শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ মাঘ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের পথ চলার আট বছর



৩১ ডিসেম্বর (২০২১) মানব ও প্রকৃতি কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের আট বছর (২০১৪-২০২১) পূর্ণ হলো। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি পারিবারিক ক্ষুদ্র সঞ্চয় দিয়ে যাত্রা শুরু হয় এ ফাউন্ডেশনের। আশার কথা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হলেও ইতোমধ্যে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন মানব ও প্রকৃতি কল্যাণে অনেকগুলো কাজ করেছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়া সে কাজগুলোর কথা প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া ও ফেইসবুকসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে বিভিন্নভাবে প্রচারিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সসেবরে শিরোনামগুলো এখানে উল্লেখ করা হলো। আশা করা যায়, এ থেকে ফাউন্ডেশনের বিগত আট বছরের পথ চলার তথা কার্যক্রমের একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের মানব ও প্রকৃতি কল্যাণ কার্যক্রমরে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিবেদনের শিরোনামসমূহ:

আনোয়ারা ফাউন্ডেশন: মানব ও প্রকৃতি কল্যাণধর্মী এক প্রতিষ্ঠান; আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের মুখ্য উদ্দেশ্য; গৃহপালিত পশুপাখির কল্যাণে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন; শহরে ও গ্রামে ছাদ কৃষিতে অনুপ্রাণিত করতে কাজ করছে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন; মানব ও প্রকৃতি কল্যাণে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের আহবান; ফলদ বৃক্ষরোপনে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন; আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিশ্বখাদ্য দিবস পালন; ধূমপান বিরোধী কার্যক্রমে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন; আসছে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা নির্বাচিত প্রাজ্ঞবচন; করোনা প্রাদুর্ভাব: খাদ্য সংকট মোকাবেলায় বাসা-বাড়িতে কৃষি উৎপাদনে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের প্রচার-প্রচারণা; আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে লাউ ও শিম বীজ বিতরণ; আনোয়ারা ফাউন্ডেশন পরিচালিত তিন প্রতিষ্ঠান; আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুরু হচ্ছে ফুল-ফল ও ভেষজ চারা বিতরণ কার্যক্রম; আগ্রহী পাঠকদের জ্ঞানমূলক বই বিতরণ করছে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন; পাখি শিকারে বিরত রাখতে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ; নির্বিচারে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টা; জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রচারণা চালাচ্ছে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন; নদী রক্ষা ও পানি দূষণ রোধে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের আহবান; আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের শিক্ষা সহায়তা উদ্যোগ; আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতকালীন শাক-সবজির বীজ বিতরণ।

‘স্মল ইজ বিউটিফুল’ এবং সব গাছই একদা বীজ ছিল’- এই আলোকে একেবারে ছোট থেকে শুরু এ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়- ১. আনোয়ারা হোমিও হল গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ; ২. রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগার এবং ৩. মরহুম আব্দুল মালিক হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালিত হচ্ছে। সেই সাথে ইতোমধ্যে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত হয়েছে বিশিষ্ট লেখক-গবেষক প্রফেসর নন্দলাল শর্মা সঙ্কলিত ও সম্পাদিত “সুবর্ণ লিপি (২০১৬), তরুণ লেখক ও উদ্যোক্তা আনিসুল আলম নাহিদ সঙ্কলিত ও সম্পাদিত “আনোয়ারায় উদ্বৃত প্রাজ্ঞবচন (২০১৮), আনিসুল আলম নাহিদ সম্পাদিত কৃষি বিষয়ক ছোটকাগজ “চাষাবাদ” (৩ সংখ্যা; যথাক্রমে- ১৪ এপ্রিল ২০১৮, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ এবং ১৪ এপ্রিল ২০১৯) এবং আব্দুর রশীদ লুলু সম্পাদিত শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা আনোয়ারা (সংখ্যা ৫১ ও ৫২)।

এছাড়া আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আগামীতে আসছে বই- দেশ-বিদেশের বিচিত্র প্রবাদ-প্রবচন, চাষাবাদ সমগ্র, প্রথম লেখা প্রথম বই, হোমিওপ্যাথি, আনোয়ারার ইতিবৃত্ত, আনোয়ারা সমগ্র, হোমিওপ্যাথি: আমি কেন ভালোবাসি, হোমিও রথী-মহারথী, চাষাবাদ বিষয়ক টুকিটাকি, নির্বাচিত প্রাজ্ঞবচন ইত্যাদি এবং ছোটকাগজ- হোমিও আলো, কৃষি আলো এবং মানব ও প্রকৃতি কল্যাণ বার্তা।

