বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

৫০৭ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল, গ্রাহককে মন্ত্রীর ফোন; বরখাস্ত পল্লী বিদ্যুতের জিএম



ছবি :সংগৃহীত

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল ইস্যু করা হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বিলের ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলে এ অস্বাভাবিক অঙ্ক উল্লেখ করা হয়।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে ওই গ্রাহক ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। এর বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট পাওনা দাঁড়ানোর কথা ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

তবে প্রকৃত হিসাবে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ওই গ্রাহকের বিল হওয়ার কথা মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এই অঙ্ক দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর। গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে বিলে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, বরং অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি বিল। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভুলের কারণে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার যথাযথ প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।

ঘটনার বিষয়ে শালিখা উপজেলার চুকিনগরে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসে গিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা বলা হয়। তিনি বিলের বিষয়টি স্বীকার করেন।

রেজাউল করিম জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়। এর ফলেই অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছে। পরে বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কারা দায়ী, তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, টাইপিংয়ের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে এবং গ্রাহক সংশোধিত বিল পরিশোধও করেছেন। তদন্তের পর এ ভুলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!