
ছবি :সংগৃহীত
রোহিঙ্গা সংকট এখনো শেষ হয়নি উল্লেখ করে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাভিত্তিক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের একটি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈশ্বিক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের নতুন আহ্বান’ শীর্ষক সভাটি বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সার্বিক সহযোগিতা করে।
বৈঠকে বিশ্বের আটটি দেশের প্রতিনিধির পাশাপাশি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) পক্ষে তুরস্ক ও কুয়েতের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ অব্যাহত রাখা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করা এবং নিজ মাতৃভূমিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান জরুরি। এ ক্ষেত্রে রাখাইনে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে রোহিঙ্গারা নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসইভাবে নিজ দেশে ফিরতে পারেন।
আলোচনায় আরও বলা হয়, বছরের পর বছর নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটালেও রোহিঙ্গা সংকট থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরে যাওয়া উচিত নয়। সংকট সমাধানে বিশ্বনেতাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ ধরে রাখার পাশাপাশি শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে অতীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বিশেষভাবে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া ও শর্ত নির্ধারণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সক্রিয় ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সংকট মোকাবিলায় তিনি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাবও তুলে ধরেন।



