শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আব্দুর রশীদ লুলু

আনোয়ারা ফাউন্ডেশন পরিচালিত তিন প্রতিষ্ঠান



বাংলার এক শ্বাশত নারী আনোয়ারা, যিনি বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে মাত্র ছয় মাস বয়সের এক পুত্র সন্তান রেখে অকালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর স্মৃতি রক্ষা এবং মানব ও প্রকৃতি কল্যাণধর্মী কাজের মাধ্যমে মাগফেরাত প্রত্যাশায় তাঁর রেখে যাওয়া সন্তানের উদ্যোগে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় আনোয়ারা ফাউন্ডেশন। সীমিত সামর্থ্যে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন শুরু থেকে মানব ও প্রকৃতি কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। নিম্নে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন পরিচালিত তিনটি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ/পরিচিতি তুলে ধরা হলো:

০১. আনোয়ারা হোমিও হল গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ: ঘটনাক্রমে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির প্রতি অনুরাগ থেকে পারিবারিক সংগ্রহের সীমিত সংখ্যক হোমিওপ্যাথিক বইপত্র দিয়ে ১৯৯১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হয় আনোয়ারা হোমিও হল গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ। তারপর ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হতে থাকে এ হোমিও গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ। সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করে শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা আনোয়ারাসহ বিভিন্ন মুদ্রিত পত্র-পত্রিকায় আবেদন জানানো হয়। অনলাইন প্রকাশনা দৈনিক স্বপ্নীল সিলেট এবং বালাগঞ্জ প্রতিদিন ও এক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। পরোক্ষভাবে চট্রগ্রাম থেকে প্রকাশিত মাসিক হোমিও চেতনার সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করতে হয়। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের ফলে ডা. বীরেন্দ্র চন্দ্র দেব, ডা. এম.ই.হক খালেদ, ডা: পলি রানী মজুমদার প্রমুখের সহযোগিতাও উল্লেখযোগ্য। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন এ হোমিও গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ পরিচালনায় সহযোগিতা করে আসছে। উল্লেখ্য, কম্পিউটার সায়েন্সে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আনিসুল আলম নাহিদের উদ্যোগে ২০২১ সাল থেকে আনোয়ারা হোমিও হল গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ সমৃদ্ধকরণে তথা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় হ্যানিম্যান, হোমিওপ্যাথি ও দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথদের তথ্যাদি নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে আনোয়ারা হোমিও হল গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ দেশ-বিদেশের একটি সুপরিচিত ও অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বলাবাহুল্য, হোমিও চিকিৎসক, হোমিও শিক্ষক, হোমিও শিক্ষার্থী ও হোমিও অনুরাগীদের জন্য উন্মুক্ত এ গ্রন্থাগার ও আর্কাইভে দেশি-বিদেশী বহু বইপত্র ও তথ্যাদি সংরক্ষিত আছে।

০২. রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার: মাত্র পাঁচ মাস বয়সে অকালে মারা যাওয়া রাজীব হুমায়ুন নামের এক ছেলেকে জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার পারিবারিক চেষ্টায় তার ১২তম মৃত্যু বার্ষিকীতে (১১ মে ২০০৭) প্রতিষ্ঠিত হয় রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার। শিল্প-সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার বইপত্রের পাশাপাশি গণিত, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের বহু বইপত্র এ গ্রন্থাগারে রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন এ গ্রন্থাগার পরিচালনা করছে। এ গ্রন্থাগারে ৭টি কর্নার রয়েছে:

১. ইসলামিক কর্নার; ২. বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার; ৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্নার; ৪. রবীন্দ্র কর্নার; ৫. কৃষি কর্নার; ৬. শিশু কর্নার এবং ০৭. ম্যাগাজিন কর্নার। আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দিনে দিনে এ কর্নারগুলো তথা গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হচ্ছে। এক্ষেত্রে বহু লেখক-সাংবাদিক ও সুধীজনের বইপত্র দিয়ে সহযোগিতাও অব্যাহত আছে। সবার জন্য উন্মুক্ত এ গ্রন্থাগারে এ যাবৎ পাঁচ সহস্রাধিক বইপত্র রয়েছে এবং দিনে দিনে এ সংখ্যা বাড়ছে। আশা করা হচ্ছে, সবার সহযোগিতা নিয়ে ক্রমান্বয়ে এ গ্রন্থাগার দেশের বেসরকারী সেক্টরের সময়োপযোগী একটি অন্যতম বৃহৎ গ্রন্থাগারে পরিণত হবে।

০৩. মরহুম আব্দুল মালিক হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয়: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল শ্রীনাথপুরে জন্মগ্রহণকারী মরহুম মো: আব্দুল মালিক ছিলেন কিচ্ছা-কাহিনি বলায় পারদর্শী তথা লোক সাহিত্যের অনুরাগী, বাঁশ-বেতের তথা কুটির শিল্পের দক্ষ কারিগর এবং একজন আদর্শ কৃষক। তাঁর স্মৃতি রক্ষা ও মাগফেরাত কামনায় ২৫ অক্টোবর ২০১৫ তাঁর ২য় মৃত্যু বার্ষিকীতে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় মরহুম আব্দুল মালিক হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয়। আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় এ হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয় থেকে আনোয়ারা হোমিও হলের সহযোগিতায় নিয়মিত গরীব-দুঃখী ও অসহায়দের ফ্রি হোমিও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আর্ত-মানবতার সেবায় মরহুম আব্দুল মালিক হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয়ের এ প্রচেষ্টা আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় বছর বছর অব্যাহত থাকবে।

উপসংহার: আশা করা যায়, আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের মূখ্য উদ্দেশ্য মানব ও প্রকৃতি কল্যাণে আনোয়ারা হোমিও হল গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ, রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার এবং মরহুম আব্দুল মালিক হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয় কিছু না কিছু অবদান রাখবে। আর্ত-মানবতার সেবা তথা সুস্থ-সুন্দর এবং জ্ঞান নির্ভর সমাজ ও জাতি গঠনের মাধ্যমে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন পরিচালিত এই তিনটি প্রতিষ্ঠান সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণে অবদান রাখুক উদ্যোক্তা পরিবারের এই প্রত্যাশা। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ বিনীত ভাবে কাম্য।

লেখক: সম্পাদক- আনোয়ারা (শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা) এবং প্রতিষ্ঠাতা- আনোয়ারা ফাউন্ডেশন, সিলেট।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!