মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

মিয়ানমারে বাজারে জান্তার বিমান হামলা, নিহত ৩৩



ছবি :সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি জনবহুল বাজারে সামরিক জান্তার বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৬ জন। নিহতদের মধ্যে বাজারে আসা ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারী ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের কিয়াকতাও শহরের একটি স্থানীয় পাইকারি বাজারের কাছে এ হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। খবর আলজাজিরার।

আরাকান আর্মির (এএ) দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে একটি যুদ্ধবিমান থেকে বাজারসংলগ্ন এলাকায় দুটি বোমা ফেলা হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং এপিকে জানান, আক্রান্ত বাজারটি ছিল ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান পাইকারি কেন্দ্র। সেখানে রাখাইনজুড়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভিড় থাকত। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর একটি এটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে বেশ কিছু যানবাহন দুমড়েমুচড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাছের একটি সেতুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।

তবে হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে একই ধরনের হামলার পর জান্তা কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, তারা কেবল বৈধ ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালায়। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে তারা ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।

২০২১ সালে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সামরিক শাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেকে আবারও প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।

রাখাইন রাজ্যে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াইরত আরাকান আর্মি ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদর দপ্তর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এর বিপরীতে সেনাবাহিনী রাখাইনে কঠোর অবরোধ আরোপ করায় খাদ্যসংকট আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের কারণে শুধু রাখাইন রাজ্যেই প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

গত আগস্টে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়। আরমড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের (ACLED) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির চলমান গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!