শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক আজ : বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার



বছরের শুরু থেকেই অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। অথচ দেশে সব পণ্যেরই মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপরও বাড়ছে মাছ, মাংস, ডিম, তেল ও পেঁয়াজের মতো ভোগ্যপণ্যের দাম। এদিকে রোজা সামনে রেখে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ঠুনকো অজুহাতে দফায় দফায় বাড়াচ্ছে জিনিসপত্রের দাম।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকারও। রমজান মাস সামনে রেখে ৬ পণ্য আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই সময় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় এমন ৬টি পণ্য হচ্ছে- ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর। রমজানে যাতে এ ধরনের পণ্যের কোনো সংকট তৈরি না হয় সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি করবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এরই মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে রমজানের প্রস্তুতি, পণ্যের চাহিদা ও জোগান, টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো এবং ব্যবসায়ীদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ঢাকা সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হচ্ছে রমজান। রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে কয়েকটি নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে। আর সেই চাহিদাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনৈতিক মুনাফার লাভের নেশায় মেতে ওঠে। কেউ কেউ পণ্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এতে বাজার অস্থিতিশীল হয়। নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। তাই এবার রমজান শুরুর আগেই বজারের দিকে নজর দিতে চায় সরকার। পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখার পাশাপাশি যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতার সাধ্যের মধ্যে রাখতে চায় সরকার।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবীর বলেন, ব্যবসায়ীরা রমজানের বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ান। তাই রমজান আসার আগেই এ বিষয়টি নিয়ে কঠোর মনিটরিং করে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, ঠিকমতো বাজার মনিটরিং না করলে সুবিধাবাদী একটি সিন্ডিকেট তৈরি হয়। তাই এখন থেকেই গভীরভাবে বাজার পর্যালোচনা করা উচিত সরকারের।

এদিকে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্য সঠিক সময়ে দেশে নিয়ে আসতে হলে এখনই ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, রমজানে ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকে আড়াই থেকে ৩ লাখ টন, চিনি ৩ লাখ টন, ছোলা ৮০-৯০ হাজার টন, খেজুর ১৮ হাজার টন এবং পেঁয়াজ ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টনের। এ ছাড়া ৫০-৬০ হাজার টন মসুর ডালের চাহিদা তৈরি হয়। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে এসব পণ্যের দাম বাড়ার তেমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বরং দাম কমে বাজার এখন স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রোজায় যাতে বাজারে পণ্যমূল্য স্বাভাবিক থাকে সেজন্য আমদানি বাড়ানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, রোজায় জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না। এখন পর্যন্ত রোজায় ব্যবহার হয় এমন সব পণ্যের কোনো সংকট দেশে নেই। এ ছাড়া ওই সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আমদানি বাড়ানোসহ যা করুণীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব করা হবে। এ ছাড়া এবার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা টিসিবির কার্যক্রম আরো বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জানা গেছে, কারসাজি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে ঢাকার মৌলভীবাজার, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এবং নারায়ণগঞ্জ বন্দরে। এ ছাড়া ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারক পর্যায়েও বড় ধরনের কারসাজির কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানান, রোজা সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর তৎপরতা চোখে পড়ে ঠিকই। তবে বরাবরই এফবিসিসিআই এদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে রোজায় এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। এ বছরও প্রয়োজন হলে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সূত্র : ভোরের কাগজ

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!