শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আল্লামা হযরত নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী (রহ.)।। আব্দুর রশীদ লুলু



বৃহত্তর সিলেট তথা দেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হারিয়ে গেলেন। ইন্তেকাল করলেন হযরত আল্লামা হাফিজ নূর উদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.)। তিনি আমার অন্যতম প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁকে কাছে থেকে দূরে থেকে অনেকবার দেখার সুযোগ আমার হযেছে। সর্বশেষ দেখি ২০০৫ ইং সনের ১৮ ফেব্রুয়ারি। তখন তিনি ঢাকা থেকে বাড়ীতে এসেছেন। ক্যান্সার ধরা পড়েছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতাল (পি.জি) থেকে তাঁকে জবাব দিয়ে দেয়া হয়েছে। ঢাকার একটি হোমিও হল এর চিকিৎসা চলছে। সকাল বেলা আমি জনৈক সহযোগীকে নিয়ে তাঁকে দেখতে যাই। তিনি বিছানায় শুয়ে ছিলেন। তখন দর্শনার্থী খুব কম। আমরা সালাম দিলে তিনি সালামের উত্তর দেন, আমাদের সাথে মুসাফাহা করেন। আমরা সবিনয় দোয়া প্রার্থনা করি। বুঝা যাচ্ছিল, তাঁর কষ্ট হচ্ছে। তিনি ওঠে বসছিলেন আবার শুয়ে পড়ছিলেন। কিন্তু উহ-আহ্- কোন কিছু করছিলেন না। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, শ্রদ্ধেয় মাওলানা সা’দ উদ্দিন ভাদেশ্বরী হুজুরের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি (গহরপুরী রহ.) জীবনে কখনো কোনো দুঃখ-কষ্টে উহ, আহ্ করেননি।

আমরা সেদিন বেশ কিছু সময় তাঁর রুমে বসেছিলাম। চুপিচুপি তদারককারীর সাথে আলাপ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছিলাম। এক পর্যায়ে তদারককারী- তাঁর প্রিয় ভাতিজীর জামাই আমাদের আপেল খেতে দেন। সম্ভবত: সে আপেল তাঁর জন্য তাঁর কোনো ভক্ত-অনুরাগী এনে থাকবেন। আমি নিয়ামত মনে করে আগ্রহ সহকারে সেদিন আপেল খাই। আরেকবার তাঁকে দেখার প্রচন্ড আগ্রহ আমার ছিল। দেখতে যাবো যাবো করে লেখালেখি ও পেশাগত ব্যস্ততার জন্য আর যাওয়া হয়নি।

যা হোক, হযরত আল্লামা নূর উদ্দীন আহমদ গহরপুরী (রহ.) ছিলেন প্রখর মেধার অধিকারী। তিনি তাঁর ছাত্র জীবন ও কর্ম জীবনে মেধার ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার ১১নং দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের শিওরখাল মৌজার মোল্লা পাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত দ্বীনি পরিবারে ২৪ জুলাই ১৯১৯ ইং জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কৃতিত্বের সাথে সুলতানপুর আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি ১৯৫০ ইং সালে মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে টাইটেল পাশ করেন। টাইটেল পাশ করার পর বিশ্ববরেণ্য ইসলামী সিপাহ্শালার আল্লামা হযরত মদনী (রহ.) সহ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত আলীমের নিকট এক বছর তিনি ইলমে হাদীস ও ফেক্কাহ’র বিশেষ কোর্স সমাপ্ত করেন।

জানা যায়, আল্লামা নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী (রহ.) তাঁর প্রিয় শিক্ষক ও মুর্শিদ মদনী (রহ.)- এর নির্দেশে ১৯৫২ ইং সালে পাঙ্গাসিয়া আলিয়া মাদরাসা (বরিশাল)য় শায়খুল হাদীস পদে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শায়খুল হাদীস পদে সরাসরি নিয়োগ লাভ তাঁর ক্ষেত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
পাঙ্গাসিয়া আলিয়া মাদরাসায় যোগ্যতার সাথে দুই বছরের কিছু অধিককাল শিক্ষকতা করার পর তিনি বালিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসা (ফুলপুর, ময়মনসিংহ)’য় কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। তারপর তিনি নিজ এলাকা গহরপুরে চলে আসেন। ১৯৫৭ইং সালে প্রতিষ্ঠা করেন জামি’আ ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর মাদরাসা।

এ প্রসঙ্গে হযরত মাও. মুখলিছুর রহমান কিয়ামপুরীর কথা তুলে ধরা যায়- “জ্ঞাতব্য আল-জামি’আর প্রতিষ্ঠা পূর্ব ১৩৭৫ হিজরীতে জামি’আর প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম পরম শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষাগুরু শায়খুল হাদিস আল্লামা নূরুদ্দীন আহমদ গহরপুরী, তাঁর শ্বশুর জনাব মাওলানা আব্দুল খালিক সাহেব ও হযরত মাওলানা বশীরুদ্দীন (রহ.) শায়খে বাঘাসহ উলামায়ে কিরাম হযরত মদনী (রহ.)’র সাথে পবিত্র হজ্জব্রত পালনের মহান উদ্দেশ্যে মক্কা-মদীনায় যান। সেখানে হযরত গহরপুরী দু’আ ও পরামর্শ লাভের উদ্দেশ্যে নিজ দেশে একটি জামি’আ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খা তদীয় উস্তাদ ও মুর্শিদ মদনী (রহ.)’র দরবারে পেশ করেন। তাতে হযরত মদনী (রহ.) অতি আগ্রহে ও সন্তুষ্ট চিত্তে প্রত্যক্ষ সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
মহান রাব্বুল আ’লামীনের উপর ভরসা করে এবং দ্বীন দরদী জনগণের সাহায্য সহানুভূতির উপর ভিত্তি করে মুসলিম কৃষ্টি সভ্যতাকে বিকশিত করার উদ্দেশ্যে মুসলিম কিশোর ও যুবকদের পবিত্র ক্বোরআন-হাদীস তথা শরীয়তের ছহীহ ইল্ম শিক্ষা দানের লক্ষ্যে এবং সর্বোপরি হযরত মদনী (রহ.) থেকে আহরিত তাঁর জ্ঞান সম্পদকে বিশ্বের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে মদনী তথা দেওবন্দের ইল্মী সিলসিলাকে অব্যাহত রাখার মহান প্রত্যয়ে তাঁর নিজ গ্রামের পার্শ্বে এক উন্মুক্ত স্থানে গড়ে তুলেন ইল্মী জগতের বহি:প্রবাহ ‘জামি’আ ইসলামিয়া হুসাইনিয়া’। আমার বিশ্বাস, জামি’আ ইসলামিয়া হুসাইনিয়ার প্রতিষ্ঠা হযরত মদনী (রহ.)’র প্রত্যক্ষ সমর্থন ও রূহানী দু’আর সফল বাস্তবায়ন।

আল্লামা নূরুদ্দীন আহমদ সাহেবের দুর্বার সাহসিকতা, অশেষ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অদ্ভুত পরিশ্রম এবং ধর্মপ্রিয় মুসলমান দেশবাসীদের বিলোচিত সাহায্য-সহযোগিতার ফলস্বরূপ বর্তমান বৃহত্তর সিলেটের সর্ববৃহৎ ও উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ক্বওমী মাদ্রাসা জামি’আ ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর এক অতি সাধারণ অবস্থা থেকে খ্যাতির উচ্চ শিখরে উত্থিত হয়েছে।” (জামি’আ ইসলামিয়া হুসাইনিয়া, গহরপুর: একটি সংস্কার আন্দোলন- হযরত মাওলানা মুখলিছুর রহমান কিয়ামপুরী, “পয়গামে জামি’আ”, জানুয়ারি ১৯৯৬)

এ প্রসঙ্গে মরহুম হযরত মাওলানা নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী (রহ.)’র নিজের কথা তুলে ধরা যায়- “আজ আমার মনে পড়ে কুতুবুল আলম, সাইখুল ইসলাম সাইয়িদুল মুহাদ্দিসীন হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ হুসাইন আহমদ মদনী (রহ.) এর দু’আর কথা। তখন অত্র জামি’আ বাস্তব রূপ লাভ করেনি, যখন তিনি বিস্তর মাশায়েখ ও মুরীদীনসহ ইল্মে ওহীর প্রাণকেন্দ্র মদীনায়ে ত্বাইয়্যিবাতে বসে অধমের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে জামেয়ার জন্য দু’হাত তুলে আল্লাহ পাকের দরবারে দু’আ করেন। স্মৃতি পটে ভেসে আসে আমার মুহছিনে আ’যীম, জীবন পথের মহান দিশারী হযরত শায়খে বাঘা (রহ.) ও আমার নিত্য প্রবাহমান দোয়ার সাগর হযরত শায়খে রায়পুরী (রহ.) ও যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিছ হযরত আল্লামা বায়মপুরী (রহ.) এবং জামি’আর পরিবেশ সংগঠক হযরত শায়খে রেঙ্গা (রহ.) আরও অসংখ্য বুজুর্গানে দ্বীনের কথা, যাদের নিশিত রাতের ঝরঝর আঁখি জলে সঞ্চিত হয়েছে এই জামি’আর পাতা পল্লব।” (মুহতামীম সাহেবের বাণী ও দোয়া, “পয়গামে জামি’আ”, জানুয়ারি ১৯৯৬)

