রবিবার, ২২ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হাবীব নূহ

লোকটির জন্য জান্নাতের জান্নাত প্রার্থনা



বেহেশত ও দোযখ। স্বর্গ ও নরক। যাই বলা হোক না কেন, সচেতন মানুষ কিন্তু একটিতে বসবাসে প্রত্যাশী এবং অপরটি থেকে পালিয়ে বাঁচতে আগ্রহী।
কুরআন ও হাদীসের সমৃদ্ধ ও সমুন্নত পরিভাষায় সেগুলোর নাম জান্নাত ও জাহান্নাম। জান্নাতের অধিবাসীগণ অফুরন্ত স্বাচ্ছন্দ্য এবং পরম সুখ নিয়ে সন্তুষ্ট আর পরিতুষ্ট হয়ে থাকবেন অনন্তকাল এবং জাহান্নামের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত চূড়ান্ত দুর্দশা আর অসহ্য যন্ত্রণায় হাহাকার করতে থাকবে।

জান্নাত ও জাহান্নামের মালিক তো মহান স্রষ্টা ছাড়া আর কেউ নন। জান্নাত ও জাহান্নামের স্বয়ং কোন সামর্থ নেই যে, তারা স্বেচ্ছায় যে কাউকে সেখানে ঢুকাতে অথবা বের করে দিতে পারবে।
সৃষ্টিকর্তা জান্নাত ও জাহান্নামের প্রবেশদ্বারে গার্ড বা পাহারাদারও নিয়োজিত করে রেখেছেন।
তবে স্রষ্টা জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যে এক ধরণের স্বয়ংক্রিয় বোধ ও চাহিদা যেন প্রোথিত করে রেখেছেন। তাই, জান্নাত ও জাহান্নাম কখনো কখনো স্রষ্টার কাছে তাদের চাহিদার কথা তুলে ধরে অথবা প্রার্থনা করে।

নিচের—সম্পূর্ণ নির্মল হাদীসটি জান্নাত ও জাহান্নামের সেরকম কামনা ও প্রার্থনার জ্ঞান ও তথ্য দিচ্ছে। স্বচ্ছ এ হাদীস অনুধাবন করে আমল করতে পারলে অকল্পনীয় জাহান্নামের যাতনা থেকে পরিত্রাণ আর কল্পনাতীত সুন্দর জান্নাত লাভে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

হাদীসঃ

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ ‏.‏ وَمَنِ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিআল্লাহু আনহু হতে বিবৃত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে জন জান্নাত চেয়ে আল্লাহর সমীপে তিনবার প্রার্থনা করে জান্নাত তখন বলে, হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন। আর যেজন জাহান্নাম হতে পানাহ (আশ্রয়) চেয়ে তিনবার প্রার্থনা করে, জাহান্নাম তখন আল্লাহর কাছে বলে, হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দিন।
( সূনান আত তিরমিযীঃ ২৫৭২)

বিশ্বাসীদের কত সৌভাগ্য যে, বিশ্বাসীরা যখন জান্নাতের দুআ করে, জান্নাত তখন স্বপ্রণোদিত হয়ে জান্নাতের দুআ করে স্রষ্টার কাছে, জান্নাত-প্রার্থীর জন্য।ঠিক একই ভাবে জাহান্নাম জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি চেয়ে দুআ করে জাহান্নাম থেকে আশ্রয়ার্থীর জন্য।
উপরে বর্ণিত হাদীসের আলোকে তিন বার করে এ ভাবে দুআ করা যেতে পারে :

اَللّٰهُمَّ إنِّيْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَسْتَجِيْرُ بِكَ مِنَ النَّارِ

দুআ’র বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্নী আছআলুকাল জান্নাতা ওয়া আছতাজীরু বিকা মিনান নার।

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই।

অথবা আরবিতে এভাবেও বলা যেতে পারে :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

দুআ’র বাংলা উচ্চারণ:

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউযুবিকা মিনান নার”

অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।

বস্তুত,আলোচিত উপরের হাদীসটি অবাধ, বন্ধনমুক্ত, শর্তহীন, মুক্ত, উন্মুক্ত এবং অবারিত। যার কারণে নিচের সুবিধাগুলো লাভ করা যাবে :

(ক) সকাল-সন্ধ্যার কোন শর্ত নেই হাদীসে। তাই যে কোন সময় ঐ দুআ করলে হবে।

(খ) আরবি বা নির্দিষ্ট কোন ভাষার শর্ত নেই। তাই আপন আপন ভাষায় ঐ দুআ করলে হবে।

(গ) হাদীসে আরবিতে দুআ’র নির্দিষ্ট কোন বাক্য শিখানো হয়নি। তাই, আরবিতে ঐ দুআ করতে চাইলে—যে কোন বাক্যে বা শব্দে ঐ দুআ করলে চলবে।

(ঘ) এই হাদীসে প্রতিদিনই ঐ দুআ করতে হবে—তেমনি কোন উল্লেখ নেই।
তবে অন্যান্য হাদীসের মর্ম ও উপলব্ধি থেকে বলা যেতে পারে যে, প্রায় প্রতিদিন তিনবার করে জান্নাত লাভ আর জাহান্নাম থেকে মুক্তির দুআ করাই শ্রেয়।
কার্যত, বিশ্বাসীর দুআ হোক কিংবা জান্নাতের নিবেদন হোক অথবা জাহান্নামের চাওয়া হোক, কখন কার প্রার্থনা মঞ্জুর বা গ্রহণ করা হবে—কে জানে।তা কেবল স্রষ্টারই মর্জি।

পরিশেষেঃ

اَللّٰهُمَّ إنِّيْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَسْتَجِيْرُ بِكَ مِنَ النَّارِ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

লেখক: মুফতি

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!