শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বিএনপি ভোটে যাচ্ছে



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে আজই। সঙ্গে থাকবে দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

গতকাল শনিবার রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবস্থান জানাবেন। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও অনুরূপ সিদ্ধান্ত হয়।

এসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জোটের অবস্থান ও শরিকদের নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে অবহিত করার জন্য আজ রবিবার ইসি বরাবরে চিঠি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পাশাপাশি কারাগারে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এ লক্ষ্যে গত শুক্রবার কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার ক‚টনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করবে বিএনপি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল শনিবার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দিনব্যাপী বৈঠক করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। ওই বৈঠকে বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। এরপর একই স্থানে দলটির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের (একাংশ) সভাপতি শাওন সাদিক, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান এডভোকেট আবদুর রকিব, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম মহাসচিব নুর হোসেন কাসেমী, এনডিপি চেয়ারম্যান আবদুল মোকাদ্দিম, জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি মুফতি ওয়াক্কাস, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, ডেমোক্র্যাটিক লীগের সভাপতি সাইফুদ্দিন মনি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিসহ নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ভোটে যাওয়ার বিষয়ে জোটের নেতাদের কাছে মতামত জানতে চায় বিএনপি। এ বিষয়ে অধিকাংশ জোট নেতা নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন। এ ছাড়া দুয়েকজন পরিস্থিতি আরো ভালো করে লক্ষ্য করে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত শরিক দলের অধিকাংশ নেতা কিছু শর্ত দিয়ে সরকারকে চাপে রেখে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষে মত দেন। এরপর ২৩ দলীয় জোটের আসন বণ্টন এবং নির্বাচনে জোটপ্রার্থীদের প্রতীক নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র জানায়, ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো নিজস্ব প্রতীকে এবং অনিবন্ধিত দলগুলো বিএনপির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। নিবন্ধিত দলগুলোও ইচ্ছা করলে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০ দলীয় জোটের নেতারা এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনার পর বিএনপিকে সিদ্ধান্ত জানানোর দায়িত্ব দিয়েছেন।

২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নির্বাচনে যাওয়া, না যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি। সরকার কথা দিয়েছিল সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে। আমরা মনে করি না যে, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে। আমরা দেখছি, প্রতিনিয়ত বিশেষ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে, রাস্তাঘাটে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে, এসব বন্ধ না করা পর্যন্ত সুস্পষ্টভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত আমরা জানাব না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের প্রধান দাবি ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি, সেটা এখনো পূরণ হয়নি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ ফিরে আসবে। বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানি না করার প্রতিশ্রুতি কাগজে কলমে রয়ে গেছে। এখনো গ্রেপ্তার, মামলা অব্যাহত রয়েছে। এখনো পর্যন্ত সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। এ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এরপর নির্বাচনের অংশ নেয়ার বিষয়ে শুধু ২০ দল নয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সবার সঙ্গে সমন্বয় করে আজকালের মধ্যে জানানো হবে।
আজ রবিবারের মধ্যে জোটগতভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি ইসিকে জানাতে হবে, সেক্ষেত্রে ২০ দল কী করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল (অব.) অলি বলেন, আমরা ইসিকে দুভাবেই চিঠি দিব, যাতে সময় বাড়ানো হয়। তিনি বলেন, অবশ্যই নিবন্ধনভুক্ত যেসব দল আছে, তারা চিঠি লিখবে। চিঠির ভাষা এ রকম হবে, যদি আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি, সে ক্ষেত্রে আমাদের অনেকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন। আবার অনেকে জোটগতভাবে নির্বাচন করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল নির্বাচনে গেলে শরিক দলের কেউ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করবে, কেউ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে। এক্ষেত্রে এলডিপি তার নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। আর অনিবন্ধিত দলগুলোর প্রতীক হবে বিএনপির প্রতীক।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!