সোমবার, ১১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

অবশেষে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান



ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠিয়েছে ইরান। রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে এই জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের আগে তেহরানের এই পদক্ষেপ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

ইরানের জবাবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুটি বিষয়ে— চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তেহরান জানিয়েছে, তারা সাময়িক সমঝোতার পরিবর্তে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চায়, যেখানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আঞ্চলিক দেশগুলোর নিশ্চয়তা থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি না হয়।

তবে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়েও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ওই কৌশলগত জলপথে চলাচলের জন্য নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ করছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন ইরানের নেতা মোজতবা খামেনি।

মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের সিনিয়র ফেলো আব্বাস আসলানি বলেন, ইরানের এই প্রতিক্রিয়া সরাসরি সম্মতি বা প্রত্যাখ্যান নয়। বরং এতে মার্কিন প্রস্তাবিত খসড়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে তেহরানের ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শন বিষয়ে ইরান কিছুটা নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো বা অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার শর্ত দেয়, তাহলে সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

পুরো আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেও ইতিবাচক যোগাযোগ থাকায় ইসলামাবাদ কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে পাকিস্তানের অর্থনীতিও চাপে রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। তাই দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

মার্কিন প্রশাসন বরাবরই বলে আসছে, আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব। এখন তেহরানের ব্যাখ্যার জবাবে ওয়াশিংটন কী অবস্থান নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের চীন সফরের আগেই যদি একটি প্রাথমিক শান্তি সমঝোতা হয়, তাহলে তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

ইরান অভিযোগ করেছে, গত এক বছরে আলোচনা চলাকালীন সময়েই তারা দুবার হামলার শিকার হয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিরাপত্তার নিশ্চয়তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান। দেশটির অবস্থান স্পষ্ট— আগে যুদ্ধের অবসান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, এরপর অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা এগোতে পারে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!