মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান



ছবি :সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতির পর তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। নিউইয়র্ক সফরের পুরো সময় তিনি এই হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হন। তারা মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

নিউইয়র্কের পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর অভ্যর্থনায় অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসেন। তাদের অনেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় অপেক্ষা করেন।

নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের সামনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ।

ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন।

এদিন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে তাঁর।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি

২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন।

এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বর ব্যস্ত কর্মসূচি

২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও প্রারম্ভিক বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউইয়র্ক সময় ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। তাঁর জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারিত রয়েছে, যদিও সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে।

দিনের কর্মসূচি শেষে রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার যাত্রা

২৫ সেপ্টেম্বর জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্যের এই বৈশ্বিক মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!