সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ



ছবি :সংগৃহীত

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মেরামতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, অনেক স্থানে সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে এবং কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থারও ক্ষতি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরি, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল এবং রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমের কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ওই অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কাজের অগ্রগতি তদারকিতে নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, প্রথম ধাপে খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি, ত্রাণ ও অন্যান্য জরুরি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

তিনি বলেন, যেখানে স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগবে, সেখানে আপাতত অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে টেকসই ও স্থায়ী পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও বিকল্প সড়ক ব্যবহার, জরুরি মেরামত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দেশের অর্থনীতির স্বার্থে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জরুরি সংস্কারকাজে প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অর্থের অভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারকাজ যাতে বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করাই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে একই স্থানে যাতে বারবার ক্ষতি না হয়, সেজন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোতে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর যোগাযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। কোথাও সড়ক বা সেতুর ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন অথবা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনঃসংস্কার নয়; ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও নিরাপদ, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!