মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ডের সফর নিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী



গতকাল রবিবার বিকেলে জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই তিন দেশ সফর নিয়ে লিখিত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহাসিক পরম্পরা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় এবং পরে আমাদের সহায়তা করেছে জাপান। এবারের সফরে আড়াইশ কোটি ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। জাপানের সঙ্গে মাতারবাড়ী, সাবরাং প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি আরো বলেন, বিদেশিদের জন্য সাবরাংয়ে ট্যুরিস্ট প্লেস করবে সরকার।
ওআইসির সম্মেলনে অংশ নেয়া সৌদি আরব সফরের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ওআইসি নেতৃবৃন্দের আমি আন্তরিক সাহায্য কামনা করেছি।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিতে চায় না মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা চুক্তি করেছি। সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাই চায় রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগও করছি। কিন্তু মিয়ানমার তাদের নিতে চায় না। এখানেই সমস্যা।

শীর্ষ সম্মেলনের সাইড লাইনে রোহিঙ্গা বিষয়কমন্ত্রী পর্যায়ের এডহক বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার আদায় মিয়ানমারকে উপযুক্ত জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য গাম্বিয়া কর্তৃক আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ওআইসির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের জন্য সম্মিলিত তাগিদ আসে।

ফিনল্যান্ড সফর নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ৪ জুন ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি সাওলি নিনিস্তোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। উভয় দেশ জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব মোকাবেলাসহ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করি। তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ফিনল্যান্ড খুব দক্ষ। বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছি। তাদের একটি দল আমাদের দেশে আসবে।
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জাপানের পর চীনের সহযোগিতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনও হবে। চীনের প্রেসিডেন্টের দাওয়াতে জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সামিটে যোগ দেব। বাংলাদেশ-চীনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সবাই সম্মান করেন। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় যারা ছাত্র ছিলেন, যুবক ছিলেন, আজ তাদের অনেকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে চীনের একটা আগ্রহ আছে। কাজেই সেদিক থেকে আমাদের একটি ভালো সম্পর্ক আছে।
নিজের ভিভিআইপি ফ্লাইটে বারবার সমস্যা সৃষ্টি ও বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের নিরাপত্তা বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি যখনই বিদেশ যাই, তখনই একটা করে নিউজ হয়। ফিনল্যান্ড থেকে আমাকে আনতে যাওয়া পাইলট পাসপোর্ট ভুলেই ছেড়ে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের ইমিগ্রেশন কি করে? দিনে দিনে ভিআইপি ও ভিভিআইপির সংখ্যা বেড়েই চলছে। আরো যত ‘ভি’ লাগুক না কেন সবাইকেই নিয়মের আওতায় আসতে হবে। এ ব্যাপারে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
জঙ্গি হুমকির ধরন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নানা নামে নানাভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের হুমকি দিতেই থাকে। সবটা বলে মানুষকে ভীত করতে চাই না। এগুলোর পেছনে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়ার, তা আমরা নিয়ে থাকি। এবার ঈদের আগেও তেমন হুমকি ছিল। ঈদের জামাত নিয়ে আমি খুব চিন্তিত ছিলাম। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব থেকে শুরু করে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। সেজন্য সুষ্ঠুভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।
জঙ্গিবাদ দমনে জনগণের সচেতনতাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যথেষ্ট সচেতন। সেজন্য জনগণের কাছে সব সময় আমার আবেদন, তারা যেন এ ব্যাপারে সজাগ থাকেন, সচেতন থাকেন।
লন্ডনে পালিয়ে থাকা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশে আগস্টের হামলায় আইভী রহমানসহ ২৮ জন মানুষ নিহত হন। শুধু একুশে আগস্ট নয়, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গেও যুক্ত সে (তারেক)। এসব ব্যক্তির জন্য আবার অনেকে মায়াকান্নাও করে। আমরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। আজ হোক, কাল হোক একদিন না একদিন তার শাস্তি কার্যকর হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তা চুক্তি নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করার দরকার নেই। আমাদের ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন হলে পানির জন্য কারো মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ইচ্ছামতো কিছু লিখতে পারেন না। বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশের একজন সম্পাদকের এমন সাক্ষাৎকারের বিষয়ে তিনি বলেন, কারো লেখায় আমি বাধা দেইনি। উনি যত খুশি লিখবেন, লিখছেন তো। হঠাৎ বলে ফেললেন, তিনি লিখতে পারছেন না। আমি তো মনে করি তিনি ফরমায়েশি লেখা পাচ্ছেন না। তিনি যদি চান যে ডিজিএফআই তাকে লেখা সাপ্লাই দিক, তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক। তখন তারা সাপ্লাই দেবে। এর বাইরে আমি কী বলব? অন্তত এটুকু বলতে পারি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকে কোনো কিছু লিখতে বাধা দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ওই সম্পাদক একবার একটি টেলিভিশনের টকশোতে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, কোনো মিথ্যা নিউজ দেয়া হয়েছিল বলে তাকে ধরেছিল কেউ। তখন তিনি বলছিলেন, আমি কী করব? ডিজিএফআই যেটা আমাকে দিয়েছে, সেটাই লিখে দিয়েছি। এখন ডিজিএফআই তাকে লিংক দিচ্ছে না। তার জন্য তিনি লিখতে পারছেন না। তিনি তো বলছেন, ফরমায়েশি লেখা লিখতে পারেন। কিন্তু আমরা তো ডিজিএফআইকে দিয়ে কোনো তথ্য দেয়াচ্ছি না। সে কারণেই হয়তো তিনি নিজেই লিখতে পারছেন না।

 

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!