রবিবার, ২২ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আব্দুর রশীদ লুলু

খন্ড খন্ড ভাবনা



হোমিওপ্যাথি
১৯৯১ সাল থেকে মহাত্মা স্যামুয়েল হতে শুরু করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লেখকের বইপত্র ঘাটাঘাটি ও বাস্তবে প্রয়োগ কার্যক্রম লক্ষ্য করে মনে হচ্ছে বিজ্ঞান ও শিল্পের সমন্বয়ে হোমিওপ্যাথি চমৎকার এক চিকিৎসা পদ্ধতি। নিঃসন্দেহে মানবজাতি তথা সৃষ্টিকূলের কল্যাণে আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত হোমিওপ্যাথি।

পঞ্চাশ পেরিয়ে
পঞ্চাশ পেরিয়ে এখন কোনো প্রতিষ্ঠানের পদ-পদবীর প্রতি আমার লোভ নেই। বরং ধর্ম পালন, অধ্যয়ন অনুশীলন, কৃষি ও হোমিওপ্যাথি চর্চায় আগ্রহ বেশি। এসবে কর্মব্যস্ত জীবন যাপনই আমার প্রিয় এবং কাম্য।

সরাও তোমার প্রলোভন অথবা …
চাঁদ-সূর্য্যের আলোয় এবার আমি/সীমিত সামর্থ্য নিয়ে/নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে/ইচ্ছে মতো মেলে দেবো নিজেকে/সরাও তোমার প্রলোভন/অথবা সর তুই প্রতারক।

নাও ওর নেবার
সকল কাজে চাই, আরো বেশি গতি। এমনিতে ভুলেভুলে অনেক সময় চলে গেছে। যা কিছু করার সর্বশক্তি দিয়ে এখনই করে নেয়া চাই। করছি করব করে দেরি করা কিংবা আরো বেশি ঘুমানো হবে মারাত্মক ভুল।

ডা.জহুরুল ইসলাম এবং …
এলোপ্যাথি থেকে হোমিওপ্যাথিতে রূপান্তরিত কবি সাহিত্যিক-সাংবাদিক ডা. জহুরুল ইসলাম হোমিওপ্যাথির দর্শন, নীতিমালা ও প্রয়োগ পদ্ধতির চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন বিভিন্ন লেখায় ও কেসহিষ্ট্রি উপস্থপনায়। প্রাঞ্জল রচনাশৈলী। সুযোগ পেলেই আমি তাই তাঁর লেখা-হোমিওপ্যাথি: দর্শন ও বিজ্ঞান, অভিজ্ঞান হোমিওপ্যাথি, অভিজ্ঞতার পঞ্চাশ বছর বইগুলো পড়তে চাই। প্রত্যেক হোমিওপ্যাথেরও এ বইগুলো পড়া জরুরী মনে করি।

অতীত-ভবিষ্যত
পেছনে ফিরে দেখি, অতীত আমার ভুলে ভরা। আপন মনে মাঝেমাঝে তাই আওড়াই- ‘ভুলের সাজা পাচ্ছি জানি গুণে-গুণে/ভয়ে মরি এতো ভুল এক জীবনে।’ তারপরও ভাবছি, অতীত ভুলে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতে যাত্রা প্রয়োজন।

জীবনের অবগাহন
নানা ভুল-ভ্রান্তি, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির মধ্যে জীবনের সিংহভাগ সময় কাটিয়ে এখন মনে হচ্ছে, জীবনের প্রকৃত অবগাহন চাই-ধর্ম, হোমিও, কৃষি আর শিল্প-সাহিত্যের জলাশয়ে।

বৈচিত্র্য-স্বাতন্ত্র্য
বৈচিত্র্য পিয়াসী আমি আমার সব কাজ-কর্মে চাই বৈচিত্র্য-স্বাতন্ত্র্য। কৃষি বিষয়ক লেখালেখিসহ আমার সব লেখালেখি তথা কাজ-কর্মের সব কিছুতেই আছে বৈচিত্র্য -স্বাতন্ত্র্য, যা আমার খুবই প্রিয়। আমি আমার কাজ-কর্মের কোথাও কাউকেই সরাসরি অনুসরণ করতে চাই না। বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে এতেই আমার অনাবিল আনন্দ ও সুখ।

হৈ চৈ ক্লান্তি আনে, কিন্তু …
হৈ চৈ ক্লান্তি আনে, কিন্তু ধীর-স্থির মস্তিষ্কে পরিকল্পিত কাজ জীবনে প্রশান্তি আনে। রবীন্দ্র জীবন ও সাহিত্য অধ্যয়ন করতে গিয়ে বিষয়টি আমার উপলব্ধিতে আসে। উল্লেখ্য এ ক্ষেত্রে রাজীব স্মৃতি গ্রন্থাগারের রবীন্দ্র কর্নার (যেটাকে আমরা রবীন্দ্রচর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে দাঁড় করাতে চেষ্টা করছি) বিশেষ সাহায্য করেছে। রবীন্দ্রনাথে হৈ চৈ নেই, বরং ধীর-স্থির মস্তিষ্কে আছে পরিকল্পিত কাজ।

মানব ও প্রকৃতিকল্যাণে
যা কিছু করি না কেন, সবকিছুতেই চাই মানব ও প্রকৃতি কল্যাণ। হাসি-টাট্টা, আড্ডা-বিনোদনে নয়, মানব ও প্রকৃতি কল্যাণে এখন থেকে জীবনটা হোক নিবেদিত। লেখালেখি ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল কাজে মানব ও প্রকৃতি কল্যাণের সুর ভেসে উঠুক- মনে প্রাণে এ আমার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা। তাই মানব ও প্রকৃতি কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা ফাউন্ডেশন বলা যায় এখন আমার ধ্যান-জ্ঞান। এসবে কর্মব্যস্ত কাটুক বাকী জীবন।

লেখক: সম্পাদক – আনোয়ারা (শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা)।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!