বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কবি ও কবিতা : রইস রহমান



কবি রইস রহমান

প্রবাস জীবনে শত কর্মব্যস্ততা সত্ত্বেও যারা মাতৃভাষার টানে স্বদেশ প্রীতিকে বুকে লালন করে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, নিজ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় নিজেকে ব্যস্থ রেখে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম কবি রইস রহমান ওরফে মোঃ রইস আলী।

তিনি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার পালপুর গ্রামে ৩১শে মার্চ ১৯৫৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম হাজী মহিব উল্লাহ এবং মাতার নাম মরহুমা আরিজুন নেসা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়র্কে সস্ত্রীক দুই পুত্র সন্তানসহ বসবাস করা কবি রইস রহমান সংসার জীবনে চার পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।

শিক্ষাগত জীবনে তিনি সুনামগঞ্জের ছাতকের মঈনপুর বহু মুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সহিত এস এস সি পাশ করে সিলেটের মদন মোহন বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। তার পর সিলেট এম সি বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রীতে অধ্যয়ন করেন।

পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের সাব- একাউনটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে মঈন পুর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। ১৯৮৫ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং  ১৯৮৭ সালে দেশে এসে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেন সুনামগঞ্জের ছাতক পালপুর জালালীয়া আলিম মাদ্রাসায় ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। তারপর ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছাতকের পীরপুর শুকুরুন্নেসা মেমোরিয়েল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তারপর ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আমেরিকায় বসবাসের জন্য পাড়ি জমান।

কবি রইস রহমান শৈশবকাল থেকেই ছিলেন ইতিহাস, সাহিত্য ও দর্শনের একনিষ্ঠ পাঠক। জীবনের নানা পেশা, নানা  শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে মেশা এসবই তাঁর লেখালেখি এবং নিজস্ব জীবন ভাবনায় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে।

যেহেতু পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখির প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। তাই বর্তমানে নিউয়র্কে শত ব্যবস্থার মধ্যে থেকেও নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে-বিদেশে জীবন যাপনের ফলে তাঁর কবিতায় একদিকে গ্রামীণ আবার অন্যদিকে কসমোপলিটান নগর জীবনের প্যারাডক্স ফোটে উঠেছে নানা অনুষঙ্গের ভেতর। তিনি একজন গীতি কবি-ও। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ “রূপ দরিয়ার মাঝি” (গীতি কাব্য) বেশ সাড়া জাগানো একটি গ্রন্থ।

অপরদিকে তাঁর অপ্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “আকাশ গঙ্গায় চাঁদের বাড়ি” (গীতি কাব্য) এবং “স্মৃতির বারান্দায়” (কাব্যগ্রন্থ )।

কবি রইস রহমানের কয়েকটি কবিতা –

স্বপ্নরা আমাকে তাড়া করে

আমি আগে কতো সুন্দর সুন্দর স্বপ্ন দেখতাম
ফুলের বাগানে বাগানে পাখি হয়ে উড়তাম
রাতের জোসনায় ভেসে যেতো মাঠের পর মাঠ
বিশাল প্রান্তর।
আমি আর ও কতো অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতাম
জোনাকীরা দল বেঁধে লুকোচুরি খেলছে
বাঁশ বাগানের গায়
কুয়াশায় ভিজে যাচ্ছে রাতের জোসনা
কারা যেন বাঁশির সুরে মাতিয়ে তুলছে
রাতের নীরব প্রহর।
সাইবেরিয়ার সব পাখি রাতের অতিথি হয়ে গেছে
কী সুন্দর মেলা বসেছে চাঁদের জোসনায়
ঝিঁ ঝি পোকা গান গাইছে
জোনাকীরা ফেরি করে বেড়াচ্ছে আলোর বাতি
আর এমনও রাতে ণূপুর পায়ে নাচছে
আকাশ পরির দল।

আমি এখনও স্বপ্ন দেখি, তবে তা কেমন অন্য রকম
কারা যেন তছনছ করে দিয়েছে আমার স্বপ্নের বাগান
ঘুমুতে না ঘুমুতেই স্বপ্নরা আমাকে তাড়া করে বেড়ায়
আমি দেখি ধোঁয়া উড়ছে আমার চারিপাশে
আগুনে পুড়ছে মানুষ, পুড়ছে ঘর বাড়ি সব
কারা যেন গুলি করে মারছে অতিথি পাখি গুলোকে
আমি এখন একটুও ঘুমুতে পারিনা
স্বপ্ন দেখতে ভয় লাগে আমার।

