শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কলকাতার দর্শনীয় ৫টি স্থান।। আনিসুল আলম নাহিদ



সমৃদ্ধ ইতিহাস, বাঙ্গালী সংস্কৃতি ও আধুনিকতার মিশেলে দারুণ এক শহর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতা। সুস্বাদু খাবার ও আতিথেয়তার জন্য বহুল পরিচিত এই শহর দর্শনার্থীদের বিমোহিত করে। আপনি যদি নিকট ভবিষ্যতে কলকাতা ভ্রমণের পরিকল্পনা করা থাকেন তাহলে বিশেষ এই ৫টি স্থান ঘুরে আসতে ভুলবেন না।

১. হাওড়া ব্রিজ: আপনি যখন কলকাতার বিখ্যাত স্থানগুলি সন্ধান করবেন, তার মধ্যে প্রথমদিকেই থাকবে বিশ্বের চতুর্থ ব্যস্ততম ক্যান্টিলিভার সেতু, হাওড়া সেতু। হুগলি নদীর উপর নির্মিত সুপরিচিত স্মৃতিস্তম্ভটি কলকাতার প্রবেশদ্বার হিসাবে কাজ করে। এই সেতুটি নদীর পূর্ব ও পশ্চিম দিককে সংযুক্ত করেছে। এই নান্দনিকভাবে অত্যাশ্চর্য সেতুটির নির্মাণ শুরু হয় ১৯৩৯ সালে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্মানে ১৯৬৫ সালে এর নামকরণ করা হয় রবীন্দ্র সেতু। প্রতিদিন প্রায় ৯০,০০০ হাজার যানবাহন এবং শত শত লোক এই সেতুটি অতিক্রম করে। রাতের বেলায় আলো পড়লে ব্রিজটিকে ঐশ্বর্যময় দেখায়, যা পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়। পর্যটকরা লঞ্চ ঘাট থেকে নৌকা ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, যা আপনি রাতে কলকাতা শহরে দেখতে চাইলে মিস করবেন না। শীতের সকালে কুয়াশা জমে সেতুটিকে ভয়ঙ্কর সুন্দর করে তোলে।

২. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল: কলকাতা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল । এই ভবনটি অনন্য সুন্দর সাদা মার্বেল থেকে দুর্দান্তভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি ল্যান্ডমার্ক স্ট্রাকচার যার চারপাশে মূর্তি সহ একটি সুরভিত সুন্দর বাগান রয়েছে। রাণী ভিক্টোরিয়াকে সম্মান জানাতে স্মৃতিসৌধটি ১৯০৬-১৯২১ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি তখন থেকে একটি মনোরম জাদুঘরে পরিণত হয়েছে যেখানে ২৫টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির জমকালো গ্যালারী রয়েছে যেখানে প্রাচীন ধন সম্পদের একটি অনন্য সংগ্রহ রয়েছে। ইন্দো-সারাসেনিক পুনরুজ্জীবনবাদী শৈলীর ভবনটিতে ব্রিটিশ স্থাপত্যসহ মুঘল, ভেনিসীয়, মিশরীয়, ইসলামিক এবং দাক্ষিণাত্য সহ অন্যান্য অঞ্চলের স্থাপত্যরীতি চোখে পড়ে। যখন এই স্মৃতিসৌধটি রাতে আলোকিত হয়, তখন এটি অত্যাশ্চর্য দৃশ্য প্রদান করে। এছাড়াও, রাত্রিকালীন সাউন্ড এবং লাইট ডিসপ্লে আনন্দ পিপাসু কেউ মিস করতে চাইবে না, যা আপনার সময়কে আরও উপভোগ্য করে তুলবে।

৩. দক্ষিণেশ্বর মন্দির: দক্ষিণেশ্বর মন্দিরটি কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত স্থান, যেখানে আপনি যে কোনও উৎসব উপলক্ষে এর প্রাঙ্গনে নিজেকে খুঁজে পাবেন! মন্দিরের স্থাপত্যের কারুকার্য মনোমুগ্ধকর। কালী দেবীর তীর্থস্থানটির আয়তন প্রায় ২৫ একর। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যেকোন ধর্মীয় উৎসবে এই মন্দিরে আগমণ করেন। এমনকি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছেও দক্ষিণেশ্বর মন্দির একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ স্থান।

৪. মার্বেল প্যালেস: ১৮৩৫ সালে রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক দ্বারা নির্মিত হয় এই প্যালেস। প্রাসাদটি দুগ্ধ স্বরূপ সাদা মার্বেল দিয়ে নির্মিত বলে এটি মার্বেল প্যালেস নামে খ্যাত। প্রাসাদটির ভিতর একটি ছোট চিড়িয়াখানাও আছে যা ভারতের প্রথম চিড়িয়াখানা। প্রাসাদটি সেই সময়কার বাংলার আভিজাত্যের সাক্ষ্য বহন করে। মার্বেল প্যালেসের ভিতর অভিজ্ঞ এবং বিখ্যাত শিল্পীদের দ্বারা অঙ্কনচিত্র দেয়ালে প্রদর্শিত আছে। বর্তমানে রাজপরিবারের বংশধরেরা এই মার্বেল প্যালেসে বসবাস করে। এই মার্বেল ‍প্যালেসের ঢোকার জন্য ২৪ ঘন্টা আগে থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজমের দপ্তর থেকে অনুমতি প্রয়োজন হয়।

৫. শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতন উপমহাদেশের অন্যতম শিক্ষা আবাস হিসেবে পরিচিত। শান্তিনিকেতনকে আলোকিত করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ট কবি ও এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বিশ্বভারতী কমপ্লেক্স এই শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত স্থানগুলোর মধ্যে একটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে রয়েছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায় এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন প্রমুখ। জায়গাটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং অনেক মন্দির, বাগান ইত্যাদি দ্বারা পরিবেষ্টিত।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন