শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বেঁচে থাকতে পথে নেমেই হয়েছেন চকলেট আপা: পথে পথে চকলেট বিক্রি করেই চলে জীবন-জীবিকা



জীবন পথে হার না মানা এক অদম্য নারী চায়না বেগম (৪৫)। বাচ্চাদের কাছে চকলেট আপা। বলছি খুলনার পাইকগাছার একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা চায়না বেগমের কথা। গত প্রায় ২৫ বছর যাবত উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পৌর সদরে পায়ে হেটে ফেরি করে চকলেট বিক্রি করেই চলে তার জীবন জীবিকা।

প্রতিবেদকের কথা হয় চায়না বেগমের সাথে। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি জানান, বইখাতা নিয়ে যে বয়সে তার স্কুলে ছোটার কথা ঠিক সে বয়সেই দরিদ্র বাবার ইচ্ছাতে নিজেকে সংসার জীবনে সমর্পণ করেছিলেন তিনি।

বাবার ইচ্ছাতে উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর মোহম্মাদ সরদারের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। এরপর অভাবের সংসারে দু’টি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। স্বামী নূর মোহম্মাদ বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে যা উপার্জন করত তা দিয়ে তাদেট সংসারই চলত না। তার উপর দু শিশু পুত্রের ভার। একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছিল তারা।

এরপর নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে, জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতেই এক প্রকার বাধ্য হয়ে স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ২ হাজার টাকা লোন নিয়ে প্রায় ২৫ বছর আগে চকলেটের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। খুলনা জেলা সদর থেকে কেজি দরে চকলেট কিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পায়ে হেটে তা বিক্রি করেই দু’ সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন তিনি। আর সেই থেকে বাচ্চাদের কাছে চকলেট আপা নামেই অদম্য চায়না বেগমের বেশি পরিচিতি।

তিনি জানান, গ্রামে বা পৌর সদরে পা রাখতেই ছোট বাচ্চারা ‘চকলেট আপা’ বলে আমার কাছে ছুটে চলে আসে। বাচ্চাদের যাদের চকলেট কেনার টাকা থাকেনা তাদের ফ্রিতে দেন চায়না। বাচ্চারা যখন তার কাছে এসে ‘চকলেট আপা’ বলে চকলেট চায় তখন তার নাকি খুব বেশি ভাল লাগে।

সারাদিন চকলেট বিক্রি শেষে ৩ থেকে ৪শ টাকা লাভ হয় তার। তবে করোনাকালে ও বৃষ্টির সময় ব্যবসা খুব একটা ভালো যায়নি তার। তা ছাড়া বয়স বাড়ায় এখন তেমন হাঁটতে পারেন না বলে বেচা কেনা বহুলাংশে কমে গেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, হতদরিদ্র স্বামীর ভিটা বলতে কিছুই নেই। চলতি বছর মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় বোয়ালিয়া ব্রিজ সংলগ্ন একটি ঘরে মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে তাদের। তবে এর ব্যতিরিক্ত কোন উপকার ভোগীর কার্ড নেই তাদের।

সর্বশেষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি সহায়তার কার্ডের দাবি তার। আর সেটুকু পেলেই জীবনের পড়ন্ত বেলায় খুববেশি উপকৃত হবেন, এমনটাই দাবি এ অদম্য নারীর।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!