একটা সময় ছিল

সেই এমন একটা সময় ছিল
কতো যে আকুলতা ছিল
বুকের মাঝে
সারা বেলা কতো খেলা,কেটে যেতো ভালোবাসায়
রাত গুলো দীর্ঘ হতো, ভেসে যেত বিবাগী হাওয়ায়।
সকাল সাঁঝে
শুধু একটি বার এক পলক দেখার আশায়
কাছে বসে দুটো কথা ভালোবাসায়
শুনব বলে
বয়ে যেতো দখিনের কতো যে মিষ্টি হাওয়া
ঘাসের পাতায় ভোরে,কুয়াশার ঝরে যাওয়া।
দিন শেষ হলে
মিলিয়ে যেতো গোধূলির সেই রাঙ্গা আলো
ঢেকে যেতো আঁধারে রাতের প্রহর গুলো।

আজ ও পাখির ডাকে সূর্য ওঠে, রাত ও পোহায়
সন্ধ্যা মিলিয়ে যায়, নীড়ে ফেরা পাখির বাসায়।

আজ বিধ্বস্থ মানবতা

সহসাই থেমে গেছে সব কোলাহল
গভীর নীরবতায় আচ্ছন্ন চারিপাশ
এ যেন ঝড়েরই পূর্বাভাস
ঝড় বৃষ্টির আগে এমনই আঁধার, চুপচাপ হয়
অতঃপর সহসাই বিপুল শব্দে নেমে আসে
প্রলয়ঙ্করী ঝড়,কেঁপে ওঠে ধরণী,
শুরু হয় তাণ্ডব লীলা,ভেঙ্গে চুরে লণ্ড ভণ্ড করে,
তছনছ করে সজানো বাগান ,গোছানো ঘর বাড়ী
উপড়ে ফেলে , বাগানের সারি সারি গাছ।

ধর্মান্ধ, সন্ত্রাসী ঝড়ের তাণ্ডবে আজ কাঁপছে ভুবন
নুয়ে পড়ছে মানবতা,বিধ্বস্থ হচ্ছে সমাজ
ছিন্ন হচ্ছে স্নেহের বন্ধন,ভাঙছে ভালোবাসার প্রাসাদ
ভেঙ্গে চুরে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সূর্যের এই সুন্দর গ্রহ
মানুষের ভালোবাসার সাম্রাজ্য,
নিঃশেষ হচ্ছে অতীত,বর্তমান এবং স্বপ্নের পৃথিবী।

কি করে প্রতিহত হবে ভয়ঙ্কর দানবের নিষ্টুর তাণ্ডব
কি করে থামবে এই আক্রমণ পিশাচের!
কোথায় আছে সেই মহৌষধ,এমন মলম
যা সারিয়ে তুলতে পারে সমাজের দূরারোগ্য ব্যধি
মারাত্মক ক্ষত।

মানুষের প্রতি ভালোবাসাই বুঝি পারে কেবল বদলে দিতে সব,সারিয়ে তুলতে পারে সকল অবক্ষয়।

কোথায় হারিয়ে গেলো সুখ

 মনে ছিলো সুখ, পড়তাম গল্প উপন্যাস আর কাব্য
নদী ভরা ছিল জল, বয়ে যেতো স্রোত, ছিলো নাব্য।
নদীর বুকে ভাসতো নৌকো উড়িয়ে রঙিন পাল
জেলেরাও ধরত কতো মাছ ফেলে তাদের জাল।

বৃষ্টি হতো টাপুর টুপুর,ছিলো কতো ছন্দ
বুনো ফুলের গন্ধ, ছড়িয়ে দিতো আনন্দ।

ভোরের আলোয় নরম হাওয়া স্বপ্ন এঁকে দিতো
গাছের ছায়ায় বসতাম আনন্দে মন ভরে যেতো।
বিকেল বেলা মাঠে গিয়ে খেলতাম কতো খেলা
আনন্দে কেটে যেতো দিন, মনে খুশির দোলা।

