রমুখ জানান – এ বছর ফলন ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান পাকতে শুরু করেছে। আগামী দু’এক সপ্তাহ নাগাদ পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়ে যাবে।

বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার দায়িত্বে থাকা বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কায়ছার ইকবাল বলেন – ধান পাকতে শুরু করেছে, তবে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হতে আরও অন্তত দু’সপ্তাহ লাগতে পারে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!