
ছবি :সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও অসহায় মানুষের সহায়তার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেট’ প্রকল্পটি বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটিতে প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দের তুলনায় প্রশাসনিক ও পরামর্শক ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় এটি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
জানা গেছে, পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির ব্যয় কাঠামো পর্যালোচনার সময় একাধিক আপত্তি ওঠে। বিশেষ করে মাত্র ৮ কোটি টাকার সহায়তা বিতরণের বিপরীতে ৫৩ কোটি টাকার প্রশাসনিক ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা। পরে প্রকল্পটি অনুমোদন না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল গণমাধ্যমকে জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া ওই প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পটি জার্মান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জিআইজেড) অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। মোট ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার এই প্রকল্পের ওপর চলতি বছরের ৫ জুলাই পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার নোটিশ জারি করা হয়েছিল ২৪ জুন। সভায় পরিকল্পনা কমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নগর একীভূতকরণ সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ এবং স্বাগতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান (ইন্টিগ্রেট)’ শীর্ষক প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত পরামর্শক নিয়োগ, বিদেশ সফর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এসব কারণে প্রকল্পটি অনুমোদনের অনুপযুক্ত বলে মত দেওয়া হয়।
সূত্র আরও জানায়, পিইসি সভার আগেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মধ্যে প্রকল্পটি বাতিলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। ব্যয় কাঠামোর অসংগতি এবং বিভিন্ন আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত এটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়।
যদিও পিইসি সভার আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ব্যয় কাঠামোর প্রকল্প অনুমোদনের সুযোগ নেই। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও প্রকল্পটি বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে ব্যয়ের তুলনায় আনুষঙ্গিক খাতে কয়েক গুণ বেশি অর্থ বরাদ্দ গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি প্রকল্পের সময় নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠায় অনুমোদনের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম ছিল।
প্রকল্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, খুলনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ জেলার ৩০০ জন অসহায় মানুষের ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অনুদান দেওয়ার কথা ছিল। মোট ৬১ কোটি ২৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বাজেটের মধ্যে সরাসরি উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৮ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। অবশিষ্ট ৫৩ কোটি ১৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা প্রশাসনিক ব্যয়, অফিস ভাড়া, পরামর্শক নিয়োগ এবং দেশ-বিদেশ সফরসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল।
প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি পরামর্শকদের জন্য প্রায় ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও অফিস ভাড়ার জন্য প্রায় ১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা, বিদেশ সফরের জন্য ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ সফরের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল।


