সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

একটি আদর্শিক সংগঠন দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট



দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট একটি সামাজিক সংগঠন ।যার মূল ভিত্তি বা শ্লোগান ঐক্যবদ্ধ ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক উন্নয়ন। এই সংগঠনটি যুক্তরাজ্যের সামাজিক সংগঠন গুলোর জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত । একটি আদর্শ সংগঠনের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে তার সদস্যবৃন্দ। সংগঠনের সদস্যদের ইচ্ছা ও অনুপ্রেরণা একটি সংগঠনকে তার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহযোগীতা করে। তেমনি একটি আদর্শ সংগঠন হিসাবে দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অতি সম্প্রতি সাধারণ মানুষের হৃদয় জয় করেছে।

ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরপুর দয়ামীর ইউনিয়ন সিলেট বিভাগ তথা বাংলাদেশের মধ্যে একটি মর্যাদা পূর্ণ ইউনিয়ন।  এই ইউনিয়ন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্মভূমি। আর এই ওসমানী সাহেব দয়ামীর ইউনিয়নবাসী তথা গোটা সিলেটবাসীর গর্বের ধন। এই ইউনিয়নে আরো অনেক আদর্শবান গুনী মানুষের জন্ম হয়েছে। তাদের সকলের চারিত্রিক গুণাবলী ও আদর্শ নিয়ে লিখতে গেলে কলমের কালি, খাতার পাতা শেষ হবে তবুও তাদেরকে নিয়ে লেখালেখি শেষ হবে বলে আমার মনে হয় না।

ঐতিহ্যবাহী দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের বর্তমান কমিটির সভাপতি জনাব আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দজজামান চৌধুরী জুনা সহ কার্যকরী কমিটির সদস্যগণ ও সাধারণ ট্রাস্টিগণ গৃহ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে অত্যন্ত বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। সমাজের অবহেলিত, নিপীড়িত, সুবিধা বঞ্চিত গরিব মানুষ গুলোর মনের আকাঙ্খার আকুতি বুঝতে পেরেছেন। যার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত নিরীহ গৃহহীন মানুষ গুলোর জন্য ঘর নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

হজরত আলী (রাঃ) বলেছিলেন ,মানুষের দুঃখ দেখে তুমি যদি তার বিপদে এগিয়ে না আস। তবে মনে রেখ তুমি ও একদিন বিপদে পড়বে। তখন কেউ তোমার কান্না শুনবে না। এ সম্পর্কে চীনা দার্শনিক কনফুশিয়াসের একটি মহা মূল্যবান উক্তি হচ্ছে,(He Who wished to Secure the good of others. Has already Securied his own.) অর্থাৎ যে ব্যক্তি অন্যের কল্যাণের ইচ্ছা পোষণ করে, সে প্রকৃত পক্ষে তার নিজের কল্যাণই নিশ্চিত করে”।

সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। ইতিবাচক গুণাবলি তৈরি হয়। মানুষের মধ্যে নেতৃত্ব-গুণ তৈরি হয়। মানুষ দায়িত্বশীল ও সামাজিক হতে শিখে।

একজন সামাজিক সংগঠনের কর্মী ও একজন নন সাংগঠনিক কর্মীর মধ্যে অনেক তফাত খোঁজে পাওয়া যায়। একজন সামাজিক সংগঠনের কর্মী গান আবৃত্তি বক্তব্য কিছু যদি নাও জানেন, তবুও তিনি একজন নন সংগঠনিক ব্যক্তির চেয়ে সর্ব ক্ষেত্রে আলাদা। সামাজিক সংগঠনের সদস্য হলে অনেক কিছু শেখা যায়। নিজেকে বিকশিত করা যায়। এক সঙ্গে কাজ করা বা সহনশীল হওয়া যায়। অন্যের মতামতকে শ্রদ্ধা করা মতো গুণ শেখা যায়। সর্বোপরি একজন গর্বিত দায়িত্বশীল মানুষ হওয়ার গৌরব অর্জন করা যায়।

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ-মানুষে যে অসহিষ্ণুতা, অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় এ গুলো দূর করতে হলে দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মত আদর্শবাদী ট্রাস্ট, সমিতি গ্রাম, পাড়া, মহল্লায় সুস্থ- সংস্কৃতির বিকাশ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজে সুস্থতা আনা সম্ভব। নিজেকে একজন চৌকস, উদার মনের মানুষ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সবকিছুর পাশাপাশি একজন মানুষকে সামাজিক সংগঠনের দায়বদ্ধতায় কাজ করতে হবে। বলতে পারি, “আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাইরে কর্মী হওয়ার মন্ত্র আমি বায়ুর কাছে পাইরে”।

সে জন্য প্রত্যেক সমাজ সচেতন মানুষ গুলোকে দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মতো সেবা মূলক সংগঠন করতে হবে। সামাজিক সংগঠন কল্যাণমূলক কাজের জন্য মানুষকে উৎসাহ যোগায়। পবিত্র কোরআন পাকে এরশাদ আছে,”তোমারা কল্যাণমূলক কাজে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে অগ্রসর হও”।

তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে,শুধু সংগঠন করলেই সংগঠক হওয়া যায় না। একজন ভালো সংগঠক ও সফল মানুষ হতে হলে সৎ উদ্দেশ্য ও আদর্শ থাকতে হয়। মনের শক্তি ও সত্য বলার সাহস থাকতে হবে। ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের বন্ধন যখন দুর্বল হয়ে পড়ে তখন সমাজে নানা ধরনের জটিলতা বা অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ব্যক্তির সাথে সমাজের সম্পর্ক মধুর হওয়ার পেছনে একটি আদর্শ সংগঠনের ভূমিকা অগ্রগণ্য। মানুষ-মানুষে সামাজিক সম্পর্ক যত গভীর থেকে গভীরতর হবে সমাজ তত ভালো ও সুন্দর থাকবে। সঠিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলে সামাজিক সংগঠন গুলো সত্যিকার অর্থে সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। তাই আমরা যারা সংগঠন করি আমাদের উচিৎ হবে, পদবীর লোভকে বিসর্জন দিয়ে সম্মাননা উপাধী বাণিজ্যের উর্ধে উঠে,সত্যিকার উন্নয়নমূলক সেবা ধর্মী সংগঠন করা। তা করতে পারলেই সম্ভব হবে আধুনিক সমাজ গঠন ও তার উন্নয়ন। সংগঠনের মাধ্যমে যে কোন এলাকা বা অঞ্চলকে আদর্শ এলাকা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় । তাহলে সাধারণ মানুষ ব্যক্তি ও সংগঠনকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে অনন্ত কাল।

পরিশেষে বলা যায়, দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট সমাজের অবহেলিত গরিব দুঃখি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে । সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ সামাজিক উন্নয়নমুখী কাজের জন্য সংগঠনের ট্রাস্টি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মানিত করছেন।

এই সংগঠনের সকল সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করি এবং মানবতাবাদী দয়ামীর ইউনিয়ন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুক সেই প্রত্যাশা করি।

লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উছমান পুর ইউনিয়ন জনকল্যাণ ট্রাস্ট ইউকে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!