বুধবার, ১৬ জুন ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আব্দুর রশীদ লুলু

রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার



‘বই পড়ি, জ্ঞান অর্জন করি’ শ্লোগানে উজ্জীবিত রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারের ১১ মে (২০২১) চৌদ্দ বছর পূর্তি হয়েছে। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া (জন্ম: ১৪ ডিসেম্বর ১৯৯৬, মৃত্যু: ১১ মে ১৯৯৭) রাজীব হুমায়ূন নামের এক ছেলেকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি জ্ঞান চর্চা তথা জ্ঞানের আলো ছড়ানোর লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ১১ মে পারিবারিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার। বর্তমানে এ গ্রন্থাগারে বিচিত্র বিষয়ে তিন সহ¯্রাধিক বই রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ১০ সহ¯্রাধিক বই নিয়ে গ্রন্থাগার দুই দশক পূর্তি অনুষ্ঠান করবে এবং তখন গ্রন্থাগার থেকে এর পরিচালক আনিসুল আলম নাহিদের সম্পাদনায় বইকেন্দ্রিক একটি সংকলনও প্রকাশিত হবে।

২০১৮ সালে রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারের জন্য বইয়ের আবেদন জানিয়ে শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা “আনোয়ারা” এবং কৃষি বিষয়ক ছোটকাগজ “চাষাবাদে” বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, কিন্ত দুঃখের বিষয় তেমন কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের প্রেক্ষিতে ক’জন সুহৃদ ও কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক বইপত্র দিয়ে সহযোগিতা করেছেন; তাঁরা হলেন সর্বজনাব প্রফেসর নন্দলাল শর্মা, আমেনা আফতাব, আলহাজ¦ মোহাম্মদ নূরুন নবী (এফসিএ), লাভলী চৌধুরী, আব্দুল হামিদ মানিক, আফতাব চৌধুরী, কালাম আজাদ, মুহিত চৌধুরী, অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল করিম, মাহবুব জামান, উপাধ্যক্ষ এডভোকেট এম শহীদুল ইসলাম শহীদ, মুকুল ইকবাল, মো. সুহেল মিয়া, মো. আব্দুল্লাহ,  শিকদার মুহাম্মদ কিব্রিয়াহ, আব্দুল আজিজ (লয়লু), ডা. বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব, সুনীল বরণ পোদ্দার, সাইদুর রহমান সাঈদ, মোহাম্মদ নওয়াব আলী, মোঃ আব্দুর রউফ, মাও: আনোয়ার হোসাইন, ফজলুর রহমান ফজলু, বেলাল আহমদ চৌধুরী, ডা. এম.ই হক খালেদ, মো. খালেদ মিয়া, মো: সেলিম আহমদ খান, নৃপেন্দ্র কুমার দাশ, ডা. পলি রাণী মজুমদার, মারুফ ও মতিউর রহমান প্রমুখ।

আমরা ১৪বছর পূর্তির শুভক্ষণে তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আশা করছি, আমাদের এই সুহৃদের সহযোগিতা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, সুহৃদদের দানকৃত এবং আমাদের সংগৃহীত বইগুলো যত্নে বর্তমান ও আগামী দিনের পাঠকদের জন্য সংরক্ষিত হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, বহুদিন গ্রন্থাগারে বইগুলো সংরক্ষিত থাকবে। উল্লেখ্য, বেশির ভাগ বই-ই মানব ও প্রকৃতি কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সংগৃহীত। প্রবীণ হোমিও চিকিৎসক বীরেন্দ্র চন্দ্র দেবের মাধ্যমে নেপথ্যে সিলেট শহরের কাজীর বাজারস্থ মাখন মিয়ারও একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। যাহোক অনেকেই গ্রন্থাগারে বই দানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখেননি। অনেকেই দেব দিচ্ছি করছেন। পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর কারো কাছে সরাসরি বইপত্র চাওয়া হবে না। তবে যে কোনো স্বতস্ফূর্ত দান অবশ্যই সাদরে গ্রহণ করা হবে।

রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারে ৭টি কর্নার চালু রয়েছে; যথা- ১. ইসলামিক কর্নার; ২. বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার; ৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্নার; ৪. রবীন্দ্র কর্নার; ৫. কৃষি কর্নার; ৬. শিশু কর্নার এবং ৭. ম্যাগাজিন কর্নার।

