শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নীলাদ্রি লেক



নীলাদ্রি লেক।

নীলাদ্রি লেক (Niladri Lake) সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট (Tekerghat) নামক গ্রামে অবস্থিত। এই লেকের প্রকৃত নাম শহীদ সিরাজ লেক। কিন্তু ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে এই হ্রদটি নীলাদ্রি নামেই অধিক পরিচিত।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী শহীদ সিরাজুল ইসলামের নামানুসারে এই হ্রদের নামকরণ করা হয় শহীদ সিরাজ হ্রদ বা লেক। জানা যায়, আসামের ইকো ওয়ান সেন্টারে প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ৫ নম্বর সেক্টরের বড়ছড়া সাব-সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর শহীদ সিরাজকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার। হ্রদের পাশেই সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার কবরও সংরক্ষিত রয়েছে।

দেশ-বিদেশের অনেক ভ্রমণ প্রিয় মানুষ প্রায় সারা বছরই সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওরে বেড়াতে যান। কিন্তু এর অনতিদূরেই নয়নাভিরাম আরেকটা জায়গা আছে যা যেকোন পর্যটকের মনকে মুহূর্তেই দোলা দিয়ে যেতে পারে । চুনাপাথরের পরিত্যাক্ত খনির লাইমস্টোন দ্বারা আবদ্ধ হ্রদটি হলো নীলাদ্রি।। এর নামটা যেমন সুন্দর এর রূপটাও তেমনি মোহনীয় । নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না পানির রঙ কতটা নীল (মাঝে মাঝে মনে হয় হালকা সবুজ) আর প্রকৃতির এক মায়াবী রুপ। মূলত এই নীল স্বচ্ছ জলের চোখ জুড়ানো সৌন্দর্যের কারণে এটি ‘নীলাদ্রি’ নামে পরিচিত।

নীলাদ্রি লেকে আনিসুল আলম নাহিদ।

ভারত সীমান্তে সুউচ্চ সুবিশাল সবুজ পাহাড়ের কোলঘেষে মনে হয় আপন মহিমায় দাড়িয়ে আছে নীলাদ্রি লেক। স্থানীয়দের সাথে কথা বলা জানা গেছে খুব বেশি দিন আগেও তেমন মানুষের আনাগোনা ছিল না এখানে। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির কল্যানে দেশব্যাপি পরিচিতি লাভ করে এই লেক। তারপর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আগমন। তবে যাতায়াত ব্যবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ার কারণে বিদেশি পর্যটকদের আগমন এখনো তেমন শুরু হয়নি। নীলাদ্রি লেককে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের জীবন যাত্রার মান উন্নত হতে শুরু করেছে। উচু-নিচু বালুময় সরু রাস্তায় একমাত্র বাহন বলতে গেলে মোটর বাইক। যদিও কষ্ট করে আপনাকে পৌঁছতে হবে এখানে, তবুও নীলাদ্রি লেকের জলে অবগাহন করা মাত্র আপনি ভুলে যাবেন ভ্রমণ ও জাগতিক ক্লান্তিসকল। তবে মনে রাখতে ভুলবেন না, বেশিক্ষণ ঠান্ডা জলে অবগাহন করলে সর্দি লেগে যেতে পারে। নীলাদ্রি লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আপনি রঙ্গিন নৌকা পাবেন। তবে সাবধান, অসাবধানতা বশত লেকের গভীর জলে পড়ে গেলে চুরা বালিতে হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

আশাকরি সংক্ষেপে নীলাদ্রি লেক সম্পর্কে আপনাদের সামান্য ধারণা দিতে পেরেছি। সময়-সুযোগ হলে এই শীতেই ভ্রমণ করে আসুন নীল জলের মোহনীয় নীলাদ্রিতে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন