মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ছড়ালোক পদক ও লেখকদের ভালবাসায় অভিষিক্ত হলেন ছড়াকার দিলু নাসের



১ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় সিলেটের অভিজাত হোটেলে ব্রিকলেনের অাশির দশকের তুখোড় ছড়াকার দিলু নাসেরকে ছড়ার ছোট কাগজ ছড়ালোক এর পক্ষ থেকে ‘ছড়ালোক পদক ২০১৮’ প্রদান করা হয়।

ছড়ালোকের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এস এম মকবুলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক বিশিষ্ট কবি ড. শিহাব শাহরিয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ছড়াকার আবদুল বাসিত মোহাম্মদ, ছড়াকার মিলু কাসেম, আবৃত্তিকার ও সভাপতি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের আমিনুল ইসলাম লিটন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পড়িয়ে বরণ করেন ছড়ালোক সম্পাদক ও আয়োজক ছড়াকার শাহাদত বখ্ত শাহেদ, ছড়াকেন্দ্র-সিলেট এর সহ সভাপতি কবি এখলাসুর রাহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য নিয়ে আসেন কবি ও নাট্যজন এনামুল মুনির, কবি পুলিন রায়, ছড়াকার বিধুভূষণ ভট্রাচার্য, ছড়াকার মোহাম্মদ রুহেল, কবি চন্দ্র শেখর দেব, শিল্পী জালাল উদ্দিন সরকার, কবি এখলাসুর রাহমান, কবি ধ্রুব গৌতম, কবি ও সম্পাদক খালেদ উদ-দীন, কবি মাসুদা সিদ্দিকা রুহি, এডভোকেট নূরল আলম খান, কবি দুলাল চৌধুরী, কবি জন্মেজয় রায় চৌধুরী, নাট্যজন শাখাওয়াত আলী শাহী, প্রাবন্ধিক আব্দুল হক, গাল্পিক জসীম আল ফাহিম, কবি সিদ্দিক আহমদ, কবি পপি রশিদ, কবি আহমদ বকুল, কবি মাছুমা টফি একা ছড়াকার, কবি হোসনে আরা লিলি, মিনহাজ ফয়সল, ছড়াকার অজয় বৈদ্য অন্তর প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে ছড়ালোক সম্পাদক ছড়ালোক এর বিভিন্ন কর্মকান্ড তোলে ধরেন এবং গুণি ছড়াকারদের সৃষ্টকর্ম ছড়ালোকে তোলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পদক ও সম্মাননার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বিগত দিনে যেভাবে কবি দিলওয়ার, ছড়াকার কবি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও ছড়াকার সুফিয়ান আহমদ চৌধুরীকে মূল্যায়ন করা হয়েছিল। তারই ধারাকাহিকতায় আজকে ছড়াকার দিলু নাসেরকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিবছর বাংলাভাষার ছড়াকারদের মূল্যায়ন করা হবে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে এনামুল মুনির তার ঘনিষ্ট সুহৃদ দিলু নাসেরকে নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন। সেই আশির দশকের সিলেটের সাহিত্য আন্দোলনের নানা দিক তোলে ধরেন। বিশেষ করে সিলেটের ছড়া আন্দোলনের দিকপাল কবি দিলওয়ার সহ মাহমুদ হক, শামসুল করিম কয়েস, তুষার কর, হেলাল উদ্দিন রানা, তকুল রানা, ফতেহ ওসমানী ও তিনি নিজে ছড়া আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার কথা সুন্দর ভাবে স্মৃতিচারণ করেন।

বিশেষ অতিথি আমিনুল ইসলাম লিটন ৮০র দশকের সিলেটের সাহিত্য সংস্কৃতির সোনালী অতীত বিশেষ করে দিলু নাসের ও তাঁর সাহিত্য সংস্কৃতিতে সম্পৃক্ততা ও সিলেট বেতারে একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা সুন্দর ভাবে তোলে ধরেন।

ছড়াকার মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও কবি দিলওয়ার এর সক্রিয় ভূমিকার কথা তোলে আনেন। দিলু নাসেরকে ছড়ালোকের মূল্যায়নে ছড়ালোক পরিবারকে ধন্যবাদ জানান।

ছড়াকার মিলু কাসেম দিলু নাসের সম্পর্কে অজানা তথ্য তুলে ধরেন। ছোট ভাই দিলু সম্পর্কে বলতে গিয়ে দিলুর বহুমুখি প্রতিভা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, দিলু ছড়াকার ছাড়াও একজন উপস্হাপক গীতিকার। তার গান মান্না দে, ভুপেন হাজারিকার মত গুনিরা সুরারোপ করেছেন। দিলু তা কখনো নিজে থেকে প্রকাশ করেনি। আজ সবাইকে একত্রে পেয়ে এ তথ্য তুলে ধরলাম। মিলু কাসেম এ মহতি আয়োজনে ছড়ালোককে কৃতজ্ঞতা জানান।

আবদুল বাসিত মোহাম্মদ দিলু নাসেরের ছোটবেলার কিছু স্মৃতি তোলে ধরেন। বিশেষ করে যুগভেরি সাহিত্য আসর, সিলেট বেতার ও তার লেখালেখির মূল্যায়ন করেন। এবং একজন যোগ্য ছড়াকার হিসেবে মূল্যায়নে ছড়ালোককে ধন্যবাদ জানান।

পদকপ্রাপ্ত অতিথি ছড়াকার দিলু নাসের তাঁর ছান্দিক বক্তব্যে সবাইকে বিমোহিত করে তোলেন। তাঁর দরাজ কণ্ঠে ৮০ দশকের সিলেটের ছড়া আন্দোলন সহ অগ্রজ ছড়াকারদের ভূমিকা তোলে ধরেন। দিলু স্মরণ করেন কবি দিলওয়ার, মাহমুদ হক, শামসুল করিম কয়েস, মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, সেলু বাসিত, আবদুল বাসিত মোহাম্মদ, রোকেয়া খাতুন রুবি, তুষার কর, শাহাদত করিম, মহি উদ্দিন শিরু, বন্ধুবর এনামুল মুনির, ফতেহ ওসমানী, হেলাল উদ্দিন রানা, কিশওয়ার ইবনে দিলওয়ার প্রমুখের কথা। ছড়াকার দিলু নাসের বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে যান। দিলু এ পদক প্রাপ্তি নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন আমার জীবনের শ্রেষ্ট মূল্যায়নের দিন হিসেবে এদিনকে স্মরণে রাখবো। আমার সাহিত্য জীবনে এ ধরনের সম্মাননা বিশেষ করে জন্মভূমি সিলেটের মাটিতে হওয়ায় আমি ধন্য ও কৃতজ্ঞ। তা ছাড়া আায়োজক ছড়ালোক তাকে এ পদক প্রদান করায় ছড়ালোক সম্পাদক ছড়াকার শাহাদত বখ্ত শাহেদ কে কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কবি ড.শিহাব শাহরিয়ার দিলু নাসের কে নিয়ে দীর্ঘ স্মৃতিচারণ করেন। তিনি দিলুকে বাংলা ছড়াসাহিত্যর একনিষ্ট ও সুযোগ্য ছড়াকার হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, দিলু ছড়ায় ছন্দে তাঁর পারদর্শিতা অনেক অগ্রজ ছড়াকারকেও অতিক্রম করে গেছেন। তিনি দিলুর সাথে সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বলেন লন্ডনে দিলুর সাথে পরিচয়ের পরবর্তীতে দিলুর আন্তরিকতা অতিথিপরায়ণতা সত্যি মনে রাখার মত। তিনি বলেন দিলু দীর্ঘ ছড়া রচয়িতা হিসেবে বাংলা ছড়াসাহিত্য স্থান করে নিয়েছেন বলে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি ছড়ালোক কে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

পরে প্রধান অতিথি সহ অনুষ্ঠানের অতিথিরা দিলু নাসোরের হাতে ছড়ালোক পদক ২০১৮ তোলে দেন। পদক ছাড়াও ছড়ালোকের পক্ষ থেকে এক ব্যাগ বই উপহার প্রদান করা হয়। প্রায় শতাধিক কবি সাহিত্যত্যিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের শেষ বক্তব্য রাখেন সভার সভাপতি ছড়ালোকের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এস এম মকবুলুর রহমান। তিনি পদকপ্রাপ্ত অতিথ, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি সহ সবাইকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান সফল করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ছড়ালোকের প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে যেন সবাই আজকের মত স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে ছড়ালোকের অগ্রযাত্রার পথকে সুগম করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শাহাদত বখ্ত শাহেদ ও জসীম আল ফাহিম। পরে ফটো সেশন ও ছড়ালোক কর্তৃক অাপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!