বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ব্যাটে-বলে সামনে থেকে সাকিবের নেতৃত্ব : দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ে সিরিজে সমতা



সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ফ্লোরিডার লডারহিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সমতা ফিরিয়েছে তিন ম্যাচের সিরিজে। তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ব্যাটিং ও সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে জয় পেয়েছে টাইগাররা।

তামিম দারুণ ব্যাটিং করলেও ব্যাটে-বলে সাকিবের পারফরম্যান্সই বেশি নজর কেড়েছে। ছবি: এএফপি

১৭২ রানের জবাবে ব্যাট হাতে নেমে উইন্ডিজের ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের শুরুতে টানা তিন ওয়াইড দিলেও মুস্তাফিজের ঘুরে দাঁড়ানোটা ছিল দারুণ। ওভারের দ্বিতীয় বলে ভেতরে ঢোকা এক বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন এভিন লুইস। ১ রান করে বিদায় নেন তিনি। অন্য প্রান্ত থেকে দারুণ বোলিং করে উইন্ডিজদের আটকে রাখেন আরেক বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি।

এরপর ঝড় তুলেন আন্দ্রে রাসেল। রুবেলের ওভারে ফ্লেচারের দশ বলের ইনিংসে বলকে বাউন্ডারির বাইড়ে আছড়ে মারেন তিনবার। দুইটি চার ও একটি ছক্কা। তাকেও থামান মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজের বাড়তি বাউন্সের বলকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে মারতে গেলে কানায় লেগে বল চলে যায় মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। পরের বলে মারলন স্যামুয়েলসের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপ ও উইকেটরক্ষকের মাঝ দিয়ে চলে যায় সীমানার বাইরে। শেষ বলে ছক্কা হাঁকান স্যামুয়েলস।

পরের ওভারে স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে দেন সাকিব আল হাসান। সাকিবের বলে তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লিটন দাসের হাতে। ৩ বলে ১০ রান করেন স্যামুয়েলস। ৪৮ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটলে চাপে পড়ে যায় উইন্ডিজ। রানের গতিও কমে আসে তাদের।

বেশিক্ষণ টিকেননি দীনেশ রামদিন। রুবেল হোসেনের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। প্রথমে আম্পায়ার আবেদন নাকচ করলেও রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ৫৮ রানের মাথায় ফিরেন রামদিন (৫)।

ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার এক প্রান্ত আগলে রাখেন। ফ্লেচারকে সাথে নিয়ে হাল ধরেন রোভম্যান পায়োএল। দুজন মিলে গড়েন ৫৮ রানের জুটি। উইন্ডিজকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এ জুটি। থিতু হওয়ার পর দুজনই হয়ে উঠেন মারমুখী। ব্যক্তিগত ৩৬ রানের মাথায় আবু হায়দারের বলে ফ্লেচারের সহজ ক্যাচ ছাড়েন আরিফুল। ঐ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকান পাওয়েল। অপুর করা পরের ওভার ছক্কা দিয়ে শুরু করেন ফ্লেচার।

পাওয়েল-ফ্লেচারের জুটি হুমকি হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। এ জুটি ভাঙেন অপু। ছক্কার পরের বলে তুলে মারতে গিয়ে ব্যাটে বলে সংযোগ ঠিকমতো না হলে ক্যাচ উঠে যায়। সহজ ক্যাচ নেন সাকিব। ৪৩ রান করেন ফ্লেচার।

এরপর উইন্ডিজের ভরসা ছিল কার্লোস ব্রাথওয়েট। ১৭ তম ওভারে সাকিবের বলে উড়িয়ে মারেন লং অনে। দারুণ ক্যাচ নেন লিটন। শেষ চার ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৪২ রান। ১৭ তম ওভারে মাত্র তিন রান দেন সাকিব। পরের ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৮ রান দেন রুবেল।

১৯ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকান পাওয়েল। পরের বলেই শর্ট লেন্থ ডেলিভারিতে মিড উইকেট দিয়ে খেলতে গেলে বল লাগে ব্যাটের কিনারায়। চমৎকার ক্যাচ নেন মুশফিক। তবে এর আগে ওভারের শেষ দুই বলে একটি ছয় ও একটি চার মেরে ম্যাচে উইন্ডিজের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখেন অ্যাশলে নার্স।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। শেষ ওভারে ২ উইকেট শিকার করে মাত্র ২ রান দেন নাজমুল ইসলাম অপু। এতে কাঙ্খিত জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সামনে বিদেশের মাটিতে দ্বিতীয়বারের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি। ছবি: এএফপি

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি টাইগারদের জন্য। দ্বিতীয় ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার লিটন দাস। অ্যাশলে নার্সের বলে ইনসাইড আউট করতে খেলতে গিয়ে কাভারে থাকা কার্লোস ব্রাথওয়েটের হাতে ক্যাচ দেন লিটন (১)। ৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

মুশফিকুর রহিমকেও সাজঘরে ফেরান নার্স। রিভার্স সুইপ করে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আন্দ্রে রাসেলের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। এরপর সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল যোগ করেন ২৪ রান। কিমো পলের বলে তুলে মারেন সৌম্য। আকাশচুম্বী শট নেমে এসে জমা হয় রোভম্যান পাওয়েলের হাতে।

চতুর্থ উইকেটের জুটিতে হাল ধরেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। সাকিব ও তামিম মিলে বদলে দেন ইনিংসের গতিপথ। তামিম হয়ে উঠেন আরও বিধ্বংসী। শুরু থেকে দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন সাকিব।

দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর তামিম। ছবি: এএফপি

৯০ রানের জুটি গড়েন দুজন। দুজনই তুলে নেন অর্ধশতক। রাসেলের এক ওভারে তিন ছক্কা আর এক চার হাঁকান তামিম। পাঁচ বলে ২২ রান নিয়ে শেষ বলে আরেকটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে একদম সীমানার কাছাকাছি ধরা পড়েন তামিম। ছয় চার আর ছক্কায় ৪৪ বলে ৭৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তামিম ফিরেন সাজঘরে। শেষ ওভারে ফেরার আগে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব। শেষদিকে ১৩ রান আসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাট থেকে। ১৭১ রান করে থামে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৭১/৫ (লিটন ১, তামিম ৭৪, মুশফিক ৪, সৌম্য ১৪, সাকিব ৬০, মাহমুদউল্লাহ ১৩*, আরিফুল ১*; বদ্রি ০/১৪, নার্স ২/২৫, রাসেল ১/৩৩, পল ২/৩৯, উইলিয়ামস ০/২৯, ব্র্যাথওয়েট ০/২৯)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৫৯/৯ (ফ্লেচার ৪৩, লুইস ১, রাসেল ১৭, স্যামুয়েলস ১০, রামদিন ৫, পাওয়েল ৪৩, ব্র্যাথওয়েট ১১, নার্স ১৬, পল ২, উইলিয়ামস ০*, বদ্রি ১*; আবু হায়দার ০/২৬, মুস্তাফিজ ৩/৫০, রুবেল ১/৩৫, সাকিব ২/১৯)।

ফল: বাংলাদেশ ১২ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: তামিম ইকবাল

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!