কারা ছড়ায় সাম্প্রদায়িকতা, করে সন্ত্রাস
ধর্মান্ধ তারা সবাই, করে দেশের সর্বনাশ।
কে আজ পুড়িয়ে মারে মানুষ, জ্বালায় বাড়ি ঘর
ভাঙছে সুখের সংসার,কারা এই সব জঙ্গী বর্বর।

কতো আঁধার জমা হয়েছে হৃদয়ে সবার
ছিন্ন হচ্ছে সব বন্ধন মানুষের ভালবাসার।

পড়া হয় না গল্প কবিতা, গাওয়া হয় না গান
কোথায় হারিয়ে গেলো সুখ,আনন্দ হল ম্লান।

হাডসন নদীর তীরে

নিউ ইয়র্কেও ওঠে যে ওই বাংলাদেশের রবি
হৃদয় দিয়ে যত্ন করে আঁকতাম যে তার ছবি
এইখানেও বৃক্ষ- লতা সবুজ সারি সারি
শীতের সাথে সকল গাছের পাতা যে যায় ঝরি
এই নগরে ও ঝলমল করে সোনালি সেই রোদ
এইখানেতে রোদ পোহাবার জাগেনা কোনো বোধ
এখানে শীতের রোদে থাকেনা একটুও তাপ
এটা মেরু অঞ্চলের তীব্র শীতের অভিশাপ
শীতের বেলা বরফ জমে পড়ে কতো স্নো
অতি ঠান্ডায় জড়োসড়ো কাঁপে সবার মনও।

নীল আকাশে উড়ে পাখি ভাসে সাগর জলে
পাখির গানে সকাল বিকাল খুশিতে মন দোলে।

মাটির নীচে চলে সদায় অনেক সুন্দর গাড়ি
পাতাল নীচে তৈরী করছে নগর বন্দর বাড়ি
বিজ্ঞানীরা দূর আকাশে চালায় হাওয়ার গাড়ি
তাঁরা তিনজন গিয়েছিলো চাঁদের বুড়ির বাড়ি
জলের তলে যায় যে চলে, মণি মুক্তো তুলে
এই নগরে নারীরা সব রূপ ছড়িয়ে চলে।

রাত্র দিনে ছুটছে মানুষ কেউ তাকায় না ফিরে
অবসর কাটে পার্কে কিম্বা হাডসন নদীর তীরে।

ধন সম্পদ ছড়িয়ে আছে এই রাষ্ট্রটা জুড়ে
তাইতো সবাই ছোটে আসে সাত সমুদ্র উড়ে
নগর ভরা কতো যে প্রাসাদ ছুঁয়েছে আসমান
সাজিয়েছে অনেক আলোয় তাদের জীবন খান।

সবুজ শ্যামল বাংলা মা আমাকে সদায় ডাকে
আমার মায়ের অপূর্ব রূপ আজও মনে জাগে।

ভাল্লাগেনা কিছুই

রোদ বৃষ্টি বজ্র বয়ে যায় দমকা হাওয়া
কিছুই তুলে না ঝড় আমার মনে আর
ফুল ফুটবে সুবাস মাখব গায় এমন চাওয়া
বাসা বাঁধেনা কভু হৃদয়ে আমার।

আকাশে কী সুন্দর তারার মালা খানি
জোসনায় ভেসে যাওয়া রাতের নির্জন প্রহর
ভাল্লাগেনা কিছু, স্রোতহীন নদীর পানি
প্লাবিত করেনা আর জেগে ওঠা চর।

দুপুর বেলা ঝিঁঝি পোকার একটানা গান
ভোর বেলা পাখির গাওয়া মিষ্টি মধুর সুর
আমার ভাঙ্গেনা ঘুম, আজ লাগে বেমানান
শুনতে পাইনা আহ্বান যেনো দূর বহু দূর।

আমার মন বসেনা সবুজ বনের ছায়ায়
স্বপ্ন ভালোবাসা কোথায় হারিয়ে যায়।

গ্রাম বাংলার চাষি

রোদ জোসনা সবুজ বনোভূমি ঐ নীলাকাশ
ফুলের বাগান, বাতাসে ছড়ায় ফুলের সুবাস
এখানে ভোরের রোদে শিশির করে টলমল
হাওয়ায় দোলে গাছের ছায়া, মাঠেরও ফসল
দূর আকাশে মেঘ হাসে, ভাসে বৃষ্টির জলে
বৃষ্টির পরে রামধণু রঙ আকাশ পারে খেলে।