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইন্তেকালের পূর্ব পর্যন্ত জামি’আ ইসলামিয়া হুসাইনিয়া মাদ্রাসার মুহতামীমের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে তিনি পালন করেন। তাঁর জানাযা পূর্ব বয়ানে (২৭ এপ্রিল ২০০৫) জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসাই একমাত্র ব্যতিক্রম, যেখানে টাইটেল ক্লাস দিয়ে মাদ্রাসা শুরু হয়। তারপর ক্রমান্বয়ে নীচের ক্লাসগুলো চালু হয় এবং বর্তমানে নূরানী ক্লাসও চলছে।

ইসলামের একনিষ্ট সেবক ও দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম, দ্বীনদার বুদ্ধিজীবি হযরত আল্লামা নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী (রহ.) নভেম্বর ২০০৪ থেকে ডায়বেটিস, ক্যান্সার ও কিডনী রোগে ভোগে ২৬ এপ্রিল ২০০৫ ইং (১৩ বৈশাখ ১৪১২ বাং / ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪২৬ হি:) বিকাল ৪:১০ মিনিটে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বৃহত্তর সিলেটসহ দেশে-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। সিলেট শহরে আমি তাঁর ইন্তেকালের খবর পেয়ে অন্তরে কেমন শূন্যতা অনুভব করি। পায়ে হেঁটে ক্বীন ব্রীজ পার হতে গিয়ে লক্ষ্য করি, আকাশ অন্য রকম মেঘাচ্ছন্ন। ভাবি, এ কী আল্লাহর ওলী ও প্রিয় বান্দার বিদায়ে উর্ধ্ব জগতের ব্যথা-বেদনার প্রকাশ!

পরদিন সকালে দেখতে যাই শেষবারের মতো তাঁর চেহারা মোবারক। কিন্তু ততক্ষণে আলিম-উলামা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ জনতার ঢল নেমেছে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও আর তাঁর চেহারা মোবারক দেখা হয়নি। ক্রমান্বয়ে জনস্রোত বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ ও দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে তাঁর জানাযায় শরীক হই। জানাযায় প্রচুর মানুষের উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করে। জানাযার আগে পরে আমি শুধু অবাক চোখে বারে বারে মানুষ দেখেছি।

আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, ইসলাম ও মুসলমানের দুশমনদের বিরুদ্ধে গহরপুরী হুজুর সব সময়ই ছিলেন সোচ্চার। ইঙ্গ-মার্কিন জোট কর্তৃক ইরাক আক্রান্তকালীন গহরপুর মাদরাসা মসজিদে এক দোয়ায় আমি উপস্থিত ছিলাম। সেখানে দেখেছি ইসলাম, মুসলমান ও ইরাকের প্রতি তাঁর কী গভীর অনুরাগ! তিনি দীর্ঘ দোয়ায় আঁখি জলে বার বার ইসলাম, মুসলমান ও ইরাকের কথা বলছিলেন। তিনি অমায়িক ব্যবহার ও সুললিত কন্ঠের অধিকারী ছিলেন। সারা দেশে বিশেষত: ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণায় তাঁর প্রচুর ভক্ত-অনুরাগী ছিলেন। আমার এক চাচা দু’বার তাঁর সাথে ময়মনসিংহ সফর করেন। চাচার বর্ণনা অনুযায়ী হুজুর ঐ দূর পথে বসে নিরবে ধ্যান ও যিকিরে মগ্ন থাকেন।

আমি নিজে একবার তাঁর সাথে সিলেট শহর থেকে বাসে গহরপুর আসি। খুব সাধারণ পোষাক তাঁর পরণে ছিল। পায়ে পুরনো সাধারণ একজোড়া স্যান্ডেল। বিন্দুমাত্র জাঁক-জমক নেই। বাসে বসে তিনি খুব আস্তে ধীরে ভক্তদের সালামের উত্তর দিচ্ছিলেন এবং তাঁর দিকে স্বত:স্ফুর্তভাবে বাড়িয়ে দেয়া হাতে মোসাফাহা করছিলেন। আমি নিরবে বাসে বসে দেখছিলাম, এত বড় একজন বুজুর্গের সাধারণ জীবন যাপনের বিষয়।

