শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতকে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় সাকিবদের



সুপার ফোরে পাকিস্তানের পর শ্রীলঙ্কার কাছে হারে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয় যায় বাংলাদেশের। আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে দুই ফাইনালিষ্টও। তবে ফাইনালের আগে শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপের মঞ্চে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়ে বসল বাংলাদেশ-ভারতের লড়াই। ভারতের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব না থাকলেও এশিয়া কাপের মঞ্চে বাজে পারফর্ম করা বাংলাদেশের জন্য একটা জয় খুব প্রয়োজন ছিলো। ভারতকে ৬ রানে হারিয়ে সেই আরাধ্য জয়টাই তুলে নিল সাকিব আল হাসানের দল। যা এশিয়া কাপের মঞ্চে বাংলাদেশ পেল ১১ বছর পর। সবশেষ এশিয়া কাপের ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল ২০১২ সালে।

রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সুপার ফোরে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতকে ২৬৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দেয় টাইগাররা। জবাবে ১০০ রানের আগেই টপ অর্ডারের চার ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে ভারত। ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মাধে শুভমান গিল অন্য প্রান্ত আকড়ে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫ম সেঞ্চুরি তুলে নেন। মেহেদী হাসানের বলে তাওহিদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১৩৩ বলে ১২১ রান করেন শুভমান গিল। অক্ষয় প্যাটেল-শার্দূল ঠাকুরকে নিয়ে ম্যাচ বের করার চেষ্টা করেন। মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ১১ রান করা শার্দূল ঠাকুর। একই ওভারে ৪২ রান করা প্যাটেলকে আউট করেন মোস্তাফিজ। ৪৯.৫ ওভারে ২৫৯ রানে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে দিয়ে ৬ রানে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

টাইগার বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি, তানজীম সাকিব ও মেহেদী হাসান ২টি করে, মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান একটি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুর ধাক্কা সামলিয়ে সাকিব-হৃদয়ের ১০১ রানের পার্টনারশিপে বড় সংগ্রহের দিকে আগায় টাইগাররা। ক্যারিয়ারের ৫৫তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে সাকিব ৮০ ও এরপর হৃদয় ৫৪ রানের ফিরলেও শেষদিকে নাসুম ও মাহেদীর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৬৫ রানের লড়াকু পূঁজি পায় বাংলাদেশ।

প্রেমাদাসায় আজ বাংলাদেশের দেয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই অভিষিক্ত তানজিম সাকিবের বলে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। এরপর তিলক ভার্মাকেও বোল্ড করেন তিনি। দলীয় ৭৪ রানের মাথায় শেখ মাহেদীর শিকার হয়ে ১৯ রানে আউট হন লোকেশ রাহুলও। ৯৩ রানের মাথায় মিরাজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইশান কিশানও। ক্রিজের অপরপ্রান্তে দলকে টেনে তুলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শুভমান গিল।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই রানের খাতা খোলার আগেই মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন কুমার দাস। পরের ওভারে শার্দুলের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন নিজের দ্বিতীয় আন্তজার্তিক ম্যাচ খেলতে নামা তানজিদ তামিম। ৩ চারে ১২ বলে তামিম করেন ১৩ রান। এরপর শার্দুলের দ্বিতীয় শিকার হন এশিয়া কাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা এনামুল হক বিজয়। কিপার লোকেশ রাহুলের হাতে সহজ ক্যাচ দেয়ার আগে তিনি করেন ১১ বলে ৪ রান।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন অধিনায়ক সাকিব। কিন্তু দলীয় ৫৯ রানে আবারও আঘাত হানে ভারত। অক্ষর পাটেলের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রানে প্যাভিলিয়নের ফেরেন মিরাজ। ৫৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া টাইগারদের হাল ধরে সাকিব-হৃদয় জুটি। তাদের ১০১ রানের পার্টনারশিপে ম্যাচে ফিরে বাংলাদেশ।

দলীয় ১৬১ রানের মাথায় শার্দুলের বলে কাট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন সাকিব। ৮৫ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৮০ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই জাদেজার বলে লেগ বিফোর আউট হয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন শামীম পাটোয়ারী। নিজের ১৩তম আন্তজার্তিক ম্যাচেই পঞ্চম ফিফটি তুলে নেয়া হৃদয় শামিকে তুলে মারতে গিয়ে তিলক ভার্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন। ৮১ বলে ৫ চার ও ২ ছয়ে হৃদয় করেন ৫৪ রান।

হৃদয়ের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংস আড়াইশ পেরোয় নাসুমের কল্যাণে। নাসুম ৪৫ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে করেন ৪৪ রান। প্রসিদ্ধের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার পরও রানের চাকা সচল রাখেন মাহেদী ও তানজিম সাকিব। মাত্র ২৩ বলে ৩ চারে ২৯ রান করেন মাহেদী। অন্যপ্রান্তে অভিষিক্ত তানজিম সাকিব অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ১টি করে চার ও ছয় হাঁকিয়ে ১৩ রান করে। ভারতের হয়ে শার্দূল ঠাকুর ৪ টি ও শামি ও প্রসিদ্ধ ২ টি করে উইকেট পান।

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮

ভারত: ৪৯.৫ ওভারে ২৫৯

ফল: বাংলাদেশ ৬ রানে জয়ী।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন