সোমবার, ২৭ জুন ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বন্যায় জনদুর্ভোগ চরমে: ওসমানী বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ



অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে ভয়ঙ্কর বন্যা দেখা দিয়েছে সিলেট। বিগত ১৬ই মে অকাল বন্যায় ডুবে গিয়েছিল সিলেট। ফের গত ১৬ই জুন থেকে ভয়ঙ্কর বন্যা কবলিত হয়ে বানবাসী মানুষজন দিশেহারা। ইতোমধ্যে  বন্যার পানি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওযয়েতে চলে এসেছে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশ ও বিদেশের সবধরনের বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী তিন দিন ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কৃর্তপক্ষ।

শুক্রবার (১৭ জুন) দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বন্যার পানি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের চলে এসেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিদিনের মতোই আমাদের ফ্লাইটগুলো বিমানবন্দরে অবতরণ ও বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছে। কিন্তু রানওয়েতে বন্যার পানি চলে আসায় এখন থেকে আর কোনো ফ্লাইটের অবতরণ কিংবা উড্ডয়ন সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে পানিবন্দি হয়ে লাখ লাখ মানুষ কর্মহীন গৃহবন্দি হয়ে অর্ধাহার- অনাহারে জীবন যাপন করছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলাগুলে হলো- কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট। এছাড়াও বিশ্বনাথ, সিলেট সদর, বালাগঞ্জ, ওসমানী নগরে অধিকাংশ এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

জানাগেছে, সিলেট শহরের বঙ্গবীর রোড, চান্নিঘাট, কাজির বাজার, তালতলা, কালীঘাট, মেন্দিবাগ, উপশহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে। যারফলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য মতে, কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার, সিলেটে ১৩ সেন্টিমিটার, জৈন্তাপুরের সারির পানি ৩২ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেটে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।পাশাপাশি উজানের ভারতের মেঘালয় এবং আসামের বিস্তীর্ণ এলাকায় বারি বর্ষন অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি আশঙ্কা রয়েছে।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!