সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

আব্দুর রশীদ লুলু

চাষাবাদ বিষয়ক টুকিটাকি -১৮



 ছাদে চাষাবাদ করা নানাভাবে লাভজনক। এ ক্ষেত্রে গাছ নির্বাচনে যত্মবান হতে হয়। সাধারণত: ছাদে বিভিন্ন ধরণের ফল-ফুল ও শাক-সবজির চাষাবাদ করা হয়। ফল গাছের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হয় গাছ যেন ছোট আকারের হয় অথচ ফল যেন বেশি ধরে। এ সুবিধা পেতে অনেকেই ছাদে হাইব্রিড জাতের গাছ লাগাতে বলেন। এ ছাড়া বীজের চারার চেয়ে ছাদে চাষাবাদে কলমের চারা লাগানো ভালো। কলমের চারা সাধারণত: বেটে থাকে এবং অল্প সময়ে ফলন দিয়ে থাকে। ছাদে চাষাবাদে সাধারণত: টব এবং হাফ ড্রাম ব্যবহার করা হয়। উল্লেখ্য, হাফ ড্রাম ব্রবহার করলে তলদেশে কিছু ছিদ্র রাখতে হয়। ছিদ্র করার পর ড্রামের ভেতরে এক ইঞ্চি পরিমাণ গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। এরপর সার মিশ্রিত মাটি দিয়ে নিয়ম মাফিক নির্বাচিত গাছ রোপণ করতে হবে।

 দেশের দীর্ঘ মেয়াদী ফল কুল চাষাবাদে সময়মত গাছের অঙ্গ ছাটাই একটি অত্যাবশকীয় কাজ। প্রতি বছর ফল সংগ্রহের পর এটা করতে হয়। কুল গাছের অঙ্গ ছাটাইয়ের ভালো পদ্ধতি হলো গাছের শক্ত ও মজবুত শাখা গুলোর গোড়ায় না কেটে অন্তত: এক হাত পরিমাণ রেখে কাটা/ছাটাই করা। অঙ্গ ছাটাইয়ের পর নতুন শাখা বের হলে সুস্থ-সবল ৩/৪ টি প্রাথমিক শাখা রেখে বাকিগুলো ভেঙ্গে ফেলতে হবে। উল্লেখ্য সময় মতো অঙ্গ ছাটাইয়ের ফলে কুলের ফলন অনেক বেড়ে যায়। অবশ্য এর সাথে কুল গাছের উপযুক্ত পরিচর্যা ও গাছে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস খেলে যায়, ভালো ফলনের জন্য সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। এছাড়া কুলের বাগানে বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি চাষাবাদ করে অনায়াসে কুল বাগানের মাটি ও প্রয়োগকৃত সারের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। যা নি:সন্দেহে লাভজনক।

 জনপ্রিয় সবজি শিম চাষাবাদে লক্ষ্য রাখতে হবে, গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে। পানি জমলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় গাছের গোড়া পচে যাবে। এ ছাড়া শিম চাষাবাদে অন্যতম সমস্যা হলো ঝাঁইয়া পোকার উৎপাত। এই পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে অনেক অভিজ্ঞ কৃষক/কৃষাণী চুলার ঠান্ডা ছাই সকাল বেলায় শিমের ঝাড়ে ছিটিয়ে থাকেন। অনেকে বলে থাকেন- ‘শিম গাছে বাসী মুখে ছাই ছিটালে, ঝাঁইয়া পোকার আক্রমণ কমে।’ বাসী মুখের হয়তো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবে সকাল বেলা ঠান্ডা ছাই প্রয়োগে বাস্তবে ফলাফল পাওয়া যায়।

 বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় পানীয় চা চাষাবাদে দরকার এমন উঁচু টিলা যেখানে পানি জমে না এবং বর্ষায়/বন্যায় পানি ওঠে না। প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এমন অঞ্চল চা চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। এ ছাড়া চা গাছ প্রখর সূর্য্যতাপে ভালো হয় না। ফলে চা বাগানে ছায়া বৃক্ষ রোপণ করতে হয়। অনুকূল পরিবেশ ও আবহাওয়ার জন্য দেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে চা চাষাবাদ হচ্ছে অনেক কাল ধরে। যদিও বর্তমানে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাশাপাশি পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চা চাষাবাদ হচ্ছে এবং নতুন নতুন এলাকায় চা চাষাবাদে সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 আখ চাষাবাদে একটা সমস্যা হলো গাছ বড় হওয়ার পথে বাতাস এবং ঝড় বৃষ্টিতে হেলে পড়ে। হেলে পড়া থেকে গাছকে রক্ষা করতে অভিজ্ঞ কৃষক/কৃষাণী দুই সারির আখ গাছকে একত্রে ঝাড় করে বেঁধে দেন। এতে আখ গাছ খাড়া থাকে, সহজে হেলে পড়ে না। উল্লেখ্য, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, হেলে পড়া আখ গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, গাছে পার্শ্বকুশি গজায় এবং আখের ওজন কমে যায়। ফলে চিনির পরিমাণ কমে যায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আখ গাছ মারাও যায়।

 চাষাবাদে ব্যয় সংকোচন করতে ভুট্টা, বেগুন, মরিচ এবং এই জাতীয় গাছের মেয়াদকাল (উৎপাদনকাল) এর শেষ পর্যায়ে এ সবের ফাঁকে ফাঁকে করলা, বরবটি এবং এই জাতীয় হাল্কা লতার সবজির চাষাবাদ করা যেতে পারে। নতুন রোপণকৃত এই সব গাছ বেড়ে ওঠতে ওঠতে পুরাতন অর্থাৎ ভুট্টা, বেগুন, মরিচ প্রভৃতির উৎপাদনকাল শেষ হয়ে যাবে। তখন এই সব গাছ-গাছড়া নতুন সবজির জাংলা হিসেবে আপনা আপনি ব্যবহৃত হবে। এতে চাষাবাদে কৃষক/কৃষাণীর সময় এবং জাংলা খরচ সি:সন্দেহে সাশ্রয় হবে।

 চাষাবাদে আগাছার দিকে সযত্ন দৃষ্টি রাখতে হয়। আগাছা সর্ব প্রকার চাষাবাদের জন্য ক্ষতিকর। আগাছা জন্মালে তা নির্মূল/অপসারণ করতে কৃষক/কৃষাণীর অনেক সময় ও টাকার অপচয় হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আগাছা নির্মূলে কিছু কলা-কৌশল গবেষক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা দিয়ে থাকেন। তা হলো- আগাছার বীজ হওয়ার আগেই আগাছা সমূলে দমণ/তুলে ফেলা। কেননা, আগাছার বীজ হলে পরে তা স্বাভাবিক ভাবে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে তা আরো বেশী হারে গজায়। এ ছাড়া দেখা গেছে আগাছার বীজ মাটিতে পড়ে গেলে অনেক সময় ২/৪ বছর পরেও গজায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগাছা শিকড় বা কান্ড থেকেও পুনরায় গজাতে দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে আগাছার শিকড় ও কান্ড তুলে ফেলার চেষ্টা করা উচিৎ।

লেখক: আব্দুর রশীদ লুল, সম্পাদক – আনোয়ারা (শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা)।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!