মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ের গেটম্যান ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঘুমে, গেট আটকালো দুই কলেজ ছাত্র



কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে রাত ১১টার দিকে দায়িত্বরত গেটম্যান ঘুমাচ্ছিলেন। আর গেট আটকিয়েছে দুই কলেজ ছাত্র। সিলেট-আখাউড়া রেলপথের ভানুগাছ স্টেশনের নিকটবর্তী। এ রেল পথের ৮৪ নং গেট এলাকা কমলগঞ্জ পৌরসভাধীন বড়গাছ এবং গোপালনগর নামক স্থানের। গেটম্যান গত ১০মে রোজ শুক্রবার ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত তখন মাত্র এগারোটা বিশ মিনিট বাজে। তখন সিলেট থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর উদয়ন ট্রেনটি এ এলাকা ত্যাগ করছিল। ঠিক সেই সময় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র আহমেদ রেজা (২০) ও শমশেরনগরের বিএএফ, শাহীন কলেজের ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র উপজেলার ঠাকুর বাজার এলাকার আরিয়ান সাগর (১৮) প্রায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এ দু’জন রেলপথের গেট কিপার ফেলে গেট আটকান।

এ সময় মৌলভীবাজার টু আদমপুর সিএন্ড বি, সড়কে বেশ কয়েকটি গাড়ি নিছক দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায়। এবং মৌলভীবাজার ও আদমপুর থেকে আসা এ সড়ক পথের সচেতন যাত্রীগণ যার যার মোবাইলে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ঘুমানোর এ দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে আপলোড দিলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

এদিকে, স্থানীয় দুজন সংবাদকর্মী এটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হবে বলে ভয় দেখিয়ে ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দু’দফায় মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করেছেন এমন খবরও বাতাসে ভাসছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আন্তঃনগর উদয়ন ট্রেনটি এ স্থান অতিক্রম করার পরে যাত্রী এবং সড়ক পথের লোকজন গেট ঘরে গিয়ে হৈহুল্লুড়-চিৎকার করলেও ডিউটিরত গেটম্যান গভীর ঘুমে মগ্ন থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা, সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা দায়িত্বরত গেটম্যান রায়হান আহমেদ (২৫) আলাপকালে বলেন, এই সময়ে তিনি তারাবির নামাজে ছিলেন, রাত ১১ টা ২০ মিনিটে ডিউটি ফাঁকি দিয়ে কোন মসজিদে নামাজে ছিলেন এমন কথার উত্তরে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। স্থানীয়রা আরো জানায়, এরকম আরো দুদিন দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচেছে এ রেল গেটটি।

তাছাড়া গত কিছুদিন আগে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার শাহাবুদ্দিন ফকিরের ইয়াবা সেবনের ছবি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও ভাইরাল হয়েছে। তাই তিনি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর থেকে নিরাপদ রাখার জন্য আত্মগোপনে চলে যান এবং এখনও কর্মস্থলে ফেরেননি। স্থানীয়রা মনে করছেন ঘটনায় অভিযুক্ত লোকটিও হয়তো নেশায় আসক্ত। এমনকি  উক্ত স্থানে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা ও লক্ষ্য করছেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য রেলওয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এলাকার জনপ্রতিনিধি গণ।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!