ইসলামিক কর্নারে ইসলামী বইপত্রের সমাবেশ ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বইপত্রের সমাহার ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কৃষি কর্নারে বিভিন্ন ধরনের কৃষি বিষয়ক বই ও পত্রপত্রিকা/সংকলন/ম্যাগাজিন (যেমন-মাসিক কৃষিকথা, পাক্ষিক কৃষিবিপ্লব, চাষাবাদ প্রভৃতি) যত্নে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের কৃষি বিষয়ক বইপত্র সংগ্রহের মাধ্যমে এ কর্নারকে সমৃদ্ধ করার ইচ্ছা উদ্যোক্তা পরিবার ও পরিচালনা পর্ষদের রয়েছে। ম্যাগাজিন কর্নারে ২০০৪ সাল থেকে প্রকাশিত শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা “আনোয়ারা”র প্রথম থেকে অদ্যাবধি প্রকাশিত সবক’টি সংখ্যাসহ দেশ-বিদেশের বিচিত্র বিষয়ের প্রচুর ম্যাগাজিন রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি কর্নারকেই এ রকম সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।

শিল্প-সাহিত্যের সবক’টি শাখার বইয়ের পাশাপাশি এ গ্রন্থাগারে দেশি-বিদেশি নানারকম বই; যেমন-বিজ্ঞান, গণিত, ইতিহাস-ঐতিহ্য, ভ্রমণকাহিনী, শিশুতোষ, খেলাধুলা, রান্না, আইন, রাজনীতি, অর্থনীতি, জীবনী, চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ের বই ও পত্রপত্রিকা/ম্যাগাজিন/সংকলন/স্মারক রয়েছে। বিচিত্র বিষয়ের বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এ গ্রন্থাগারকে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারে পরিণত করার অঙ্গীকার উদ্যোক্তা পরিবারের রয়েছে। গ্রন্থাগারের একটি পরিদর্শন/মন্তব্য বই খোলা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যা দুই যুগ পূর্তিতে মুদ্রিত হবে। উল্লেখ্য, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অনেকেই ইতোমধ্যে গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করে তাদের মূল্যবান মতামতও লিপিবন্ধ করেছেন। বলা বাহুল্য, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বইপত্রের সমাহারে গ্রন্থাগারটিকে একটি মিনি বিশ^বিদ্যালয়ের মতো ভাবতে উদ্যোক্তা পরিবার আনন্দ বোধ করে।

মুজিববর্ষে মানুষজনকে বইপাঠে আগ্রহী করে তুলতে রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, হাতে হাতে বই সবার’ প্রতিপাদ্যে এ বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্রন্থাগারে আগত ১০০ জন পাঠককে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুব রহমানের উপর রচিত বই উপহার দেওয়া হয়েছে।

সবার জন্য উন্মুক্ত রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারকে ডিজিটাল গ্রন্থাগারে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে তরুণ পরিচালক আনিসুল আলম নাহিদ ভাবছে। অনলাইনে এ গ্রন্থাগারকে ছড়িয়ে দিতে একটি ওয়েবসাইট খোলার বিষয়েও তরুণ পরিচালকের আগ্রহ প্রচুর। বলা বাহুল্য, পরিচালকের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের শুরু থেকে অনলাইন এবং অফলাইনে গ্রন্থাগারের ব্যাপক কার্যক্রম মেলে ধরার চেষ্টা চলছে। ফলে এখানে প্রিন্ট বইয়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযুক্ত যেকোনো ডিভাইসের মাধ্যমে পাঠককে জ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে বিচরণের সুযোগ করে দেয়া হবে। আশা করা যায়, তখন সব ধরনের পাঠক শহর থেকে খানিকটা দূরে গ্রামীণ নিরিবিলি পরিবেশে শান্তমনে জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে শহুরে সুবিধা পাবে।

উল্লেখ্য, সিলেট শহর থেকে (সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কে) দক্ষিণ দিকে ১৬ কি.মি দূরে এবং সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দয়ামীর বাজার থেকে পূর্ব দিকে ৫ কি.মি দূরে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজারে রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারের অবস্থান। গুগল ম্যাপেও গ্রন্থাগারটির অবস্থান রয়েছে। পারিবারিক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ গ্রন্থাগারের অন্যতম উদ্দেশ্য পাঠক সৃষ্টির মাধ্যমে একটি জ্ঞান নির্ভর সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ, দেশ ও জাতি গঠন। এ বিষয়ে যে কারো গঠনমূলক পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করা হবে। সার্বিক যোগাযোগ- আনিসুল আলম নাহিদ, পরিচালক-রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার, যোবায়েদা ভিলা, লুলু সেন্টার, দেওয়ান বাজার, ডাক: গহরপুর-৩১২৮, সিলেট। ই-মেইল: anisulnahid2001@gmail.com 

লেখক: সম্পাদক- আনোয়ারা (শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা), সিলেট।​

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!