গাঁয়ের কিশোর খেলা করতে মাঠে ছুটে যায়
ওইখানে সকাল বিকাল পাখিরাও গান গায়
পাহাড় হতে ঝর্না ধারা বয় যে অবিরল
গোলা থাকত ধানে ভরা,মনে খুশির ঢল
ভালোবাসায় পূর্ণ ছিল চাষির কুড়ে ঘর
বারো মাসে তেরো পার্বন আনন্দে মুখর।

কোথায় হারাল আজ চাষির খুশি মাখা দিন
অতি বৃষ্টি অনা বৃষ্টি তাদের যে দূর্দিন
জোতদারেরই প্রবঞ্চনা নাকি রাহুর গ্রাস
কে যেন আজ করল চাষির এমন সর্বনাশ
চাষির মুখ বড়ো মলিন, নেই যে মুখে হাসি
স্বপ্ন বুনে আজও তারা বাংলা ভালোবাসি।

বিজয় দিবস

সে যে ছিল কত আনন্দের, বড়ো অপূর্ব বিস্ময়
দামাল ছেলেরা ছিনিয়ে এনেছিল বাংলার বিজয়।

অসম্ভবকেই করেছিল সম্ভব মাত্র নয় মাসে
জীবন দিয়েছিল তারা এই বাংলাকে ভালবেসে
আঙ্গিনায় আজ দোলে সবুজ কিশলয় মুক্ত বাতাসে
বাংলার আপামর জনতা আজ তাই আনন্দেতে হাসে।

মা বোন জলাঞ্জলী দিয়েছিল তাদের যতো সৌরভ
তাদের ত্যাগে আমরা পেয়েছি ফিরে এই মুক্তির গৌরব।

তাদের জন্যে কৃতজ্ঞতার উষ্ণতায় ভিজে এই হৃদয়
প্রার্থনা করি, তারা সবাই যেন, স্বর্গ সুখে রয়।

স্মৃতির সরোবরে

সন্ধ্যার পায়ে পায়ে তুমি এসেছিলে
অহেতুক এটা সেটা কতক্ষন নেড়েছিলে
অতঃপর গেলে চলে।
রেখে গেলে কিছু মৌন সময়,অনেক যন্ত্রণা
কিছুই কি তোমার বলার ছিলনা?

সেদিনের রেখে যাওয়া ফুলের সৌরভে
অলিন্দে বয় উষ্ণ স্রোত ভালোবাসার গৌরবে।

আবার ও সন্ধ্যা হয় রাত আসে
স্মৃতির সরোবরে।

আমার সাধ ছিল

বড়ো সাধ ছিল মনে দেখতে যদি পাই জীবনে
স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টি
বিধাতার অসীম দান ভালোবাসারই অনুদান
দুই চোখের দৃষ্টি।

সাধ ছিল এই জীবনের
দেখতে যাব আইফেল ঠাওয়ার
সু দূর প্যরিসের।
কি নিপুন দক্ষতায় করেছে অসামান্য এই নির্মাণ
মহা প্রকৌশলী আইফেলের অনুপম শৈলী
আজ ও রয়েছে বড়ো অম্লান
এই টাওয়ার হতে রাত বিরাতে
সুন্দরী প্যরিসের রূপ লাবন্যে মুগ্ধ হয় কত পর্যটক
আইফেল টাওয়ার অতন্দ্রপ্রহরী এক
প্যারিস মাধূর্যের বিশ্বাসী রক্ষক।

নায়াগ্রার জল প্রপাত
সীমাহীন সৌন্দর্যের এক রাঙ্গা প্রভাত
ঝরে যাওয়া জলের ধারা
চারদিকে কেমন অসংখ্য মুক্তা ছড়ায়
রংধনুর সব কটি রং যেন
আকাশ জুড়ে ঘুরে বেড়ায়।

আমার মনে ছিল আরও বহু দিনের সাধ
দেখতে যাব দূর আকাশে পূর্ণিমারই চাঁদ।

কবির সাথে যোগাযোগ : mdroyesali4321@gmail.com

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!