বিগত দিনের পথচলার আলোকে পরিচালকের দায়িত্বে থাকা কম্পিউটার প্রকৌশলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ লেখক ও উদ্যোক্তা আনিসুল আলম নাহিদ আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের একটি অত্যাধুনিক ওয়েবসাইট খোলার বিষয়ে কাজ করছে। যেখানে ফাউন্ডেশনের পরিচিতি ও যাবতীয় কার্যক্রম তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে অবশ্য এ ফাউন্ডেশনের একটি ফেইসবুক পেইজ (ভন/ধহধিৎধভড়ঁহফধঃরড়হ) চালু রয়েছে। যেখানে এ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সীমিত আকারে তুলে ধরা হচ্ছে।

আনোয়ারা ফাউন্ডেশনে কাজ করতে গিয়ে আমাদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেকে উৎসাহ-উদ্দীপনা জাগিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে আবার বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করছেন। এমনকি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপও করছেন। এক উচ্চ শিক্ষিত ও চাকুরীজীবি (যার স্ত্রীও চাকুরীজীবি অর্থ্যাৎ স্বচ্ছল জীবনের অধিকারী) উপহাস করছেন- ফাউন্ডেশন যখন আমাদের টাকা দাও। এ প্রসঙ্গে আরেকজনের কথা বলতে হয়, যিনি নিজেকে সবজান্তা ও সকল কাজের কাজী ভাবেন, আর কথায় কথায় সমাজসেবার বাণী দেন অর্থাৎ মুখে মুখে সমাজসেবা করেন। তিনি মানব ও প্রকৃতি কল্যাণে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের ৫০ আহবান সম্বলিত লিফলেট দেখে সরোষে চোখ ফিরিয়ে নেন এবং স্বজ্ঞানে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের নাম উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকেন।

যাহোক ফাউন্ডেশনে আমাদের তিনজন সহযোগির নাম এ প্রসঙ্গে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে হয়। যারা প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। তারা হলেন- অনুজপ্রতীম মো.মতিউর রহমান (ভূরকী, বিশ্বনাথ), মো. সুহেল মিয়া (দক্ষিণ গৌরীপুর, বালাগঞ্জ) এবং ফনিন্দ্র কুমার দাশ (তেঘরিয়া, বালাগঞ্জ)। এছাড়া নেপথ্যে মরহুমা আনোয়ারা বেগমের পুত্রবধূ যোবায়েদা বেগম নিরবে-নিভৃতে দিনরাত কাজ করছেন। উল্লেখ্য, আনোয়ারা ফাউন্ডেশনে কাজ করতে গিয়ে আশ্চর্য্যের সাথে আমরা এ-ও লক্ষ্য করেছি বিনা টাকায় কিংবা অল্প টাকায়ও চাইলে অনেক ভালো কাজ করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা। বলাবাহুল্য, এ যাবৎ ফাউন্ডেশনের জন্য আমরা পরামর্শ সহযোগিতা ছাড়া কারো কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা কিংবা দান-অনুদান গ্রহণ করিনি। শুধুমাত্র স্থানীয় একজন কৃষকের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে কিছু সবজি বীজ গ্রহণ করেছি এবং তা সাথে সাথে আগ্রহী কৃষকদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছি।

উদ্যোক্তা পরিবার ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্বান্ত অনুযায়ী ক্রমে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনকে একটি স্থায়ী ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে মরহুমা আনোয়ারা বেগমের নিকট আত্মীয়-স্বজনসহ দেশ-বিদেশের মানব ও প্রকৃতি কল্যাণকামী সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা বিনীতভাবে কামনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিগত শতাব্দীর ষাট দশকের মধ্যভাগে অকালে মৃত্যুবরণকারী গ্রাম বাংলার এক দু:খী নারী আনোয়ারা বেগমের নামে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন, যেটার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো মানব ও প্রকৃতি কল্যাণধর্মী কাজের মাধ্যমে তাঁর স্মৃতি রক্ষা ও মাগফেরাত কামনা এবং সেই সাথে সুস্থ-সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণে যথাসাধ্য ভূমিকা রাখা।

বলা দরকার, আট বছরের পথচলার অভিজ্ঞতায় আমাদের আশাবাদ অনেক দৃঢ় হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ সবার পরামর্শ ও সহযোগিতায় আনোয়ারা ফাউন্ডেশন তার লক্ষ্যে অটল থেকে একদিন একটা স্থায়ী ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। হ্যাঁ সেই উদ্দেশ্য সামনে রেখে চলবে আমাদের আগামীর পথচলা।

লেখক, সম্পাদক – আনোয়ারা (শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা)।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!