শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

একজন আবদাল মিয়া ও তাঁর তিন পা ওয়ালা ঘোড়ার গল্প



আলহাজ্ব মোঃ আবদাল মিয়া। বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আসন্ন বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। বিগত নির্বাচনের ন্যায় এবারের নির্বাচনেও তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাঁর বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর গ্রামে।

মোঃ আবদাল মিয়া

বিগত অবিভক্ত বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন মোঃ আবদাল মিয়া। তারপর ২০১৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বালাগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে ওসমানীনগরকে আলাদা একটি উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে অবস্থানগত ভাবে আবদাল মিয়া ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা হন। তবে, বালাগঞ্জে তিনি তাঁর মেয়াদের ৫ টি বছরই পূর্ণ করেন। এবারের ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আবারো বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। বালাগঞ্জের সচেতন মহল মনে করেন, তিনি যেহেতু ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা সেহেতু তিনি ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীতা করতে পারেন। শেকড়কে ভুলে না গিয়ে ওসমানীনগর উপজেলায় নির্বাচন করাই তাঁর জন্য উত্তম পন্থা হিসেবে মনে করেন বালাগঞ্জের সচেতন মহল।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বিগত ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আবদাল মিয়ার সাথে ওসমানীনগর থানা জামায়াতের আমির সাজিদ মোহাম্মদও প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু সেসময় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সাজিদ মোহাম্মদ তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেন। এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অবিভক্ত বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবদাল মিয়া। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আবদাল মিয়া ভুলে যান তাঁর বিজয়ের ইতিহাস টুকু। যাঁরা রাত-দিন খেটে জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিজয় নামক সোনার হরিণের হাসিমাখা মুখ তাঁকে দেখান, বিজয়ের পর তাদেরকেই ভুলে যান চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। জানা যায়, তিনি সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে উঠা বসা করেন।

আবদাল মিয়ার এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হন গত নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী জামায়াত নেতা সাজিদ মোহাম্মদ ও। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ইং তারিখে সাজিদ মোহাম্মদ আবদাল মিয়ার বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ ঝাড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাজিদ মোহাম্মদ মাটির মধ্যে শুয়ে থাকা তিন পা ওয়ালা একটি ঘোড়ার ছবি আপলোড করে ক্যাপশন হিসেবে লিখেছেন- ‘ওসমানীনগর থেকে বালাগঞ্জে গিয়ে’। এর বিশ্লেষণ হল- ওসমানী নগর থেকে বালাগঞ্জে যাওয়ার কারণে ঘোড়ার চারটি পায়ের মধ্যে একটি পা ভেঙ্গে গেছে, তাই এই ঘোড়া আর দৌড়াতে পারবে না। এই স্ট্যাটাসটি আপডেটের মধ্য দিয়ে সাজিদ মোহাম্মদ জানিয়ে দিলেন, আবদাল মিয়ার ঘোড়া আর দৌড়াতে পারবে না।

সাজিদ মোহাম্মদের এই স্ট্যাটাস নিয়ে এখন বালাগঞ্জের সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তার এই স্ট্যাটাসকে কপি করে অনেকে তাদের নিজেদের টাইম লাইনে শেয়ার করছেন।

তাই আবদাল মিয়া ও তাঁর ঘোড়া প্রতীকের সমালোচনা এখন ‘টপ অব দ্যা বালাগঞ্জ’।

ওসমানী নগরের বাসিন্দা হয়েও বালাগঞ্জে নির্বাচন করার বিষয়ে জানতে চাইলে একাধিক বার আবদাল মিয়ার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

প্রশ্ন হচ্ছে- আবদাল মিয়া ওসমানী নগরের বাসিন্দা হয়ে বালাগঞ্জে নির্বাচন করছেন। তবে কি আবদাল মিয়া তাঁর শেকড় ওসমানীনগরের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন? নাকি ওসমানী নগর উপজেলাবাসী আবদাল মিয়ার প্রতি ভরসাহীন?

কে দিবে এসব প্রশ্নের উত্তর?

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!