
ছবি: সংগৃহীত
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ইরান। অভিযানে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে বলা হয়, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত অভিযানে ১২০ জনের বেশি সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশ থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মাজানদারান প্রদেশে ৬৯ জন এবং কেরমান প্রদেশে ৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের তিনটি পৃথক ‘গুপ্তচর চক্রের’ সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেছে আল জাজিরা।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই অন্য দেশে হস্তান্তর করা হবে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আলোচনাতেই আসেনি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক আলোচনা মূলত চলমান সংঘাত নিরসনের পথ খোঁজার জন্য হয়েছে। ইউরেনিয়াম ইস্যু নয়, বরং যুদ্ধবিরতি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সমালোচনা করে ইরান বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে এবং এ ধরনের পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
কিছু প্রতিবেদনে সম্ভাব্য একটি চুক্তির আওতায় ইউরেনিয়াম ছাড়ার বিনিময়ে জব্দ করা অর্থ ফেরতের কথা বলা হলেও, ইরান সেই তথ্যও নাকচ করেছে।





