শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘আলতাফুর রহমান স্যার ফাউন্ডেশন’ গঠন



দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক, জালালপুর ইউনিয়নের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব মো. আলতাফুর রহমান স্মরণে ‘আলতাফুর রহমান স্যার ফাউন্ডেশন’ গঠন করা হয়েছে। একাধারে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং শিক্ষকতায় অনন্য ভূমিকা পালনকারী বরণীয় এ ব্যক্তি ২০১০ সালের ১২ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। তার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে গত রোববার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জালালপুর ইউনিয়নের রায়খাইল শিকদার বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। গঠিত ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা হলেন, আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আওলাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান শোয়েব। সদস্যরা হলেন, শহিদুর রহমান শাহীন, এমএ শহিদ পংকি, ফয়জুল হক শিকদার, আব্দুল বাসিদ বাচ্চু এবং শামসুর রহমান সুজা।

এদিকে প্রয়াত মো. আলতাফুর রহমানের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে গত রোববার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এক দোয়া মাহফিল এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন রায়খাইল দক্ষিণ পাড়া নতুন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাফিজুর রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল, জালালপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আওলাদ হোসেন, গোয়াইনঘাট এম. সাইফুর রহমান বিএম কলেজের অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান শোয়েব, প্রয়াত শিক্ষক মো. আলতাফুর রহমানের পুত্র জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জালালপুর ডিগ্রি কলেজ গভর্ণিং বডির সদস্য শহিদুর রহমান শাহীন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমএ শহীদ পংকি, প্রবীণ মুরুব্বি ফয়জুল হক শিকদার, সেলু মিয়া শিকদার, জালালপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাসিদ বাচ্চু, বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো. জিল্লুর রহমান জিলু, সমাজকর্মী শামসুর রহমান সুজা, মো. আরমান আলী, জাকারিয়া উল হক, কামরান আহমদ মুরাদ, আরাফাত রাব্বী মোয়াক্কিম, বাকের শিকদার প্রমুখ।

সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব মো. আলতাফুর রহমান ১৯২৩ সালের ০৫ জানুয়ারি জালালপুর ইউনিয়নের রায়খাইল (শিকদার বাড়ি) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মো. আলতাফুর রহমান জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক। কর্মজীবনে জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করলেও তিনি আমৃত্যু শিক্ষার জন্য কাজ করে গেছেন। জালালপুরবাসী সব সময় তাঁকে জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক হিসেবে গণ্য করতেন।
মো. আলতাফুর রহমান ৩ছেলে, ২মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, শিক্ষার্থী রেখে গেছেন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মো. আলতাফুর রহমান শিক্ষকতার পাশাপাশি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালিন সদস্যের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯সালে আওয়ামী লীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সম্মাননা সনদ লাভ করেন। তৎকালিন সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এ সম্মাননা সনদ এবং ক্রেস্ট গ্রহণ করেন।

মো. আলতাফুর রহমান’র ছেলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, বিশিষ্ট সমাজকর্মী, শিক্ষানুরাগী শহীদুর রহমান শাহিন তাঁর পিতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন। এ ব্যাপারে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বাবাকে আজীবন শিক্ষা এবং মানব সেবায় নিয়োজিত থাকতে দেখেছি। আমরা তাঁর সন্তান হিসেবে গর্বিত। আমাদের বাবার মতো আমরাও এলাকার শিক্ষা এবং সমাজসেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই। আমরা জালালপুরবাসী এবং দেশবাসীর কাছে আমাদের বাবার রুহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া চাই’।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!