
ছবি :সংগৃহীত
সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আহতদের পাঁচটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল ও ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ শ্রমকল্যাণ কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর শ্রমকল্যাণ উইং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি নিজেও একজন আহত ব্যক্তির বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন।
প্রবাসীদের সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ মিশনের দেওয়া যোগাযোগ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং সেল কাজ করছে। সেখান থেকে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর সর্বশেষ পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণা ও অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রায় ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে গণমাধ্যমের সহায়তায় জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কিছু ট্রাভেল এজেন্সি বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ টিকিটের ব্যবস্থা করা, কর্মী নিয়োগ দেওয়া নয়। বিভিন্ন চক্র ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে—এমন অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে।
বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভিসা যাচাই, ইমিগ্রেশন এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ধাপ পর্যায়ক্রমে অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে এ উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
এদিকে পরিদর্শনকালে বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল ও ৫০ শয্যার হাসপাতাল আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর ঘোষণা দেন আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, দূরদূরান্ত থেকে শিল্পকারখানায় কাজ করতে আসা নারী শ্রমিকদের আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সেগুলো চালু হয়নি। জনগণের কল্যাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত প্রতিষ্ঠান এভাবে অব্যবহৃত রাখা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠান দুটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে সামনে রেখে হোস্টেল ও হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শ্রমিকনেতারাও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান দুটি চালু হলে এলাকার নারী শ্রমিকেরা আবাসন ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে উপকৃত হবেন।
পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার, শ্রম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় শ্রমিকনেতারা উপস্থিত ছিলেন।


