রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মরক্কো ১: ০ পর্তুগাল

পর্তুগালের বিদায়: প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কো



পর্তুগালকে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস সৃষ্টি করলো মরক্কো। আফ্রিকার সিংহ মরক্কোর কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো রোনালদোর পর্তুগালকে। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো মরক্কো।

স্পেনের বিপক্ষে মরক্কো রক্ষণাত্মক ম্যাচ খেলছিল। জিতেছিল পেনাল্টি শ্যুটআউটে। সেই মরক্কো ধারে, ভারে অনেক এগিয়ে থাকা পর্তুগালের বিপক্ষেও তেমনই এগোবে, ধারণা করা হচ্ছিলো এমনটাই। কিন্তু সব ধারণা ভুল প্রমাণ করে আজ শনিবার (১০ ডিসেম্বর) আল থুমামা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা মিলেছে যেন অন্য এক মরক্কোর। মুহুর্মুহু আক্রমণে পর্তুগিজ রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা। গোলও পেয়ে যায় মরক্কানরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে ইয়াহইয়া আতিয়াত-আল্লাহর ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে গোল আদায় করে নেন ইউসেফ এন নেসিরি। ইউসেফ এন নেসিরির গোলে ১-০ তে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় অ্যাটলাস লায়নরা।

পুরো ম্যাচে স্পষ্ট প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে পর্তুগাল। বল দখলের লড়াইয়ে পর্তুগালের ছিল ৬৫ ভাগ এবং মরক্কোর ছিলো কেবল ৩৫ ভাগ। কিন্তু প্রতি আক্রমণে অসাধারণ গোলটি আদায় করে নিয়েছে মরক্কানরা। বাম পাশ থেকে আতিয়াত-আল্লাহ’র দুর্দান্ত ক্রস লাফ দিয়ে উঠে ধরতে চেয়েছিলেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা।

কিন্তু তার আগেই দৌড়ে এসে লাফিয়ে উঠে মাথায় বল ছুঁইয়ে দেন সেভিয়া স্ট্রাইকার এন-নেসিরি। বল জড়িয়ে যায় পর্তুগালের জালে। এই গোলের আগে আরও দুটি হেড মিস করেছিলেন এন-নেসিরি। ৪২তম মিনিটেই পর্তুগিজদের দুর্ভাগ্য হয়ে আসে বারে বল লেগে যাওয়া।

দালতের ফ্লিক থেকে বল পেয়ে ব্রুনো ফার্নান্দেজ অসাধারণ এক শট নেন ডান প্রান্ত থেকে। কিন্তু বল পর্তুগিজদের ওপরের বারে লেগে ফিরে আসে। বিরতি থেকে ফিরেই কোচ ফার্নান্দো সান্তোস মাঠে নামান রোনালদোকে।

মুহুর্মুহু আক্রমণে মরক্কোর ডিফেন্সে ঝড় তোলে পর্তুগিজরা। ৫৯ মিনিটে ডিবক্সের বাইরে থেকে ওতাভিয়ার ক্রসে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন রামোস। ৬৫ মিনিটে আবারো গোলের সুযোগ পায় পর্তুগাল। কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত শট গোলবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। হতাশায় মুষড়ে পড়েন ব্রুনো। ৮৩ মিনিটে মরক্কোকে নিশ্চিত গোল খাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেন মরক্কোর গোলরক্ষক নাত্যক বুনু।

ডি বক্সের সামান্য ভেতরে থেকে হোয়াও ফেলিক্স বা পায়ের দুর্দান্ত বাকানো শট নিলে ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন বুনু।

৯০ মিনিটে ডিবক্সের ভেতর থেকে রোনালদোর ডান পায়ের জোড়ালো শট রুখে দেন বুনু। ৯২ মিনিটে মরক্কোর চেদিরা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকান দলটি। ৯৫ মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন মরক্কোর আবুখলিল।

পর্তুগিজ গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল দিতে পারেননি তিনি। ৯৭ মিনিটে পেপের দুর্দান্ত হেড গোলবার ঘেষে চলে গেলে গোলবঞ্চিত হয় পর্তুগাল। ম্যাচের একদম শেষ দিকে আরো দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও গোল দিতে পারেনি পর্তুগাল। ফলে বিশ্বকাপ থেকে খালি হাতেই বিদায় নিল পর্তুগাল। আর ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো মরক্কো।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!