বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনে নতুন কড়াকড়ি, নিজ দেশে ফিরতে হবে আবেদনকারীদের



ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এক নির্দেশনায় জানিয়েছে, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) সম্প্রতি জারি করা নির্দেশনায় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পরিবর্তন বা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব বিদেশি নাগরিক সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং গ্রিন কার্ড পেতে চান, তাদের নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রশাসনের দাবি, এর মাধ্যমে অভিবাসন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ কমে যাবে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করবেন। আবেদনকারীর ভিসার শর্ত মানা হয়েছে কি না, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করা হয়েছে কি না, অনুমতি ছাড়া কাজ করা বা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ‘ডুয়াল ইনটেন্ট’ সুবিধাপ্রাপ্ত কিছু ভিসাধারী সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও বৈধভাবে গ্রিন কার্ডের চেষ্টা করতে পারবেন। তবে এ ধরনের ভিসা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না বলেও সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠন। তাদের মতে, নতুন নিয়মের কারণে অনেক আবেদনকারীকে অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। বিশেষ করে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য এ নীতি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সহায়তাকারী সংগঠনগুলো।

ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন এ নীতির ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত অন্যান্য আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জনবল ও সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার যে উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছে, এই নির্দেশনা তারই অংশ। এর আগে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসা মেয়াদ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি চলতি বছরের শুরু থেকে এক লাখের বেশি ভিসা বাতিলের তথ্যও প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!