রবিবার, ২৬ জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামী হত্যার অভিযোগ



মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই। উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের আধকানী গ্রামের মৃত কয়ছর মিয়ার পুত্র কদরিছ মিয়া সোমবার কমলগঞ্জ থানায় এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি জানান, তার ভাই চার সন্তানের জনক শাহীন মিয়ার (৩৫) শশুরবাড়ী একই গ্রামে। শাহীন মিয়া ১৫/২০দিন আগে ২য় বিয়ে করায় তার স্ত্রী রোজিনা বেগমের সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় তিনি মামাতো ভাই ইসলাম মিয়ার বাড়ীতে অবস্থান করছেন। গত বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে সাতটায় স্ত্রী তাকে খবর দিয়ে নেন।

এসময় শাহীন মিয়ার দুই ছেলে তার সাথে ছিলো। তারা যাওয়ার পর পর স্ত্রী রোজিনা বেগম ইসলাম ও জমির আলীর নেতৃত্বে তার মামাতো ভাই আসলম মিয়া, কালাম মিয়া, লিয়াকত মিয়াসহ কয়েকজন মিলে শাহীনকে বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে মুমূর্ষু অবস্থায় তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে তারা একটি সিএনজি যোগে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে আসে।

পরে রাত প্রায় সাড়ে এগারোটায় জমির আলী ও ইসলাম মিয়া অচেতন শাহীনকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে ফেলে আসে। ইতোমধ্যে শাহীনের বড় ভাই কদরিছ মিয়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনা অবহিত করে শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে তাকে বেডে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পান। এবং দ্রুত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে রাত দশটায় শাহীন মৃত্যুবরণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্ত করে । ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় আধকানী কবরস্থানে শাহীনের দাফন সম্পন্ন হয়। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসার পরে তদন্তক্রমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার বিকালে সরজমিন নিহত শাহীনের বাড়ীর লোকজন ও এলাকাবাসীরসাথে কথা বলে জানা যায়, অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র ছেলে শাহীন খুব দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

অপরদিকে প্রতিপক্ষ স্ত্রী রোজিনা বেগম ইসলাম, জমির আলী, আসলম মিয়া, কালাম মিয়া, লিয়াকত মিয়া এরা একটি প্রভাবশালী মহলের ছায়াতলে বসবাস করে। এ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য পায়তারা চলছে বলে স্থানীয়রা জানান।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন জানান – তিনি বিষয়টি শুনেছেন, তবে শাহীন মিয়ার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে বিস্তারিত জানেন না। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তবে রোজিনা বেগমের মামাতো ভাই ইসলাম মিয়ার সাথে তার মোবাইল ফোনে কথা বলতে চাইলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!