বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেঞ্চুগঞ্জ পশ্চিম বাজার ঘাট যেন ময়লার ভাগাড়



ফেঞ্চুগঞ্জ বাজারের পশ্চিম বাজার ঘাট যেন ময়লার ভাগাড়। বাজারে প্রবেশ মুখে পশ্চিম বাজার ঘাটের অবস্থা এখন বড়ই করুন। হঠাৎ কেউ দেখলে চিনতে পারবেন না এটা বাজার ঘাট। এখানে এক সময় শত শত নৌকা ভিড়ত, যাত্রী পরিবহন ও মালামাল আমদানি রপ্তানি হতো। এক সময় বেশ জৌলুশ ছিল এই নদী ঘাটের। কালের বিবর্তনে তা অনেক ম্লান হলে ও ঘাটের সৌন্দর্য ছিল অনেক। কিন্তু এই সৌন্দর্য ও এখন আর অবশিষ্ট নেই।

ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির অফিসের সাথেই এই পশ্চিম বাজার ঘাট। তবুও ময়লার স্তূপে সয়লাব এই ঘাট। আর এই স্তূপ বাতাসে অহর্নিশ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। তাছাড়াও প্রত্যহ নদীতে ফেলা হচ্ছে টন টন ময়লা। এতে করে নদীর পানি, মাছ ও জলজ উদ্ভিদের উপর বিরাট প্রভাব ফেলছে।

ময়লার এই ভাগাড় দ্রুত পরিস্কারের ব্যবস্থা ও নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ না হলে নিত্য দূষিত বাতাস গ্রহণের ফলে যে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা, দেখা দিবে নানা রোগব্যাধি। আর পানিতে আবর্জনার স্তূপ ফেলার কারণে পানি নষ্ট হয়ে দেখা দেবে পানি বাহিত রোগ, বিপন্ন হয়ে যাবে জলজ উদ্ভিদ।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রায় বৎসেরর উপরের এই ময়লার স্তূপ জমে এখন নদীর চরে পরিণত হয়েছে, যেখানে অনেকগুলো সৌন্দর্য মন্ডিত সিঁড়ি ছিল। যার সাতটি ছাড়া বাকী সবগুলো ময়লায় ঢেকে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে কথা হয় ফেঞ্চুগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক মো: আব্দুল বারীর সাথে। তিনি বলেন, এখানে বাজারের কোন কোন দোকানদার ফেলেন, তবে মূলত এখানে ময়লা আবাসিক কলোনীর লোকেরা রাতে ফেলে যায়। তিনি আরও বলেন, এর আগে দুইবার আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে ছিলাম তখন পরিস্কার ও হয়েছিল। বছর খানেক থেকে আবার তারা ময়লা ফেলে জমিয়ে রাখায় পানির সাথে মাটি উঠে আটকা পড়ে অর্ধেক সিঁড়ি ঢেকে গেছে।

যোগাযোগ করা হয় ফেঞ্চুগঞ্চ পশ্চিমবাজার আবাসিক এলাকার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন সাহেদের সাথে। তিনি বলেন, আমাদের নির্দিষ্ট ময়লা ফেলার কোন স্থান বা ব্যবস্থা নেই। যদি কেউ ফেলে দেয় তাহলে হতে ও পারে। তবে কাউকে এখানে ময়লা ফেলার জন্য বলা হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএসএম জাহিদুর রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, তিনি মাত্র দুই সপ্তাহ হলো ফেঞ্চুগঞ্জে এসেছেন। সব কিছু তার এখনো জানা হয়নি। তবে কেউ অভিযোগ করলে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!