রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মাদক গডফাদারদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে শিগগিরই নতুন আইন : সংসদে প্রধানমন্ত্রী



ফাইল ছবি

বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাদকদ্রব্য সেবনের সঙ্গে এর ব্যবসাতেও জড়িয়ে পড়ছেন। সরকারের এক প্রতিবেদনেই এই ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি হিসাবে ধরে নেওয়া হয়, দেশে এখন মাদকসেবীর সংখ্যা ৬৬ লাখ। ২০১০ সালেও এ সংখ্যা ছিল ৪৬ লাখ। দিনে দিনে তা বেড়েই চলেছে। মাদক সেবীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদকের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে। শহর থেকে তা গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশে এখন ১৫ বছরের বেশি বয়সের মাদকসেবী আছে ৬৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এতে করে প্রতি ১৭ জনে একজন তরুণ মাদকাসক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এদের প্রায় সবাই ইয়াবাতে আসক্ত। ইয়াবা ছাড়াও হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজা সেবন করছে মাদকসেবীরা।

জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউএনওডিসির মতে, বাংলাদেশে বছরে শুধু ইয়াবা বড়িই বিক্রি হচ্ছে ৪০ কোটির মতো। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা (প্রতিটি দেড় শ টাকা)। ইয়াবা বড়ির পেছনে মাদকসেবীদের বছরে যে খরচ তা বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বার্ষিক বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ। আর পুলিশের বাজেটের প্রায় অর্ধেক।

তবে মাদকের এই ভয়াবহতা রোধ করতে দেরিতে হলেও সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সংসদে মাদকের এই ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের গণতান্ত্রিক সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সে নীতি বাস্তবায়নে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের ফলে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান ও এর ব্যবহার বন্ধ করে যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হব বলে আমি আশাবাদী।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, মাদক অপরাধ-সংক্রান্ত মামলার বিচার কার্যক্রম আলাদা কোন আদালতের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়টি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় খতিয়ে দেখছে।

ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী মাদক অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রয়েছে। তবে বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তির দখলে/কর্তৃত্বে/অধিকারে মাদকদ্রব্য পাওয়া না গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ কম। এই মাদক ব্যবসায় জড়িত মাস্টারমাইন্ডরা সহজেই পার পেয়ে যায়।

তিনি জানান, মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতাকারী ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ প্রণয়ন করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ও মাদকের গডফাদারসহ মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হবে। তাছাড়া এ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনার জন্য মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য ও মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকের আগ্রাসন প্রতিরোধে মাদক চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, যানবাহন ও মাদক স্পটগুলোতে তল্লাশি অভিযান চলছে। তাছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হচ্ছে। মাদকসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে ভয়াবহ মাদকের প্রতি আকৃষ্ট না হয় সেজন্য মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!