সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Sex Cams

ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে জেলেনস্কির সম্মতি, চুপ রাশিয়া



ছবি :সংগৃহীত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মস্কো।

ট্রাম্পের দাবি, জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বন্ধের যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে কী প্রক্রিয়ায় এই সমঝোতা হয়েছে কিংবা এর শর্ত কী, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ট্রাম্পের ঘোষণায় প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। পরে তিনি জানান, রাশিয়া সম্মত হলে ইউক্রেনও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরও ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলার অভিযোগ তোলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ। ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত। মস্কোও একই পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছে তাঁর সরকার।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

এদিকে ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তিনি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি যুদ্ধবিরতি দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পরও হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলেনস্কি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর এসব হামলার ঘটনা ঘটে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। রাশিয়ার বক্তব্য, ইউক্রেনের সামরিক অভিযানকে সহায়তা করে এমন স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দাবি, রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে তেল শোধনাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে মস্কোর যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের উৎস দুর্বল করতে চায় কিয়েভ।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংঘাতের প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি চুক্তি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। চুক্তির আওতায় রুশ জ্বালানি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়বে।

তবে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!