প্রতি শনি-মঙ্গল বার তাঁর বাড়িতে অগণিত মানুষের ভীড় লেগে থাকত- পানি পড়া, তেল পড়া, দো’আ-তাবিজের জন্য। দূর-দুরান্ত থেকে মানুষজন আসত একটু শান্তির জন্য। আমি নিজেও স্বস্ত্রীক একাধিকবার গিয়েছি। রমজান মাসে তিনি গহরপুর মাদ্রাসা মসজিদে ইমামতি করতেন। তাঁর সাথে এ’তেকাফ পালনের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমান আসতেন। মসজিদ প্রায় ভরে যেত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা এলাকা তথা গহরপুর এলাকা অনেক উন্নতি লাভ করে।

তিনি ১৩টি ক্বওমী মাদ্রাসার মুহতামীমের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৯৬ ইং সাল থেকে দুই মেয়াদে বাংলাদেশ ক্বওমী শিক্ষা বোর্ড (বেফাক্ব)-এর চেয়ারম্যানের গুরু দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন। ২০০৫ ইং সালে শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি উক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী এডভোকেট সম্পাদিত মাসিক “তৌহিদী পরিক্রমা”র তিনি ছিলেন অন্যতম উপদেষ্টা।

জ্ঞান অর্জন ও লেখালেখি সম্পর্কে আল্লামা গহরপুরী (রহ.)’র বক্তব্য- “পবিত্র কোরআনে আল্লাহ কলমের কসম খেয়ে বলেন, কলম ছাড়া কোন জাতির উন্নতি হয় না। এ জন্য জ্ঞানার্জন করতে হবে। জ্ঞানের কথা লিখে রাখতে হবে। লিখে রাখতে হবে ইতিহাস। লেখকরাই ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে থাকেন। লেখা ছাড়া কোন জাতির ইতিহাস টিকে থাকতে পারে না।” (সুত্র: “সোনালী সকাল”, ডিসেম্বর ২০০০, পৃষ্ঠা-২১)। তাঁর এ লেখা পড়ে আমি উজ্জীবিত হই। আশার কথা, হোমিওপ্যাথি চর্চার পাশাপাশি এখনও আমার লেখালেখি অব্যাহত আছে।

তিনি কঠোর পরিশ্রম, সততা ও মেধার বিনিময়ে জীবনে খ্যাতি, সম্পদ ও মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা অর্জন করেছেন। একাধিকার পবিত্র হজ্জ্ব সম্পাদন ও বিদেশ সফর করেছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আল্লামা নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী (রহ.) জীবনে পাঁচটি বিয়ে করেন। ইন্তেকালের সময় তিনি চার স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তাঁর সুযোগ্য ছেলে মাও. মুসলেহুদ্দিন রাজু এখন গহরপুর জামি’আর মুহতামিম এর দায়িত্ব পালন করছেন।
আমার খুব ইচ্ছে ছিল, আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা হোমিও হল-এ তাঁকে আমন্ত্রণ জানাবো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। অন্যতম প্রিয় ব্যক্তিত্বকে প্রিয় প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর এ ব্যর্থতা আজীবন হয়তো আমি বয়ে বেড়াবো। তবে একটু সান্ত্বনার কথা, ইতোমধ্যে আমার সম্পাদিত “আনোয়ারা”(শিকড় সন্ধানী প্রকাশনা)য় তাঁকে নিয়ে কিছু লেখা (প্রবন্ধ/নিবন্ধ/কবিতা) প্রকাশের চেষ্টা করেছি এবং আরো কিছু লেখা প্রকাশের চেষ্টায় আছি। “আনোয়ারা”য় প্রকাশিত এসব লেখা নিয়ে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন থেকে তাঁকে নিয়ে একটি বই করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।
উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ, উস্তাজুল উলামা, ফখরুল মুহাদ্দিছিন, বাংলার গৌরব, বাংলার নয়নমণি, আধ্যাত্মিক গুরু প্রভৃতি অভিধায় অভিষিক্ত আল্লামা নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী (রহ.)কে মূল্যায়ন করা কিংবা তাঁর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরা অনেক কঠিন কাজ। আমার মতো ক্ষুদ্র লেখক ও ভক্তজনের পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাঁর সম্পর্কে আমার এ ক্ষুদ্র লেখায় যাবতীয় ভুলের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা চেয়ে মনে-প্রাণে তাঁর পরকালীন শান্তি কামনা করছি।

লেখক: ইসলাম ধর্ম, হোমিওপ্যাথি ও কৃষি বিষয়ক লেখক ও গবেষক।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন